সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬

বঙ্গমাতা কবিতায় রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর বলেছেন যে,


সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী
 রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি।


 কথা তা শুনতে খারাপ হলেও মিথ্যা নয় বৈকি।
 এখন কিছু কথা বলা যাক ,

নারীদের অধিকার নিয়ে , ইংরেজরা নারীদের সমান অধিকারের পক্ষে থেকে আজকাল নারীদের অধিকার নিয়ে অনেক বড়ো বড়ো বুলি ছুড়ে।  আর আমাদের দেশের কিছু জ্ঞান পাপী তাদের কথাকে পবিত্র জ্ঞান করে.

 সত্যি বলতে শিয়াল যেমন চায় মুরগির  স্বাধীনতা ঠিক তেমন কিছু মানুষ ও চায় নারীর স্বাধীনতা।

 ইংরেজদের ভিতরে  নারীদের কে কতটা আলাদা করে রেখেছে তা কিন্তু দেখে না কোনো জ্ঞান পাপী সুশীল সমাজের নেতারা।
যেমন ইংরেজ রা নারীদের বেলায় বেবহার করে (she )যেখানে পুরুষের জন্য বেবহার করে (he ) .
তারা তাদের প্রতিটা ক্ষেত্রে জানিয়ে দেয় যে আমরা পুরুষ তাই আমাদের জন্য he  ও তোমরা নারীদের জন্য she  .
এমন অনেক বিষয় আছে।
কিন্তু আমাদের বাঙালি সমাজে নারীদের প্রতি এমন কোনো ভেদভাও নেই , নারীদের জন্য সে বা তিনি পুরুষের জন্য ও সে বা তিনি।  অথচ ইংরেজরাই বলে যে আমরা নাকি
নারীদের প্রতি অবহেলা ও সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করছি।

   এখন কথা হল কিছু কিছু বিষয় কিন্তু আমাদের সুশীল সমাজ ইংরেজদের কে পিছনে ফেলে এসেছে।

কারন ইংরেজরা পুরুষ দেড় বেলায় hero বা নায়ক ও নারীদের বেলায় heroin বা নায়িকা বেবহার করে।

কিন্তু আমাদের আওয়ামীলীগের এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক তার এক প্রবন্ধে বেবহার করেছেন নায়ক শব্দ শেখ হাসিনার জন্য( ফটো যে দেখুন )

আমার মনে হয় সকল আওয়ামীলীগ নেতা হাসিনার সামনে নিজেদের কে হিজড়া ও হাসিনাকে পুরুষ মনে করে চলতে শুরু করেছেন নয়তো হাসিনা পৌরষত্ব অর্জন করেছেন।  তাই হয়তো আওয়ামীলীগের এমপি মন্ত্রীরা হাসিনার নামের সাথে নায়িকা নয় বরং নায়ক বেবহার করতে শুরু করেছেন।


এমন জাতির ধ্বংস অনিবার্য যারা নারীদের আঁচলের তলে থাকতে পছন্দ করে।

সোহেল রানা

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১৬

মজলিসে গাজালী ;----
একদিন  এক দরবেশ আমাকে বলিলেন আমি এক নাগাড়ে ৪০ বৎসর সাধনা করিয়া আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে  ডুবিয়া রহিয়াছি / কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে এমন কোনো নূর বা উন্নতি দেখিতে পারি নাই যাহা ৪ টি বিষয় অবলম্বন করিয়া দেখিতে পাইয়াছি       /    তা হল ;-- কম খাওয়া , কম কথা বলা , কম নিদ্রা যাওয়া ও লোকের সাথে কম মেলা মেশা করা /    এই নিয়ম মুখ্য ব্রত হিসাবে গ্রহণ করার পর আমি আকাশের দিকে তাকাইলে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত দেখিতে পাই / ইহাতে আমার দৃষ্টিতে কিছুইঅন্তরায় হইয়া দাঁড়ায় না / আর যখন মাটি দিকে দেখি তখন সপ্তম জমিনের কোনো কিছুই গোপন থাকে না আমার কাছে /




প্রকৃতপক্ষে দরবেশ তো তাহারাই যাহারা কথা বলা কম করিয়া দিয়েছেনও বোবায় পরিণত হইয়াছেন।  লতা পাতা চিবাইয়া জীবন ধারণ করেন।  এবং লোক সমাগমকে কোলাহল তুল্লো  মনে করেন।  এই গুণাবলী অর্জন করার পরই  আল্লাহর আল্লাহর সান্নিদ্ধ লাভের মর্তবায় উপনীত হয় যায়।


মজলিসে গাজালিতে ইমাম গাজালী (রহঃ) বলরন যে , জালেমদের হাত থেকে রক্ষা করিয়া যখন ঈসা  (আঃ ) কে চতুর্থ আসমানে নেয়া হল , তখন আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিলেন তাকে এখানেই রাখো।  কেননা এখন ও তাহার  নিকট পার্থিব সুখ -সম্পদের বস্তু রহিয়াছে।

 হজরত ঈসা (আঃ ) এই বাণী শুনে বিস্মিত হলেন ,এবিং লক্ষ করিতে লাগিলেন যে পার্থিব সুখ-সম্পদের কোন বস্তু ওনার নিকট অবশিষ্ট  আছে। তখন দেখিতে পাইলেন একটা সুই ও এক পেয়ালা চর্বি  রহিয়াছে (আমি সোহেল সোহেল রানা অন্য বর্ননায় পড়েছিলাম গোসলের সময় শরীরে  যে লোটা  থাকে তা হজরত ঈসা (আঃ ) এর সাথে ছিল ). //// তখন ঈসা (আ) বললেন হে পরওয়ারদেগার , এখন আমি ইহা  কি কৰিব।

তখন এরশাদ হইল , তুমি তোমার পায়ে কুঠারাঘাত করেছো।  তুমি কি উহা পৃথিবীতে ফেলিয়া আসিতে পারো নাই? সুতরাং সেখানেই অবস্থান কর , আর সামনে অগ্রসর হইতে পারিবে না।
রেফারেন্স ( মজলিসে গাজালী , ইমাম গাজালী রহঃ , পৃষ্টা নং ৯-১০ )

এখন মূল কথা হল আমার ভাই, আমাদের আলেমরা বক্তব্য যেই ধরে ছাড়ার নাম তখন নেয় যখন দুই  দাঁতের চোঁয়ালের মারামারিতে দাঁতের বেথা শুরু যখন ।  আগে থেকেই কন্টাক হয় আমি গেলে ২ ঘন্টা বক্তব্য দেয়ার সময়  দিতে হবে।  এমন ও মৌলভী আছে যারা প্রধান অতিথি না বানালে মাহফিলের দাওয়াত কবুল ও করবে না  যাবে ও না।  এসি কার আরো সেই রকম বেবস্থা থাকা লাগবে ।  হুজুরের খাবারের কথা কি বলবো বাবা।  সেটা পেট বললেও চলে  হায়  হায়  বললেও চলে।  সালামি বা নাজরানা বা বক্তব্যের মূল্য বা ভিজিটের  কথা তো সবারই জানা আছে। এমন যদি হয় আলেম তারা সারাজীবন মানুষকে ইসলামের দিকে ডাকলেও একজন কে ইসলামের মূল ধারায় পরিচালিত করযে  পারবেন  না।

আল্লামা সোহায়েল তসতরী (রহঃ )  কে কিছু মানুষ জিজ্ঞেস করল হজরত আপনি  বক্তব্য রাখেন না কেন কোথাও ?

আল্লামা সোহায়েল তাসতরী (রহঃ ) বলেন যে আমি নিজে দুনিয়া থেকে নিজেকে আলাদা করতে পাই নাই , তো আমি কি করে অন্যকে ডাকতে পারি ? কি করে অন্যের সামনে বক্তব্য রাখতে পারি ?

আর যাদের ভুরি দেখলে মনে হয় মহিশের ভুরি তারা করে ওয়াজ !

নিজেকে আগে দুনিয়া থেকে আলাদা করে এর পরে অন্যদের কে ইসলামের দিকে ডাক দেয়া উচিত

সোহেল রানা


বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৬

তাবলিগ জামাত নিয়ে ২৪ টা প্রশ্ন

আশরাফুল আলম রনি নামে একজন দেওবন্দি কমেন্ট করেছে দেখে নিন আগে (

ইসলামের জ্ঞানে জ্ঞানী আলেম , পীর মাসায়েখ , সুফী সাধকরায় তবলিগ করবে সেটা কি আল্লাহ কোরআনে বলেছেন ? দাওয়াত ও তবলীগের কাজ সকল মুসলিমের উপর ফরজ । বর্তমান সূরা ইয়াসিনের উক্ত আয়াতের বানি অনুযায়ি বর্তমান ইলিয়াস রহঃ এর পদ্ধতিতে প্রচারিত তবলিগ দল এক মাত্র হক দার । তারা কোন দিনও কারো কাছে দুনিয়াবি কিছু চেয়েছে ? পারলে তাদের মত কাউকে দেখান । সুফীবাদের আসল রুপ

আমি অনার  এই কমেন্ট এর জবাবে বলেছিলাম যে , আমি আপনার এই কমেন্টের লিখিত জবাব দিতে তাই । আপনি কি পাল্টা জবাব দিবেন ? 

তিনি বেস্ততা দেখালে আমি অনাকে ১৫ দিন সময় দেই। ও আশা প্রকাশ করি যে আমাদের লিখনি সুন্নি দেওবন্দি বিভেদ কে ঐক্য পরিনত করবে । তিনি আমার শর্তে রাজী হয়ে আল্লাহর মদদ আশা করেন । ( আল্লাহ তাকে সহায়তা করুন ) 

মুল কথা ;- 

আমার দাবি তাবলিগের কাজ  হল ইসলামের জ্ঞানে জ্ঞানী আলেম ওলামা  পীর মাসায়েখ সুফি সাধকরা তাবলিগের কাজ করবে । 

যারা মুর্খ তারা করবে না তাবলিগের কাজ । 

জবাবে তিনি বলেছিলেন যে ;- 

ইসলামের জ্ঞানে জ্ঞানী আলেম , পীর মাসায়েখ , সুফী সাধকরায় তবলিগ করবে সেটা কি আল্লাহ কোরআনে বলেছেন ? দাওয়াত ও তবলীগের কাজ সকল মুসলিমের উপর ফরজ । বর্তমান সূরা ইয়াসিনের উক্ত আয়াতের বানি অনুযায়ি বর্তমান ইলিয়াস রহঃ এর পদ্ধতিতে প্রচারিত তবলিগ দল এক মাত্র হক দার । তারা কোন দিনও কারো কাছে দুনিয়াবি কিছু চেয়েছে ? পারলে তাদের মত কাউকে দেখান । সুফীবাদের আসল রুপ


এখন দলিল নিন ;- 

মাওলানা ইলিয়াছ সাহেব তার মালফুজাত নং ৫০ এ বলেছেন নিজের তৈরি তাবলিগ জামাত সম্পর্কে কোরানের বানী ( তোমরাই শ্রেষ্ট উম্মত , যাহাদিগকে মানুষের উপকারের জন্য বাহির করা হইয়াছে , তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর ও অসৎ কাজের নিষেধ কর ও আল্লাহ পাকের উপর ঈমান আন । 

মালফুজাত নং ৫০ ।



তিনি উপরোক্ত  মালফুজাত এ আরো বলেছেন যে ;- এই আয়াতের তাফসীর ও খাবে এই রুপ এলকা হইয়াছে যে , তোমরা নবীদের মত মানুষের উপকারের জন্য প্রেরিত হইয়াছ (মালফুজাত নং ৫০) 







এরুপ আপনারা আরো কয়েকটা আয়াত দলিল দিয়ে থাকে দেওবন্দি তাবলিগিগন  । যেমন সুরা ইমরান এর ১০৪ নং আয়াত । 



সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ করতে হবে আমাদের সকল কে । এটাই চরম সত্য কথা । কিন্তু সকলের একটা সীমা আছে । আমি আমার আলু ওজন করার দাড়ী পাল্লা দিয়ে যেমন পাহাড় ওজন করতে পারব না , বরং পাহাড় মাপতে গিয়ে নিজের আলু ওজনের দাড়ীপাল্লা নষ্ট হবে , তেমনি প্রতিটি বিষয় । 



জাকির নায়েক যেমন ডাক্তারি ছেড়ে দিয়ে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে দিনের পরে দিন ফেতনা তৈরি করতেছে , ঠিক তেমনি যদি সারা জীবন খেটে খাওয়া মানুষ আসে কোরান ও হাদীস ফেকাহ নিয়ে কথা বলতে , তবে হয়ত একদিন ফতোয়া দিয়ে বসবে জমিনে কিটনাশক ব্যবহার করা হারাম । কারন তাতে কিট মরে । 



উল্লেখ্য যে সুরা ইমরান আয়াত নং ১০৪ এ আল্লাহ তায়ালা বলেন ;- 


 “অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে একদল এমন হওয়া উচিৎ যারা কল্যাণ বা ইসলামের দিকে লোকদেরকে আহ্বান করবে, সৎ কাজের নির্দেশ দিবে এবং মন্দ কাজে নিষেধ করবে। আর তারাই হচ্ছে কামিয়াব বা সফলকাম।” (সুরা আলে ইমরান-১০৪)
উপরোক্ত আয়াতেও তোমাদের মধ্যে একদল লোক’ এই কয়টি শব্দ দ্বারা ইহাই পরিষ্কারভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, দাওয়াত বা তাবলীগ করার নির্দেশ সমস্ত মুসলমানদের উপর নয় বরং মুসলমানদের মধ্যে একদল অর্থাৎ আলেম সম্প্রদায়ের উপর ফরজ করা হয়েছে। এই আয়াতে নির্দেশিত তাবলীগ ইসলামের প্রথম যুগ হতে অদ্যাবধি ওলামায়ে কেরামগণ ও ওলি আল্লাহগণ এবং হাক্কানী পীর মাশায়েখগণ করে আসছেন এবং করবেন এই ধরার বুকে যতদিন মানুষের আবির্ভাব ঘটবে।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে বায়জাভী’তে বলা হয়েছে-“ আয়াতে مِنْكُمْ(মিনকুম) এর ﻤﻥ ‘মিন’ শব্দটি কতক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা সৎ কাজের নির্দেশ দান করা ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা কিছু সংখ্যক লোকের উপর ফরজ, যাকে ফরজে কেফায়া বলে। কারণ এ কাজ সম্পাদনের জন্য যে শর্তাবলী রয়েছে, যেমন- শরিয়তের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া, এলমে মারেফত সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, আহকাম বা বিধি-নিষেধের তাৎপর্য এবং এগুলি প্রয়োগ ও প্রতিষ্ঠা বা বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্বন্ধে অবগত হওয়া ইত্যাদি। অথচ এ সমস্ত শর্ত সকলের মধ্যে পাওয়া যায় না।”
আল্লামা আবু আবদিয়াহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আনসারী (রহ.) তদ্বীয় ‘কুরতুবী শরীফ’ এর জুজে বাবে ১৬২ পৃষ্ঠায় উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
“আয়াতে উল্লেখিত مِنْكُمْ (মিনকুম) এর ﻤﻥ‘মিন’ শব্দটি ‘তাবঈজ’ বা কতক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এর মর্মাথ হলো-নিশ্চয়ই উল্লেখিত বিষয়সমূহ (কল্যাণের দিকে আহবান, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ) উলামায়ে কেরামের উপর ওয়াজিব কেননা প্রত্যেক লোক আলেম নহে। কারণ নেক কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ ফরজে কেফায়া।
এতে সহজেই বুঝাযায় যে, তাবলীগ ফরজে কেফায়া। যেমন- জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া। অর্থাৎ কিছু সংখ্যক লোক আদায় করলে সকলের আদায় হয়ে যায়। তেমনিভাবে তাবলীগও ফরজে কেফায়া। কিছু সংখ্যক লোক তথা ওলামায়ে কেরামগণ ও ওলি আল্লাহগণ এবং হাক্কানী পীর মাশায়েখগণ আদায় করলে সকলের আদায় হবে যাবে।
তাফসীরে জালালাইন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, “উক্ত আয়াতের ﻤﻥ ‘মিন’ শব্দটি দ্বারা কিছু সংখ্যক লোককে বুঝানো হয়েছে, কেননা তাবলীগে দ্বীন সম্পাদন করা ফরজে কেফায়া অর্থাৎ কিছু সংখ্যক লোকের উপর ফরজ। এ নির্দেশ সকল উম্মতের প্রতি নয়। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি এ কাজের যোগ্য নয়। যেমন-জাহিল বা মূর্খ ব্যক্তি।”

আপনাদের জন্য স্বনামধন্য কিতাব তাফসীর ইবনে কাছির এর ৪থা খন্ডে ১৩৬ নং পেজে উক্ত আঁয়াতের  তাফসীর করতে গিয়ে লিখেছেন যে ;- হযরত যাহহাক (র) বলেন যে ;- উক্ত আয়াতের অর্থ হচ্ছে বিশিষ্ট সাহাবা ও হাদীসের বর্ননা কারী ।অর্থাৎ মুজাহীদ ও আলেমগণ ।  

তো উপরের বর্ননা গুলো যে কোন তাফসীর কিতাব থেকে মিলিয়ে নিবেন দয়া করে । 
সকল তাফসীরে উক্ত আয়াতের ব্যাখা বা তাফসীর একই  বলা হয়েছে । 

তো এখান থেকে পরিষ্কার যে , তাবলিগের কাজ কোন মুর্খ জন সাধারনদের জন্য নয় । 

বরং এটা একটা দলের কথা বলেছে । সবাই চাইলে সেই দলে যেতে পারেন না । 

যুদ্ধ করতে হলে আগে ট্রেনিং থাকতে হবে । 
ডাক্তারি করতে গেলে মেডিকেলে পড়তে হবে । 
এমন কি জমিতে ফসল ফলাতে হলে কৃষানের সাথে মাঠে দীর্ঘ দিনের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান থাকতে হবে । 


অথচ তাবলিগ করবে ইসলামের আর ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না তা কি করে হয় ? 

উপরোক্ত আয়াত ও তাফসীর থেকে এটা দিনের মতই পরিষ্কার যে , মাওলানা ইলিয়াচ সাহেব স্বীয় ৫০ নং মালফুজাত এ যে আয়াতে পাকের বর্ননা দিয়েছেন ও নিজের তৈরি তাবলিগ জামাত কে সম্পৃক্ত করেছেন তা নিতান্তই ভুল  ছিল । আর আবসোস যে দেওবন্দি জামাত অন্ধের মত তা বিস্বাস করে নিয়েছে । 


আর আপনি যে ব্যাখা দিয়েছেন তাবলিগের কাজ সকল মুসলিমদের উপরে ফরজ তা আপনার মত একজন শিক্ষিত লোক মুর্খদের মত কি করে এমন কথা বললো তা চিন্তা করতেছি এখন । 

যদি কোন কোরানের আয়াত থাকে সকল মুসলমানদের উপরে ফরজ হয়েছে তাবলিগের কাজ , কোন নির্ভরযোগ্য তাফসীর থেকে যদি তুলে ধরতে পারেন তা হলে অবশ্যই কবুল করব বলে ওয়াদা করলাম আমি । 

আর হা , আপনাদের দেওবন্দিদের কোন তাফসীর তুলে ধরবেন না দয়া করে। আর আমি নিজে ও কোন আমাদের সুন্নি আলেমের কিতাবের রেফারেন্স তুলে ধরতেছি না। কারন না আমি আপনাদের কথা গ্রহন করব না আপনি আমার কথা।  বরং নিরপেক্ষ পুর্বরতিদের কথা থেকে তুলে ধরুন । 


উপরের সকল আলোচনা থেকে আপনাকে প্রমান করতে হবে হাদীস কোরান বা কোন নির্ভরযোগ্য তাফসীর ও ফেকাহ থেকে এমন কি নির্ভরযোগ্য পুর্বরতি আলেমের বক্তব্য থেকে যে ;- 

(১) মাওলানা ইলিয়াছ সাহেবের ৫০ নং মালফুজাত এ যে আয়াতের ব্যাখা দিয়ে তার তৈরি তাবলিগ জামাত কে উল্লেখিত আল্লাহর মনোনীত দল বলে সম্বোধন করেছেন , তার নির্ভর যোগ্য দলিল  । 

(২) তাবলীগ আলেম ওলামা পীর মাশায়েখ সুফি সাধকের জন্য নয় , বরং সকল মুসলমানের জন্য ফরজ ।

উপরের সকল আলোচনা থেকে আপনার কাছে ২ টা প্রশ্ন শুধু থাকল ।


পরের আলোচনা ;--

বেদাতি তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াছ মেওয়াতি এর (মালফুজাত এ মাওলানা ইলিয়াছ ) এর ৪২ নং মালফুজাত এ বলেছেন যে ;-  মুসলমান হচ্ছে দুই প্রকার , তৃতীয় কোন প্রকার নাই।  (১) যারা আল্লাহর রাস্তায় (তাবলীগের) বাহির হইবে।  (২) যারা তাদের সহায়তা করবে। 
তিনি বললেন , খুব ভাল বুঝিয়াছেন । অতপর বলছিলেন , লোককে বাহীর হইবার জন্য তৈরি করাও সাহায্যর মধ্য শামীল। তাহাদের কে বলিবে , তোমরা বাহীর হইলে অমুক আলেমের কোরান শরীফ ও অমুক আলেমের বুখারি শরিফে শিক্ষাদানে কোন ব্যাঘাত হবে না । তাবা হলে তোমরা ও উহাদের পড়ানোর সওয়াব। পাইবে । এই প্রকারের নিয়তের কথা বস্তা লোকদের সওয়াবের রাস্তা দেখানো উচিত

 মালফুজাত নং ৪২ 

৪২ নং মালফুজাত পুরা তুলে ধরলাম।  কারন হয়ত পরে বলবেন যে , আমি কেটে ছেঁটে তুলে ধরেছি । 

উপরের মাওলানা ইলিয়াছ এর বক্তব্য থেকে এটা পরিস্কার যে ;- তার মতে যারা তাবলিগে যাবে তারা এক মুসলমান , 
আর যারা তাহাদের কে সহায়তা করবে তারা আর এক মুসলমান । অন্যথা কোন মুসলমান নাই । এটা পরিষ্কার দিনের মতই।  

উক্ত মালফুজাত থেকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই ।
প্রশ্ন নং (৩) 
মুসলমান দুই প্রকার ভিন্ন তৃতীয় প্রকার মুসলমান যদি না থেকে থাকে , তা হলে মাওলানা ইলিয়াচ সাহেবের তৈরি তাবলীগ জামাতের আগে কি ভারতবর্ষ ও দুনিয়ার বুকে  মুসলমান ছিল না ? 

প্রশ্ন নং (৪) 
যদি মুসলমান না থেকে থাকে তা হলে কারা এই কথিত তাবলীগ তৈরি করল ? ইহুদি ? নাকি খৃষ্টান ? 

(৫)  আর মাওলানা ইলিয়াছ সাহেবের সম্মনিত পিতা ও বড় ভাই যিনি গাংগুহী সাহেবের শিষ্য ছিলেন , রশীদ আহমেদ গাংগুহী , কাশেম নানুতভী  এই সকল প্রমুখ আলেমগণ মাওলানা ইলিয়াচ সাহেব তৈরি তাবলিগে যেতে পারেন নাই ও সহায়তা ও করতে পারেন নাই । এমন কি আপনাদের পীরদের পীর হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজের এ মক্কি (রহ) ও পারেন নাই মাওলানা ইলিয়াছ এর তৈরি তাবলিগে যেতে বা সাহায্য করতে । 

এমন কি সাহাবা কেরাম তাবা তাবেয়ীগন ও পারেন নাই মাওলানা ইলিয়াছ সাহেবের তাবলিগে  যেতে বা সাহায্য করতে । তারা কি সবাই অমুসলিম ছিলেন ?
 তারা কি মুসলমান ছিলেন না ? 



যে মেওয়াত থেকে , বা কারা এই তাবলীগ জামাত তৈরি করল , তা একটু দেখে নেয়া যাক আপনাদের কিতাব থেকে । 

আবুল হাসাল আলী নদভী লিখেছেন যে ;- 

 তাদের মুর্খতা ও ধর্ম বিশাস এতটাই নিচে নিচু স্তর এর ছিল যে ১৮৭৮ এর একজন ইংরেজ ভূমি প্রসাশন অফিসার বর্ণনা করেছেন যে মেও জনগোষ্টি মেয়াতি মুসলমান  হলেও তা সুধু নাম মাত্র। হিন্দু জমিদারের উপাস্য দেবতাই মেওয়াত এর মুসলমানদের দেবতা। সবে বরাত,ঈদ , ও মহররম এর চেয়ে হাসি খেলার গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। হিন্দুদের পূজা, হলি, জন্মাষ্টমী , দসহারা ইত্যাদি বেশ কিছু হিন্দু পরব মেওয়াত এর মুসলমান রা পালন করে থাকে। বিয়ে সাদী (শুভক্ষণ ) এ ব্রাক্ষণ পুরোহিত কে ডেকে নির্ধারণ করা হয়। রাম ছাড়া সব হিন্দুদের নাম তারা নামের সাথে গ্রহণ করে। তাদের নামের সাথে শেখ, সাইয়েদ , খান,  হক না থাকলে ও শিং এর বহুত বেবহার দেখা যায়। (মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত ) পৃষ্টা ৭২-৭৩ 



হিন্দুদের মতই মেওয়াত এর মুসলিম রা কাজকর্ম বন্ধ রেখে অমাবস্যা ও কৃষ্ণপক্ষ পালন করে। নতুন কুপ খনন এর আগে হনুমানের নাম চাবুতালা তৈরী করে নেয়। তবে লুটতরাজ এর বেলায় মন্দির ভিত্তিক বিশেষ কোনো ছার পায় না। বরং মন্দিরের পবিত্রতা কেউ বোঝাতে গেলে সোজা বলে দেয়:-

( তোমরা তো হলে দেও- আর আমরা হলাম মেও) পৃষ্টা ৭৩) 



ধর্মীয় জ্ঞান এ এরা এতটাই অজ্ঞ যে ২-১ জন কালেমা জানলে ও নামাজি তাও নেই। ইল্লোরের কাছে একটা মসজিদ ও মাদ্রাসা থাকায় তারা একটু আগ্রহ দেখাত ও নামাজি ও দেখা যেত। তাদের বিয়ের দিন খন পুরোহিত ঠিক করলে ও মূল পর্ব হত কাজী সাহেব কে দিয়ে। পাজামার চল নেই। ধুতি পরত সবাই। সোনার গহনা পরত সবাই। মূলত তারা হিন্দুদের অনুগামী ছিল। ( মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত ) পৃষ্টা ৭৩ 



তো জনাব আশরাফুল আলম রনি @ এই হচ্ছে মেওয়াত জনগোষ্টির নমুনা । এমন মুসলিম সমাজ থেকে আমাদের জন্য এই তাবলীগ এসেছে । যারা নিজেকে আধা হিন্দু , তারা আজ মসজিদে এসে হাত ধরে বলে বাবা কালেমা পড় । 

আমার হাত ধরেও কেউ কালেমা পড়তে বলেছিল । তখন বলেছিলাম আমি জন্ম নিয়েছি মুসলিম হয়ে। হিন্দুর ঘরে নয়। আমার জন্মের পরে কানে আজান দেওয়া হয়েছে , নতুন করে মুসলিম হতে হতে মা। শুধু আহকাম অনুসরন করলেই হবে। বরং হিন্দুদের কাছে যান কালেমা পাঠা করাতে । 

বেচারার মুখ তখন এমন হয়েছিল যে , মনে হয় দিন দুপুরে হিমালয়ে ধাক্কা খেল । 



তো এখন প্রশ্ন  হল যে ,

(৬) 

যদি এমন সমাজের এমন আদা হিন্দু দিয়ে কেউ তাবলীগ করাতে চায় , যা আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদির আলেম সমাজের জন্য নির্ধারিত করেছেন , তবে তাদের কে দিয়ে কি দ্বীনের খেদমত হবে  ? নাকি বেদাত ও মুশরিকের ফতোয়া মারা হবে   ? 



প্রশ্ন নং (৭)  

হাদিসে আছে বনী ইস্রালের নবীদের ন্যায় আমার উম্মতের আলেম । যাদের কে আল্লাহ তায়ালা তাবলিগের জন্য মনোনীত করেছেন । এই আপনাদের মুর্খ তাবলিগি গুলো কি বলা ইস্রাইলের নবীদের ন্যায় ? 



এর পর সাইয়েদ আবাল হাসান আলী নাদ্ভির লেখা কিতাব (মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত ) এর ১১৪ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে মাওলানা ইলিয়াছ মিয়া কিছু লোক সাহারানপুর ,রায়পুর,থানা ভবন এ পাঠাতে চাইলেন ও তাদের প্রতি মাওলানা ইলিয়াছের নির্দেশনা ছিল যে বুজুর্গদের সামনে তাবলিগ প্রসঙ্গ উক্খাপন করবে না। বুজুর্গ গণ কিছু জিজ্ঞাসা করলে জবাব দিবে। নিজে থেকে কছুই বলতে যাবে না। (মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত পৃষ্টা ১১৪-১১৫ ) 



উপরের রেফারেন্স থেকে এটা পরিস্কার যে ;- মাওলানা ইলিয়াত সাহেবের নিজের ও ভয় ছিল চরম ,  যে সেই সময়ে নতুন তৈরি কথিত তাবলিগ জামাত কে লোকে ঠেঙ্গানী না দেয় । তাই বুযুর্গ বেক্তিদের সামনে তাবলিগ বা তাদের আসল উদ্দেশ্য বিষয় বলতে  মানা করেছিলেন।  

এখন প্রশ্ন  নং ৮ ;-



যদি তাবলিগ সকল মুসলমানদের জন্য ফরজ হয় , তবে  এমন পবিত্র ফরজ কাজ আদায় করতে যারা যায় , তাদের কে আপনাদের এই মহান ফরজ তাবলিগ প্রসঙ্গে বুযুর্গদের সামনে কথা বলতে বা তুলে ধরতে কেন মানা করলেন ? 

প্রশ্ন নং ৯ ;-

নাকি এটা একটা নতুন বেদাত , পুর্বরতিদের তাবলিগের বিরোধী , এক নব ফেতনা  ?

প্রশ্ন নং ১০ ;- 

নাকি  মুসলমানদের কে তাদের পুর্বরতিদের তরিকা পথ রাস্তা , থেকে দুরে নিয়ে যাবে , ও বুযুর্গদের সামনে তুলে ধরলে তারা গলা ধাক্কা দিবে তার ভয়ে ? 


আবুল হাসান আলী নদভী লিখিত ;- মাওলানা ইলিয়াছ (রহ) ও তার দ্বীনি দাওয়াত নামক কিতাবের ৬৯ নং পেজে লিখেছেন যে ;- ইতিরুর্বে হযরত থানভীর মনে ও সন্দেহ ছিল যে , ৮-১০ বৎসর মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহন করা আলেমদের দিয়ে ও তাবলিগের আশানুরুপ ফল পাওয়া যাইত না । বরং নতুন নতুন ফেতনা সৃষ্টি হইয়ো পরিবেশ আরো জটিল হইয়া যাইতেছিল । সেই খানে এই মুর্খ মেওয়াতির দ্বারা তাবলিগের কি সাফল্য বলবে ? এই কথা হযরত থানভী বুঝিয়া উঠতে পারিতেছিলেন না । তাহার পুতিনক সন্দেহ ছিল যে ;- এই তরিকায় তাবলিগের কাজ করাতে নতুন ফেতনার সৃষ্টি না হইয়া যায় । 


এর একটু নিচে নাদভী সাহেব লিখেছেন যে ;- হযরত থানভীর আর একটা সন্দেহ ছিল যে ;- দ্বীনের যথেষ্ট ইলম ব্যাতীত এই সমস্ত লোক তাবলীগের গুরু দায়ীত্র কি রুপে পালন করিয়ে ??
কিন্তু যখন মাওলানা জাফর আহমেদ উসমানী বলিলেন , তাবলিগ জামাতের লোকটা যতটুকু বলিবার হলা হইয়াছে তত টুকুই বলেন । এর বাইরে কোন কথা বলেন না । নতুন কোন প্রসঙ্গ নিয়ে কোন আলোচনা করেন না ।তখন থানভী (রহ) এর এই সন্দেহ দূর হইল ।( আবুল হাসান নদভী লিখিত মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত ) পৃষ্টা নং ৬৯ ।

 

মাওলানা থানভী সাহেব ও জানতেন যে যাদের কে দিয়ে তাবলিগের কাজ শুরু করা হয়েছে তারা ছিল মুর্খ অশিক্ষিত । আর থানভী সাহেব এটা ও জানতেন যে ;- তাবলীগের কাজ আলেম সমাজের জন্য । 

আর তাবলিগ জামাতে যারা যায় তারা সত্যিকারের তোতা পাখি । তাদের কাছে শিরক বেদাত কবর পুজারী মাজার  পুজারী এই কথা গুলো শিখিয়ে দেয়া হয় , যে তোমরা তাবলিগিগন ছারা বাকি সব বেদাতি মুশরিক । 

এখন প্রশ্ন হলে (১১)  ;- আপনার থানভীর মতে তাবলিগ কাজ হল শিক্ষিতের জন্য ।
কিন্তু আপনাদের তাবলিগ জানাত কি মুর্খদের আড্ডা খানা নয় ? 

প্রশ্ন নং (১২) ;- আলেমদের কাজ তাবলীগ করা , কিন্তু মুর্খদের দিয়ে তাবলিগ তৈরি করে এটা কি বুযুর্গদের কোরান হাদিসের বিপরিত নয় ? 


আবুল হাসান আলী নদভী লিখিত (মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত ) কিতাবের ৬৮ নং পৃষ্টাতে লিখেছেন যে ;- একবার মাওলানা ইলিয়াচ সাহেব মাওলানা যাকারিয়া সাহেব কে লিখেছেন যে ;- আমার দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা এই যে ;- তাবলিগের জামাতগুলি , তরিকতের বুজুর্গদের খানকাগুলিতে গিয়ে খানকার পুর্ন আদব রক্ষা করত , সেখানকার ফয়েয বরকত গ্রহন করুক ।খানকায় অবস্থানের সময়ের মধ্যই আসে পাশের গ্রামগুলিতে গিয়ে দাওয়াতের কাজ ও যেন জারী থাকে । আপনি এই বিষয়ে আগ্রহী লোকদের সাথে আলোচনা করিয়ে একটা নিয়ম ঠিক করিয়ে রাখুন। বান্দা নাজীচ( ইলিয়াছ সাহেব ) কিছু সংখ্যার সঙ্গী সাথী নিয়ে এই সপ্তাহে হাজীর হইতেছে । তারপর দেওবন্দ ও থানা ভবনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে ( মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত ) পৃষ্টা নং ৬৮ ।

আপনাদের মাওলানা ইলিয়াছ সাহেব এই চিঠি লিখেছিলেন নিজের আপন জামাতা মাওলানা যাকারিয়া সাহেব কে । 

এবং তাতে লিখেছিলেন যে ;- বুজুর্গদের খানকাগুলিতে অবর্তমান করত খানকার সম্মান বজায় রেখে ও তার মধ্য পাশের গ্রামগুলিতে দাওয়াত দেয়ার জন্য ।

এখন প্রশ্ন হল যে (১৩) 

আপনারা কি কোন বুজুর্গদের দিনের খানকাগুলিতে গিয়ে থাকেন ? নাকি শুধু মসজিদে ঘুমান ? 

প্রশ্ন নং ১৪ 
যদি দিয়ে থাকেন বুজুর্গদের খানকাগুলিতে , তবে বলুন এখন আমাকে যে , কোন বুযুর্গের খানকায় আপনার কোন দল কত দিন ছিল ? 
বা আপনি নিজে কোন বুযুর্গের খানকায় আপনি নিজে ছিলেন ? 

আপনাদের হয়ত জানা নাই যে তাবলিগ জামাতের প্রধান কাজ হচ্ছে পীর মুরিদির প্রচার করা। বিশ্বাস হয় না ? দেখুন :- 

বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের অন্যতম একজন আলেম ও মুফতি মাহমুদ হাসান গান্গুহির খলিফা শায়খুল হাদিস হজরত মাওলানা মামুনুর রশিদ সাহেব (দা;বা;) কে আশা করি তাবলিগ জামাতের কথিত ঠিকাদার গণ জানেন। তিনি মশা আল্লাহ অনেক উর্দু কিতাব বাংলায় অনুবাদ করা ছাড়া ও নিজ হাতেও মনে হয় কয়েকটা কিতাব লিখেছেন।



যাই হোক ওনার অনুবাদ কৃত মাওলানা জাকারিয়া (রহ) এর (আকাবির কা সুলুক ও এহ্সান ) ১৪ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- তাবলিগ জামাতের পূর্ববর্তী আকিদা বিচ্যুতির ফলে বাধ্য হয়ে কলম তুলে নিলাম , কিছু কালামে পাকের আয়াত ও হাদিস ও মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত (আবুল হাসান আলী নাদ্ভির লেখা ) মালফুজাত এ মাওলানা ইলিয়াছ ( মাওলানা মঞ্জুর নোমানী কর্তৃক সংগ্রহিত ও সংকলিত ও অনুবাদ ডা; মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ বেরিসটার ) অনুসরণে একটা কিতাব লিখলাম তার নাম দিলাম (রাসুলুল্লাহ (সা )এর দাওয়াত-তাবলিগ এবং হজরত মাওলানা ইলিয়াছ এর তাবলিগ ও পীর মুরিদী)  

এখন প্রশ্ন নং ১৫ ;-

আপনাদের  মামুনুর রশীদ সাহেব যিনি আপনাদের মাহমুদ হাসান গাংগুহীর খলিফা , তিনি মনে করেন যে বরি্কমান তাবলিগ জামাত বুযুর্গদের তাবলিগ জানাত থেকে সম্পুর্ন বিচ্যুত  । আর আপনি বলেছেন বর্তমান  তাবলিগ জামাত একমাত্র হক দল । এটা কি করে সম্ভব যে , পীরের চেয়ে মুরিদ ভাল জানে ? 



প্রশ্ন নং ১৬ ;-
যেখানে একজন খলিফা বর্তমান তাবলিগ কে বিচ্যুত বলে , সেখানে কি করে অন্যরা এটাকে নাজাতের পথ ও নবীওয়ালা কাজ দিবে করতে পারে ? 

পরের কথা ;- 

অকবির কা সুলুক ও এহসান কিতাবের ১৬ নং পৃষ্টায় আবার লিখেছেন যে ;- সেই কিতাবের বিষয়বস্তু ছিল দাওয়াত তাবলিগ - মাদ্রাসা ইলম হাসিল করা -পীর মুরিদী ইসলাহী মেহনত করা।

এটাই হল কোরানের আদেশ ও নবীর আদেশ এবং মাওলানা ইলিয়াছ (রহ) এর তরিকা এটাই মুমিন মুসলমানদের তরিকা হওয়া চাই ,মুরিদ না হলে কি শাস্তি হবে সে বিষয় মুসলিম সরিফের ২য় খন্ডের ১২৮ পৃষ্টায় বর্ণিত হাদিস কঠোর ভাষা সেই কিতাবে উল্লেখ করা হল।



আপনাদের মাহমুদ হাসান সাহেবের খলিফা মামুনুর রশীদ সাহেব লিখেছেন যে ;- তাবলিগের কাজ হল মাদ্রাসা ইলম হাসিল করা ও পীর মুরিদি ইসলাহী মেহনত করা ।



আপনাদের কৌমি মাদ্রাসায় সকল ছাত্রই তো তাবলিগে গিয়ে থাকেন বলা চলে । এখন জিগ্গেস করতে চাই যে , 

প্রশ্ন নং ১৭  ;- আপনি আল্লাহর ওয়াস্তে সত্য করে বলুন , কোন পীরের হাতে বাইয়েত হয়েছেন ?  

প্রশ্ন নং ১৮ আর এটা ও বলুন , বর্তমান ইজতেমা তে কে কার পীর ? কে কার খলিফা ? 



প্রশ্ন নং ১৯ :- আর এটা ও বলুন যে , তারা কোন বযুর্গের দরবারে কতদিন ছিল ? 



পরের আলোচনা ;- 

 আকাবির কা সুলুক ও এহসান কিতাবের ২০ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- হজরত মাওলানা ইলিয়াছ (রহ) তাবলীগের নামে পীর মুরিদীর ও জিকির আজকার এর যে মেহনত চালু করেছেন এবং তা করতে সকল কে আদেশ করেছেন ও আমলি নমুনা পেশ করেছেন তাও জেনে এই বেপারে আমার মনস্থির হল যে ;- তাবলীগের নামে পীর মুরিদীর প্রচার করা। (আকাবির কা সুলুক ও এহসান কিতাবের ২০ নং পৃষ্টা)




একটু নিচেই লিখেছেন যে ;- কিতাব টা মানুষের হাতে পৌছানোর সাথে সাথে অনেক কানা ঘুসা সুরু হয়ে গেল। একজন তাবলিগ জামাতের জিম্মাদার তো বলেই ফেললেন যে ;- মুরিদ না হয়ে মরলে যদি বেইমান হয়ে মরতে হয় তা হলে আর মুরিদী হব না, যদিও মুরিদ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। পৃষ্টা ১৬

এখন প্রশ্ন হল ২০;- 

আপনাদের মাহমুদ হাসান গাংগুহীর খলিফা মামুনুর রশীদ সাহেবের কিতাবের বিষয় সমালোচনা বা একজন খলিফা হুজুরের কিতাবের সমালোচনা করা ও বিরাধিতা করার পরিনাম ইসলাহী মোহনের বেলায় পরিনতি কি নিয়ে আসতে পারে ? 

প্রশ্ন নং ২১ ;- আপনাদের মুজাদ্দেদ আশরাফ আলী থানবী তার কিতাবে লিকেছেন যে :- মুরিদ বিনয় , সম্মান ও সম্ভ্রম এর সাথে তার পারদর্শী শায়েখ এর অনুগত থাকবে যেমন মাইয়েত (মৃত বেক্তি) গোসল দাতার হাতে চুপ চাপ থাকে। ( আদাবুল মুয়াসারাত , শায়েখ এর আদব অধ্যায়, পৃষ্টা ৮৯-৯০ । 

এখন কথা হল যে :- একজন তাবলিগ জামাতের সামান্য জিম্মাদার যদি এমন গর্ব করে কথা বলে যে ;- মুরিদ না হয়ে যদি বেইমান হয়ে মরতে হয় , তবে বেইমান হয়ে মরব । এমন যদি হয় জিম্মাদারের অবস্থা , তবে যারা আজ মাত্র শুরু করেছে তাবলিগে যেতে তারা কোন পর্যায় আছে ?  




যাই হোক একটু নিচে আবার লিখেছেন যে ;- কেননা মাওলানা ইলিয়াছ সাহেব নিজে ১০ বছর বয়সেই মাওলানা রশিদ আহমাদ গান্গুহির হাতে মুরিদ হন , ১০ বছর রশিদ আহমাদ এর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন এর পর ওনার মিত্তু হলে রশিদ আহমদের খলিফা মাওলানা খলিল আহমাদ সাহারান পুরীর হাতে মুরিদ হন ও খেলাফত লাভ করেন । আর এক জনের নাম মনে আসছে না তিনি তার কাছে জিহাদের জন্য ও মুরিদ হয়েছিলেন। 

এখন প্রশ্ন হল (২২) ;- 

আপনি/আপনারা  কত বছর বয়সে মুরিদ হয়েছেন ? 



প্রশ্ন নং ২৩ ;- আর কার কার হাতে মুরিদ হয়েছেন ? 


মাওলানা ইলিয়াছ সাহেবের মিত্তুর আগের রাত্রের দিন বুধবার মাওলানা জাকারিয়া কে বলেন যে ;- এই তাবলিগ জামাতের মধ্যে ৬ জন লোক গুরুত্বপূর্ন ,জারা আমার হাতে মুরিদ হতে চান তারা যেন এই ৬ জনের মধ্যে হতে যার কাছে ইচ্ছা মুরিদ হয়। এই ৬ জনের নাম হচ্ছে ;- (১)মৌলভি ইউসুফ (২) মৌলভি এনামুল হাসান (৩) মৌলভি রেজা হাসান (৪) মৌলভি ইহ্তিশামুল হাসান (৫) হাফেজ মক্বুল হাসান(৬) ক্বারী দাউদ 

পরে মাওলানা ইলিয়াছ সাহেবের মিত্তু হলে মৌলভি ইউসুফ কে সর্বসম্মতি ক্রমে মুরিদ করার দায়িত্ব দেয়া হয়। (আকাবির কা সুলুক ও এহসান) পৃষ্টা ২১



প্রশ্ন নং ২৪;- বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে কে মুরিদ করিয়ে থাকেন ? 

আজকের ইজতেমা তে কে আপনাদের সকল খলিফা গনের পীর ? 



কয়েকদিন আগে একজন আপনাদের তাবলিগির সাথে কথা বলেছিলাম।  সে বলেছিল তার জিম্মাদার তার পীর । 

মাহমুদুস সুলুক কিতাবে রশিদ আহমেদ গাংগুহীর খেলাফত পাওয়া বিষয়ে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজের এ মক্কি (রহ) এর ঘটনা টা তুলে ধরেছিলাম।  তখন বেচারা চুপ হয়ে গিয়েছিল । 



আপনি যদি মনে করেন যে ;- জিম্মাদারগন আমাদের পীর তবে একজন পীর কেমন হয় তা তুলে ধরব আপনাদের কিতাব থেকে । তখন কিন্তু বিপদ বেড়ে যাবে কয়েকদিন । 



আজকের পোষ্ট আর বড় করতে চাইতেছি না । এর পরে অন্য ছোটখাট বিষয় গুলো নিয়ে কথা হবে ইনশাল্লাহ । 



টোটাল প্রশ্ন মনে হয় ২৪  টা হয়েছে । 



আমার ২৪ টা প্রশ্নের উত্তর দিলে বা দিতে পারলে আমি সোহেল রানা জীবনে আর কোল দিন ২৪ টা বিষয়ে প্রশ্ন তুলব না বলে ওয়াদা করলাম । 



এবং পরবর্তী বিষয়ে যা প্রশ্ন আসবে , তা সম্পুর্ন রুপে উত্তর দিতে পারলে আর জীবনে তাবলিগ নিয়ে প্রশ্ন উখ্খাপন করব না।  

এটা আমার ওয়াদা । 
 

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

কথিত rezvi sarshina gazakhor এর জবাব ।

আমাকে চার ঘন্টা সময় দেয়া হয়েছে । 

তাই মুল আলোচনায়  গেলাম।  তোমারে যদি কোন হালাল পিতা জন্ম দিয়ে থাকে তবে বলব জবাব দিও পাল্টা । নয় তো তওবা করে নিও 

আর যদি তোমার পিতা হালাল না হয় তবে আর কি করার ? 

একটার পর একটা ফেতনা পোষ্ট কর ও নিজেকে হারামজাদা প্রমান করতে থাক । 

তোমার প্রথম প্রশ্ন ;-
(১)তদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে, মিলাদ পালন
করার দলিল কুরআনে আছে কিনা?
তখন বলেন যে, আছে। কিন্তু আপনাদের এ
দাবি যদি সঠিক
হয়ে থাকে তাহলে মিলাদ পালন করাকে 'ফরজ'
বলেন না কেন?

উত্তর ;-  পবিত্র কোরানে আল্লাহ পাক বলেন :-ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে ,

" ﻗﺎﻝ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺑﺮﺣﻤﺘﻪ ﻓﺒﺬﺍﻟﻚ
ﻓﻠﻴﻔﺮﺣﻮﺍ ﻫﻮ ﺧﻴﺮﻣﻤﺎ ﻳﺠﻤﻌﻮﻥ
অর্থাৎ হে রাসুল আপনি বলুন আল্লাহর দয়া ও রহমতকে কেন্দ্র করে তারা যেন আনন্দ করে এবং এটা হবে তাদের অর্জিত সকল কর্মফলের চেয়েও
অধিক শ্রেষ্ঠ |

 তো এখন কথা হল যে ;- দুনিয়ার সকল মুসলমান এটা মান্য করে যে , আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ট নিয়ামত হল নবী পাক (সা) ।

আর আল্লাহ তায়ালা তার নিয়ামত পেয়ে খুশি হতে বলেছেন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে বলেছেন। এখন যদি আপনার আল্লাহর শ্রেষ্ট নিয়ামত লাভ করেও খুশি হতে না পারেন তবে এটা আপনার নিজের হলে হতেও পারে জন্মগত দোষ । আমি আসা করব যে , আপনার জন্মগত দোষে আমাদের কে দুষিত করার চেষ্টা করবেন না ।

আর বলেছেন যে , কোরানে কোরানে যদি থেকে থাকে মিলাদ করার কথা , তা হলে তা ফরজ বলেন না কেন ? 

এটা অবশ্যই ওয়াজীব  যে , নবীর মিলাদের কারনে আমাদের কে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।  আপনি যদি মনে করেন যে , না আল্লাহর শ্রেষ্ট নিয়ামত লাভ করে খুশি উদযাপন করা যাবে না , তা হলে তা আপনার রোগ। আমাদের নয়।   আপনার উচিত হবে কালেমা তাইয়েবা দিয়ে নিজের কলুষিত মন কে ধুয়ে পরিষ্কার করা ।

আল্লাহর নিয়ামত পেয়ে যে খুশি হওয়া বাধ্যতামূলেক মনে  করে না সে কি করে মুসলমান হতে পারে ? তার জবাব কি দিবেন ? 

আর কোরানের প্রতিটি কানুন ফরজ নয়।  বরং ওয়াজীব আছে । যেমন নবী (সা) এর সাথে সাক্ষাত বিষয়ে কিছু হাদিসে দেয়া এক সময় ওয়াজীব ছিল। পরে তা রহিত হয়ে যায়। ফরজ ছিল না। যদিও কোরানের আয়াতে স্পষ্ট আছে বলা যে ;-কৃত রুপ । মুল আয়াত দেখুন ( 
 
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً ذَلِكَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَأَطْهَرُ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ


মুমিনগণ, তোমরা রসূলের কাছে কোনকথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে। এটা তোমাদের জন্যে শ্রেয়ঃ ও পবিত্র হওয়ার ভাল উপায়। যদি তাতে সক্ষম না হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সুরা মুজাদেলা আয়াত নং ১২ 

এই আয়াত থেকে এটা প্রমানিত যে কোরানের সকল হুকুম ফরজ নয়।  বরং ওয়াজীব ও আছে । 

আপনার প্রশ্ন ;- 
(২) নং প্রশ্ন ;- 

আর যদি প্রশ্ন করা হয় যে,
তা হাদিসে আছে কিনা?
তখনো বলে থাকেন যে, হ্যাঁ আছে। কিন্তু
আপনাদের এ দাবি যদি সঠিক হত
তাহলে মিলাদুন্নবী পালন করাকে
'ওয়াজিব অথবা সুন্নাত' বলেন না কেন

উত্তর ;- অসংখ্য হাদীসে নবী পাক (সা) এর শুভ মিলাদ শরিফের বর্ননা আছে । তা যেহেতু প্রশ্ন নয় , তাই হাদিসে গেলাম না । 
তার কথা হল যে , ওয়াজীব বা সুন্নত  বলেন না কেন ? 

কে বলেছে আমরা ওয়াজীব বা সুন্নাত বলি না ? 
বরং উপরোক্ত আয়াত থেকে এটা স্পষ্ট যে , নবী পাকের  জন্ম খুশি হওয়া ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজীব । 

এই প্রসঙ্গে পবিত্র হাদিস শরীফে এরশাদ
হয়েছে ,
" ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺱﺀﻝ ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَﻞَ ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪِ -
অর্থাৎ হজরত আবু কাতাদা ( রা ) হতে বর্ণিত ,
একজন সাহাবী হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে আরজ
করলেন ই রাসুলাল্লাহ , ইয়া হাবিবাল্লাহ
আমার মাতা পিতা আপনার নূরের পাক
কদমে কুরবান হোক | আপনি প্রতি সোমবার
রোজা পালন করেন কেন ?
জবাবে সরকারে দুজাহান নূরে মুজাস্সাম
হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , এই
দিনে আমার জন্ম হয়েছে , এই
দিনে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং পবিত্র
কালামুল্লাহ শরীফ এই দিনেই আমার উপর
নাজিল হয়েছে |
(সহীহ মুসলিম শরীফ ২য় খন্ড, ৮১৯ পৃষ্ঠা,
বায়হাকী: আহসানুল কুবরা, ৪র্থ খন্ড ২৮৬ পৃ:
মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল ৫ম খন্ড ২৯৭ পৃ:
মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৪র্থ খন্ড ২৯৬পৃ:
হিলিয়াতুল আউলিয়া ৯ম খন্ড ৫২ পৃ:)

এখান থেকে এটা সুষ্পষ্ট যে নবী পাক (সা) নিজের জন্ম উপলক্ষে প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। এটা নবী পাক (সা) থেকে প্রমানিত।  এটা সুন্নাত। ওয়াজীব নয় ।
যদি কোন বেক্তি প্রতি সোমবার রোজা রাখে তা হলে নিশ্চয় আল্লাহর রহমতে শিক্ত হবেন তিনি । 
 আর উপরে যে বলেছেন কোরানে যদি থাকে তা হলে ফরজ বলেন না কেন ? 

কোরানের প্রতিটি আইন ফরজ নয়।  বরং ওয়াজীব ও আছে। তার মধ্য নবী (সা) এ শুভ মিলাদের কারনে খুশি হওয়া ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ও একটা ওয়াজীব কাজ। যা উপরে কোরান থেকে আমি তুলে ধরেছি ।
উল্লখয যে নবীর জন্মে খুশি হওয়া ওয়াজীব। আর নবীর জন্মের দিনে রোজা রাখা এখানে সুন্নাত সাবেত হল । 


আপনার প্রশ্ন 

(৩) নং প্রশ্ন ;-আর যদি প্রশ্ন করা হয় যে,
তা আসারে সাহাবা তথা কোনো সাহাবীর
বিচ্ছিন্ন কোনো আমল দ্বারা প্রমাণিত কিনা?
তখন বলেন যে হ্যাঁ অমুক সাহাবী নিজ
গৃহে মিলাদ পালন করেছিল।
এবার এ কথার ওপর ভিত্তি করে যদি আপনাদের
জিজ্ঞাস করি যে,
(ক) ঐ সাহাবীর ঘটনাটি কতটুকু বিশুদ্ধ
সনদে প্রমাণিত।হাদিসে র
কোন্ কিতাবে তা লেখা আছে?

উত্তর ;- সহীহ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম
কাসতালানী (রাঃ) ‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ নামক কিতাবের ১ম জিল্দের
২৪ পৃষ্ঠায় হযরত আনাস (রাঃ) থেকে একখানা হাদিস উল্লেখ
করেছেন
ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﻛﺮﺍﻣﺘﻰ ﻋﻠﻰ ﺭﺑﻰ ﺍﻧﻰ ﻭﻟﺪﺕ ﻣﺨﺘﻮﻧﺎ ﻭﻟﻢ
ﻳﺮ ﺍﺣﺪ ﺳﻮﺃﺗﻰ ০
অর্থাৎ ‘আল্লাহর হাবিব এরশাদ করেন, আল্লাহপাকের পক্ষ
হতে আমার একটি বিশেষ মর্যাদা হল এই আমি খত্না অবস্থায় জন্ম
নিয়েছি এবং আমার লজ্জাস্থান কেহই দেখেনি।’
উপরোল্লিখিত হাদিস শরীফদ্বয় দ্বারা প্রতীয়মান
হলো যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্ম
বৃত্তান্ত ও তদসম্বলিত ঘটনাবলী অর্থাৎ মিলাদ শরীফের
আলোচনা নিজেই করেছেন। সুতরাং মিলাদ শরীফ পাঠ
করা সুন্নাতে রাসূল প্রমাণিত হল।
মিলাদ শরীফ পাঠ করা সুন্নাতে আম্বিয়া

তা ছারা ক) মিশকাত শরীফ ফাজাইলে সায়্যিদিল মুরসালিন ৫১৪ পৃষ্ঠায় লিখিত
আছে
ﻋﻦ ﻛﻌﺐ ﻳﺤﻜﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﺘﻮﺭﺓ ﻗﺎﻝ ﻧﺠﺪ ﻣﻜﺘﻮﺑﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺒﺪﻯ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ ﻻﻓﻆ ﻭﻻﻏﻠﻴﻆ
ﻭﻻﺳﺨﺎﺏ ﻓﻰ ﺍﻻﺳﻮﺍﻕ ﻭﻻﻳﺠﺰﻯ ﺑﺎﻟﺴﻴﺌﺔ ﺍﻟﺴﻴﺌﺔ ﻭﻟﻜﻦ ﻳﻌﻔﻮ ﻭﻳﻐﻔﺮ ﻣﻮﻟﺪﻩ ﺑﻤﻜﺔ ﻭﻫﺠﺮﺗﻪ
ﺑﻄﻴﺒﺔ ﻭﻣﻠﻜﻪ ﺑﺎﻟﺸﺎﻡ ﻭﺍﻣﺘﻪ ﺍﻟﺤﻤﺎﺩﻭﻥ ﻳﺤﻤﺪﻭﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﺴﺮﺍﺀ ﻭﺍﻟﻀﺮﺍﺀ –
( ﻣﺸﻜﻮﺓ -৫১৪ )
অর্থাৎ ‘হযরত কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বর্ণনা করেছেন,
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র
গুণাবলী তাওরাত কিতাবে এভাবে পেয়েছি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, আমার মনোনীত
বান্দা বা উপাসক, তিনি সচ্চরিত্রের অধিকারী, সঠিক পথের দিশারী,
এমনকি তাঁর সঙ্গে কেউ অন্যায় আচরণ করলে তিনি প্রতিদান
না নিয়ে নিজগুণে মাফ করে দিবেন। তাঁর জন্মস্থান বা মিলাদ
শরীফ মক্কা শরীফে, তাঁর হিজরত মদীনা তাইয়্যিবাতে, তাঁর
আধিপত্য শামদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত, তাঁর উম্মতগণ আল্লাহপাকের
অসংখ্য প্রশংসা করবে, সুখে দুঃখে আল্লাহ তা’য়ালার প্রশংসায়
লিপ্ত থাকবে।’
(খ) হাফেজ আবুল খাত্তাব বিন দাহইয়া (রাঃ) (ওফাত শরীফ ৬৩৩
হিজরি) এর লিখিত ‘আততানভীর ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাজির’ নামক
কিতাবে দুখানা হাদিস নকল করেছেন
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺤﺪﺙ ﺫﺍﺕ ﻳﻮﻡ ﻓﻰ ﺑﻴﺘﻪ ﻭﻗﺎﺋﻊ ﻭﻻﺩﺗﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺣﻠﺖ ﻟﻜﻢ ﺷﻔﺎﻋﺘﻰ ০
অর্থাৎ ‘একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) নূরনবীর
জন্ম বিবরণী তাঁর ঘরে বর্ণনা করছিলেন। এমন সময়
নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় উপস্থিত
হয়ে বললেন (সমবেত হয়ে যারা আমার জন্মকালীন
কাহিনী আলোচনা করছ) তোমাদের জন্য (কিয়ামতে) আমার
শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।’
(গ) অনুরূপ এই কিতাবে আরো একখানা হাদিস বর্ণিত আছে
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺍﻟﺪﺭﺩﺍﺀ ( ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ) ﺍﻧﻪ ﻣﺮ ﻣﻊ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻯﺒﻴﺖ ﻋﺎﻣﺮ ﺍﻻ
ﻧﺼﺎﺭﻯ ﻭﻛﺎﻥ ﻳﻌﻠﻢ ﻭﻗﺎﺋﻊ ﻭﻻﺩﺗﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻻﺑﻨﺎﺋﻪ ﻭﻋﺸﻴﺮﺗﻪ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻫﺬﺍ
ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ
ﻓﺘﺢ ﻟﻚ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻳﺴﺘﻐﻔﺮﻭﻥ ﻟﻚ ﻭﻣﻦ ﻓﻌﻞ ﻓﻠﻌﻠﻚ ﻧﺠﺎ ﻧﺠﺎﺗﻚ ﺍﻧﺘﻬﻰ – ( ﻣﺠﻤﻮﻋﻪ
ﻓﺘﺎﻭﻯ০ ﻋﺰﻳﺰﻳﻪ ﺷﺮﻳﻒ )
অর্থাৎ একদা হযরত আবু দারদা (রাঃ) রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে হযরত আমির আনসারী (রাঃ) এর
ঘরে তাশরীফ নিয়েছিলেন। এ সময় হযরত আমির
আনসারী (রাঃ) তাঁর সন্তান সন্তুতি ও
আত্মীয়স্বজনকে একত্রিত করে নূরনবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম বৃত্তান্ত শিক্ষা দিতে ছিলেন
এবং বলতে লাগলেন এই দিনটি! এই দিনটি! অর্থাৎ তিনি আল্লাহর
হাবিবের জন্মদিনটি নিয়ে গর্ব করছিলেন। অতঃপর
নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হে আমির
আনসারী (রাঃ) নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা তোমার জন্য রহমতের
দরজাগুলি খুলে দিয়েছেন। সকল ফেরেশতারা তোমার জন্য
ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। যারা তোমার মতো (মিলাদ মাহফিল)
করবে তারা নাজাত পাবে। উপরে বর্ণিত হাদিস শরীফ
দ্বারা বুঝা গেল, মিলাদ শরীফ পাঠ করলে আল্লাহর রহমত
পাওয়া যায়। আল্লাহর হাবিবের শাফায়াত নসিব হয়, ফেরেশতাগণের
দোয়া লাভের এক চমৎকার পথ এবং সাহাবাগণের সুন্নাত, যা হাদিস
শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হল।

আর এখন যদি নবী পাক (সা) এর এই জন্ম মুবারক নিয়ে আলোচনা করা হাদিস গুলোর বিষয় যদি আপনার  সন্দেহ থেকে থাকে , আর যদি আপনি রিজাল শাষ্ত্রে শিক্ষিত হয়ে থাকেন , তবে আপনার উচিত হবে এই হাদিস গুলোর রাবীদের বিষয় পুর্ন বিস্তারিত বর্ননা তুলে ধরে কেন এই হাদীস গুলো গ্রহনযোগ্য হবে না তার কারন তুলে ধরা । 

আপনার প্রশ্ন 
(খ) যদি মেনে নিই যে তা সঠিক, তখন আবার
জানতে ইচ্ছে করে যে,
তিনি কি মিলাদুন্নবী পালন করেছিলেন,
নাকি নবীর সাঃ জন্মালোচনা করেছিলেন।

উত্তর ;- এমন প্রশ্ন ছাগলের তিন নং বাচ্চা হলেই যে করা সম্ভব হয়ে থাকে তা আমার জানা আছে ভাল করেই ।

এখন প্রশ্ন করছি আমি যে , আপনি কি নামায আদায় করেন , নাকি নামায পড়েন ? 
জবাব টা দিবেন । 

আর নবীর জন্ম দিন পালন যে করা হয় তা কি মুখ বন্ধ করে ঘরের কোনায় থেকে পালন করা হয় ? নাকি আলোচনা করেই পালন করা হয় ? 

তা বলে দিবেন । এটা প্রশ্ন থাকল ।

আপনার প্রশ্ন ;- 
(গ) তখন কি ঐ দিনটি ১২ ই রবিউল আওয়াল ছিল
অথবা নির্দিষ্ট কোনো দিবসকে উপলক্ষ্য
করে ছিল?

উত্তর ;- সাহাবীদের ঐ দিনটি ১২ রবিউল আওয়াল হয়ত বা ছিল , নত বা ছিল না ।
কিন্তু কথা হল যে , আমরা তো শুধু ১২ রবিউল আওয়াল নবীর জন্ম মুবারকের আলোচনা করি না । বরং যখন সময় পাই যেদিন সময় পাই , সেই দিনে আল্লাহর নবীর শুভ জন্ম মুবারকের আলোচনা করি ও তাতে বরকত লাভের আশা করি । 

আর যদি আপনার কাছে এমন কোন তথ্য থেকে থাকে যে , সুন্নি রা ১২ রবিউল আউয়াল ছারা অন্যদিন নবীর শুভ আগমনের আলোচনা বা মিলাদ পালন করে না , ও কোন আলেম বা কেউ ফতোয়া দিয়েছে শুধু ১২ রবিউল আইয়াল ছারা অন্যদিন পালন করা যাবে না , তা হলে তা তুলে ধরুন আমাদের কাছে ।


নয় তো তওবা করুন ।

আপনার প্রশ্ন ;- 
(ঘ) তাঁর উক্ত
জন্মালোচনা কালে তিনি কি কিয়াম
করেছিলেন?

উত্তর ;- এখন  আপনার প্রশ্ন যে কিয়াম করা । এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে যাব না ।  কারন আপনার এই প্রশ্নের উদ্দেশ্য যা ছিল , তা অনুয়াযি যথাযত প্রশ্নই করতে পারেন নাই। 
সুন্দর কথা হল এটা যে , যে কোন খানে যে কোন বেক্তি যদি বক্তৃতা দেয় , তখন দেখবেন দাড়িয়ে দেয় ।

আর আমরা নবীর জন্ম আলোচনার সময় দাড়াই না ।
বরং নবী (সা) এর প্রতি সালাম দেয়ার সময় দাড়াই  । এটা  একটা  সম্মান বা তাজীম।  কিন্তু আমরা কাউকে বাধ্য করি না  যে দাড়িয়ে সালাম দিতেই হবে। বরং যারা বসে বসে সালাম দেয় তাদের কে আমরা বাধ্য করি না দাড়িয়ে যান । 

এটা একটা বিষেশ পদ্ধতি দাড়িয়ে সালাম দেওয়া সকলে মিলে মুহাব্বাতের সাথে । 

যদি কেউ কিয়াম না করে তবে তার গোনাহ হবে না।  তবে আশা তরা যায় যে যদি দাড়িয়ে সালাম দেয় তবে সওয়াব হবে ।   কারন নফল নামায বসে পড়া যায়েয কিন্তু দাড়িয়ে পড়া মুস্তাহাব । এতে বেশি সওয়াব । 
এটা থেকে আশা করা যায় দাড়িয়ে সালাম দেয়া তে হয়ত বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে।  আর সওয়াবের আশায় কোন যইফ হাদিসে ও আমল করা যাযেয় যদি তা কোরান হাদিস বিরোধি না হয় ।

এটা সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত। 

(ঙ) যদি বলেন,না ঐগুলো করেননি;
তাহলে প্রচলিত মিলাদের ভিত্তি কী?

উত্তর ;- উপরের প্রশ্ন গুলোর লিখিত জবাব ও ভিত্তি কি , তার দলিল দেয়া হয়েছে । 

এখন আমি আশা করব আপনার এই সকল ছাগলের তিন নং বাচ্চার মত প্রশ্ন করার ভিত্তি কি তা তুলে ধরবেন যদি কোন হালাল বাপের সন্তান হয়ে থাকেন । 


আপনার প্রশ্ন ;- 4.
আমরা যখন আপনাদের প্রশ্ন করি যে,
"মিলাদুন্নবী উদযাপন" অর্থ কী?
তখন আপনারা গোলক ধাঁধাঁয় পতিত হয়ে যান
কেন? তার মানে কেউ বলেন যে এর অর্থ
১- "নবীর ওপর দরূদ পড়া" আবার বলেন
২- "নবীপাকের জন্মদিন পালনকরা"।
এখন বলুন, কোন অর্থটি সঠিক বলে ধরে নেব?

উত্তর ;- মজার কথা হল যে , আপনি যেমন এই পোষ্ট টা নিজে লেখেন নাই , করেছেন কপি , ঠিক তেমনি , যাদের কে আপনি প্রশ্ন করেন , তারা ও হয়ত আপনার মত কপি করে ।

তাই তারা গোলক ধাধায় পড়ে যায় । 

এখন কথা হল যে ;- উপরে একটা প্রশ্ন করেছিলাম যে . আপনি কি নামায পড়েন ? নাকি আদায় করেন ?  

এই আপনার প্রশ্ন ঠিক এই রকম ।

বরং নবী পাকের  মিলাদ উদযাপন বলতে , কিছু লোক সম্মিলিত হয়ে , আল্লাহর নবীর শুভ মিলাদ শরিফের সহীহ বর্ননা সহকারে আলোচনা করা , ওনার মান ও মর্যাদা বর্ননা করা , নবীর প্রতি দরুদ সালাম পেশ করা , সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষাদ প্রদান করা ও নবী পাকের অসিলায় সকলের গোনাহর ক্ষমা প্রার্থনা করা । এটাই প্রকৃত মিলাদ । এটাই ধরে নিন আজ থেকে প্রকৃত মিলাদ শরিফ । 

আপনার প্রশ্ন ;- 

5.
এখন যদি বলেন যে দ্বিতীয়টি সঠিক।
তাহলে প্রশ্ন
আসে যে,
১।
শরীয়তে মীলাদুন্নবী পালনকরার নিয়ম
পদ্ধতি কীভাবে বর্ণিত আছে, কোথায় বর্ণিত
আছে?
২।
এ মীলাদুন্নবী অর্থ যদি হয় "নবীজি'র জন্মদিবস"।
তাহলে আরো জানতে ইচ্ছে করে, 'জন্মদিবস'
কি পড়া যায়, নাকি আলোচনা করা যায়?
কী বলবেন?

উত্তর ;- শরিয়তে মিলাদের বর্ননা হাদিসে কি ভাবে এসেছে তা  উপরে হাদীসে বর্ননা করা হয়েছে ।  আর নবীর জন্ম দিবস পড়া যায় নাকি আলোচনা করা যায় ( নামায পড়া যায় নাকি আদায় করা যায় ) এই সকল অবান্তর কথার সুষ্ট  জবাব ৪ নং প্রশ্নের জবাবে সুন্দর করে বলে দেওয়া হয়েছে ।


6.
হাদীসেপাকে বর্ণিত
আছে "যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন
কোনো বিষয় উদ্ভাবন করল
যেটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়,
তাহলে সে প্রত্যাখ্যাত হবে।'
হাদীসটিতে নতুন কোনো উদ্ভাবিত
বিষয়কে 'দ্বীনি বিষয়'
মনে করে প্রবর্তন
করলে সেটি বর্জনকরা হবে মর্মে উল্লেখ
রয়েছে। এককথায়, বিদয়াত
ফিদ্দীনকে নিন্দা করা হয়েছে। এবার বলুন, এ
জগাখিঁচুড়ি প্রথাটিকে আপনারা দ্বীনের
'সহায়ক বিষয়' মনে করেন, নাকি 'দ্বীনি বিষয়'
মনে করেন?

উত্তর ;- বেদাত ফি দ্বীন ও লি দ্বীন বলতে নতুন এই সংগা পেয়েছিলাম কাজী সাইফুজ্জামান এর এক পোষ্ট এ। আর যখন এই ফি দ্বীন ও লি দ্বীন এর রেফারেন্স চেয়েছিলাম তখন কিন্তু দিতে পারে নাই এ। বরং এখন বলে রাখি , যে বেক্তি এই পেষ্ট লিখেছেন তার বেদাত নিয়ে ও পুর্ন জ্ঞান নাই । 

অন্য কথা হলে যে ;- উপরে কোরান থেকে হাদিস থেকে সুষ্পষ্ট বর্ননা দেয়া হয়েছে। তাই আপনাদের মতে বেদাত ফি দ্বীন ও লি দ্বীন এর কোন শর্তই এখানে লাঘু নয় ।  কোরান হাদীস থেকে এটা ওয়াজীব ও সুন্নাত সাবেত করেছি ।  


আর যে হাদীস তুলে ধরেছেন , তার সঠিক ব্যাখা হল, বেধর্মিদের কোন কিছু আমাদের ধর্ম বলে চালিয়ে দেওয়া । এই বিষয়ে হাজী ইমদাদুল্লাহ (রহ) সুন্দর বর্ননা করেছেন অনার কিতাব (ফায়সালা এ কাউকে মাসায়েল ) ১৩৯ নং এ যে , বেদাত হল বস্তুত অধর্মকে ধর্মের অন্তর্ভুক্ত করা । 

আর যেখানে নবী (সা) এর জন্ম মুবারকের বর্ননা হাদীস থেকে সুষ্পষ্ট বর্ননা আছে , তা কি করে অধর্ম হতে পারে ? 

আপনার প্রশ্ন ;- 
7.
মজার ব্যাপার হল, নবীজির জন্ম কি প্রতি জুমায়
হয়েছিল?
অন্যথা প্রতি জুমায় মীলাদ

উত্তর ;- আমরা হাদিসে পাই নবী পাকের শুভআগমনের দিন সোমবার । 
জুম্মার দিনে নবী পাকের আগমন এটা আমাদের জানা নাই । যদি কোন নির্ভর যোগ্য প্রমান থাকে আপনার কাছে তবে আমরা মেনে নিতে বাধ্য । 

আর যদি বলেন যে প্রতি জুম্মার দিনে নবী পাকের জন্ম আলোচনা কেন করেন তা হলে বলব যে , প্রতি জুম্মার দিনে নয় বরং প্রতি দিন প্রতি ক্ষনে  ক্ষনে ওনার জন্মের আলোচনা করা  যায়েয।  এতে কোন বাঁধা নাই।  বরং তা ওয়াজীব ও সুন্নাত সাবেত।  আর ওয়াজীব ও সুন্নাত পালন করতে শনিবার আর মঙ্গল বার দরকার নাই আমাদের ।


আপনার ৭ টা প্রশ্নের জবাব শেষ হল। 


আমি হিংসা পরিহার করে সুন্দর করে জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি । 
যদি আমার এই সকল দলিল ও কথার মধ্য কোন ত্রট্ থাকে তবে নিজ গুলো ক্ষমা করবেন। যদি আপনার মনপুত না হয় তবে হালালের সন্তানের মত সুন্দর করে লিখিত জবাব তুলে ধরে আমার ভুল ও দোষ ত্রুটি তুলে ধরবেন । 

সুন্দর করে আমার এই পোষ্ট বিষয় দলিল ভিত্তিক সমালোচনা করবেন। ইনশাল্লাহ যদি ভুলের উপরে থাকি তবে তওবা করে নির।  যদি আমার দলিল থাকে তবে তুলে ধরব।  



আর আপনাকে ও বলব যদি ভুলের উপরে নিজেকে মনে করেন তবে তওবা করে নিবেন অন্যথা আমার ভুল তুলে ধরবেন ।

যদি তা সম্ভব না হয় তবে ভিন্ন ও নতুন ফেতনা পোষ্ট করবেন ও 
নিজেকে হারামজাদা প্রমান করবেন 


সোহেল রানা । 


মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

ইংরেজে পিরিতির দলিল দেওবন্দিদের কিতাব থেকে

ইসলামের কতগুলো আগাছা আছে , যারা নিজেদের কে তো বড় পন্ডিত মনে করে , কিন্তু যখন কেউ ধরে তার গলা টিপে , তখন তার হোস ফিরে আসে আর পালানোর রাস্তা খোঁজ করে ।

কথিত বাতিলের  জমদুত তো না বরং মরদুদ আজ ওয়াদা করেছে যে , যদি আমি তার জবাব দেই তবে পাল্টা জবাব দিবে ।

দেখি কি জবাব দেয় আজকের পোষ্টের।  


মুল আলোচনা ;---

তার প্রথম প্রশ্ন,

সুন্নি কাহাকে বলে ? 

উত্তর ;--প্রশ্নঃ সুন্নি কাকে বলে?
উত্তরঃ সুন্নাত শব্দ হতে সুন্নি নামের
উৎপত্তি।শরীয়তে তিনটি অর্থে সুন্নাত শব্দ
ব্যবহৃত হয়।যথা_
১,যে আমল বা কাজের মান ফরজ ও
ওয়াজিবের নিচে এবং নফল ও মুস্তাহাবের
উর্ধ্বে।
২, হযরত রাসুল ( সাঃ) এর হাদীস, এটাও
আবার তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যথাঃ ক)
রাসুল ( সাঃ) এর বাণী।
খ) তাঁর কাজ। গ) তাঁর নীরবতা মূলক
স্বীকৃতি।
৩, সুন্নাত শব্দের তৃতীয় অর্থ
তরীকা বা মতাদর্শ।
সুন্নাত শব্দের শেষ অর্থই
যাঁরা সুন্নাতে রাসুল ( সাঃ) ও
জামাতে সাহাবা ( রাঃ) এর
তরিকা বা মতাদর্শের
অনুসারী তাঁদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামাত বলা হয়। আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামাতের সংক্ষিপ্ত নাম সুন্নি।
উপরোক্ত আলোচনায় পরিস্কার হয়ে গেল
যে, কোন মুসলমান সুন্নাতে রাসুল
এবং জামাতে সাহাবার
আদর্শে বিশ্বাসী হলেই আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামাতে অন্তরভূক্ত হতে পারে।

এর পরে লিখেছে  ;- 
বেদাতি রা কিসের উপর ভর করে সুন্নি দাবি করে ;--

আমি জানি না বেদাতি কারা ।
আর আমাদের সুন্নিদের কোন বিষয় নিয়ে যদি আপত্তি থেকে থাকে তবে পেশ করুন দাঁত ভেংগে জবাব দেয়া হবে ।


এর পরে লিখেছে যে ;- ইংরেজদের বিরুদ্ধে হক্কানী ওলামায় কেরাম জেহাদ ঘোষনা করলে আহমেদ রেজা খান (রহ) ইংরেজ হুকুমতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা না যায়েয বলেছেন । 

এটা হল ওনার দোষ তাদের মতো ।

আমি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে দেওবন্দিরা কি করেছে তা তুলে ধরতে চাইছি  লিখিত । 

তার আগে 
আমার বিগত দিনের কয়েকটা ইংরেজ দালালির প্রামান্য পোষ্টের ব্লগ লিংক দিলাম । 
(১) Abdus Salam নামের দেওবন্দির ইংরেজ বিরোধি যুদ্ধের প্রোপাগান্ডার জবাব দিয়েছিলাম। আজ ও এর উত্তর পাওনা আছে।  কেউ ফেরত দিল না , দেখুন ;-
http://sohelrana1234.blogspot.com/2015/11/blog-post_31.html

(২) Abdullah ahmedabadi এর জিহাদ বিষয়ক প্রোপাগান্ডার জবাব । আজ ও পাওনা আছে। উত্তর পাই নাই। দেখুন :--
http://sohelrana1234.blogspot.com/2015/06/blog-post_19.html

(৩) কাজী সাইফুজ্জামানের জবাবে এই পোষ্ট করেছিলাম সুন্নি দের কে দালাল বলার কারনে । আজ ও জবাব পাই নাই । দেখুন :-
http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/11/blog-post_91.html

(৪) আশরাফ আলী থানভীর ইংরেজদের থেকে টাকা নেওয়া ও মোলভী সোহেল দেওবন্দির কবিতা দেওবন্দের বর্তমান অবস্খার প্রেক্ষিতে ;-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/11/blog-post_26.html

(৫) জওয়াহের লাল নেহেরুর শোনে দেওবন্দিদের কবিতা ও ইমান শিখা বলে অবিহিত করা ;-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/11/blog-post_25.html

(৫) Abdur Rehman Mughal bazari এর দেয়া মিথ্যা অপবাদ সুন্নিদের প্রতি তার জবাব । আজ ও উত্তর পাই নাই। 
দেখুন ;-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/10/blog-post_60.html

(৬) দেওবন্দি আলেম আবুল হাসান নদভীর সাক্ষ্য সাইয়েদ আহমেদ ইংরেজদের কাছে থেকে সাহায নিতেন
আর মুসলিম রাজ্য গুলোকে ত্রাস পয়দা করেছেন তার প্রমান  ;-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/09/blog-post_51.html

(৭) সিলেট ফুলতলী দরবারের পীরের কিতাব থেকে প্রমান সাইয়েদ আহমেদের ইংরেজের দালালির । অথচ ফুলতলী সাইয়েদ আহমেদ এর সেজরার মুজাদ্দিদ । দেখুন :-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/09/blog-post_25.html

(৮) দেওবন্দি আহলে হাদিস ও বালাকোটি সুন্নিদের মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আহমেদ বেরেলভীর চরিত্র ও খারাপ ছিল । দেখুন ;-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/sayed-ahmad-character-is-loss.html

(৯) তাদের এই মুজাদ্দিদ এতটা মুর্খ ছিল যে ;- সে শিয়া রমনী বিয়ে করেছেন (-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/saiyed-ahmad-marry-on-shiya-women.html

(১০) সাইয়েদ আহমেদ কি ভাবে মিত্তু হয়েছে তা দেখুন ;-http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/read-how-was-died-saiyed-ahmad.html

উপরেক্ত এক একটা লিংকের জবাব দেয়ার জন্য তাকে ১০ দিন সময় দিলাম ।

প্রতিদিন একটা করে লিংকের জবাব দিবে সে । 
এখন কথা হল যে ;- শুধু লিংক দিয়েই তো আর কাজ হবে না।  কষ্ট করে কিছু লিখতে ও হবে । উপরে যা কিছু লিংক এ আছে দেয়া তা শুধু তাদের ইংরেজ বিরোধি যুদ্ধের যে প্রোপাগান্ডা করে থাকে তার আসল চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ।

এখন কথা হল যে ;- ইমাম আহমেদ রেজা খান ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা না যায়েয বলেছেন , এই কারনে যদি তিনি ইংরেজদের দালাল হন তা হলে , আপনাদের যত আলেমরা আছে , তাদের থেকে যদি এমন প্রমান পাওয়া যায় , তারা ও দালাল প্রমান হবেন  নিশ্চয় । কারন একই শর্ত যা আমাদের বেলায় প্রযোজ্য তা আপনাদের বেলায় ও প্রযোজ্য হবে হবে ।


প্রথমেই কথা হল শাহ আব্দুল আজীজ দেহলভী (রহ) । যিনি সর্ব প্রথম ইংরেজ বিরোধি যুদ্ধের ডাক দেন ।

এখন আমার কথা ;---

শাহ আব্দুল আমার (রহ) ইংরেজ বিরোধি যুদ্ধের ডাক দেন ও ভারত তে দারুল হারব বা যুদ্ধ কবলিত দেশ হিসেবে ঘোষনা করেন ।

এর পরে সে দেশে কোন মুসলমানের বসবাস হারাম হয়ে যায় , হিজরত ওয়াজীব হয়ে যায় , যুদ্ধের ফরজ হয়ে যায় । 

এখন কথা হলে যে , 

(১) শাহ আব্দুল আজিজ (রহ) কোথায় হিজরত করেছেন ? 

(২) তিনি যে যুদ্ধ কবলিত দেশ হিসেবে ঘোষনা করেছেন , তখন সাধারন মানুষ কোথায়ঁ যাবে বা কোথায় হিজরত করবে তার কি কোন ব্যাবস্থা সেই সময়ে তিনি করেছিলেন ? 


(৩) রে শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) এর মিত্তু কোথায় হয়েছে ? 
(৪) যদি ওনার মিত্তু দারুল হারব বা শত্র কবলিত দেশে নিজের ঘরে শুয়ে হোক তা হলে ওনার বিষয় সরিয়ত কি বলে ? 

(৫)আপনি যে লিখেছেন জুম্মার নামায আদায় করলে নামায হবে না , তো শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) বাকি জীবনে কোথায় নামায আদায় করেছেন ? 
বরং সত্য কথা হলে যে আপনাদের পুরা দেওবন্দ এর নামায হয় নাই যারা ভারতের ভিতরে বসে থাকতেন ও ভারত কে দারুল  হারব মান্য করতেন ও সেখানে নামায ও পড়তেন । এই হিসেবে আপনাদের সমস্ত ইবাদাত বাঁতেল বলে গন্য হয় । 

এই ক টা প্রশ্ন আমার থাকল শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) এর ফতোয়া দারুল হারব বিষয় সম্পরকিত  কি কি করেছেন তা জানার জন্য ।

আপনি জবাব দিয়ে ব্যাধিত করবেন ।

প্রসঙ্গ ;- কারামত আলী যৌনপুরী ।
কারামত আলী যৌনপুরী একাধারে ছিলেন শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) এর সুযোগ্য ছাত্র  ও আপনাদের মহান মুজাহিদ সাইয়েদ আহমেদের সরিয়ত বিষয়ক প্রধান বেক্তি ।

কারামত আলী যৌনপুরী সর্ব প্রথম শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) এর ফতোয়ার বিরোধিতা করেছেন প্রকাশ্য । 

ও পরে যখন সাইয়েদ আহমেদের মিত্তু হয় তখন তিনি বাংলাদেশের রংপুরে চলে আসেন ও সেখানে তার সমাধী হয় ।

এখন প্রশ্ন হল যে ;-

() ভারত যদি দারুল হারব  হত তা হলে শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) এর ছাত্র কারামত আলী যৌনপুরী কেন বিরোধিতা করল ? 

(২) কারামত আলী যৌনপুরী প্রকাশ্য শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) এর ফতোয়ার বিরোধিতা করার কারনে কেন দালাল হবে না ? 
যদি আলা হযরত দালাল হতে পারে ! 

(২) ফতোয়ার বিরোধিতা করার পরে ও কেন আপনাদের মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আহমেদ কারামত আলী যৌনপুরী কে সাথে রাখলেন ?  

(৩) কারামত আলী যৌনপুরীর বিরোধিতার পরে ও কেন সরিয়ত বিষয়ক ফায়সালা তার কাছে থেকে নেওয়া হয় ? 

কারামত আমি যৌনপুরী বিষয় ৩ টা প্রশ্ন থাকল । উত্তর তাই 


এখন বিষয় হল শাহ ইসমাইল দেহলভী ।

আপনাদের মতো শাহ ইসমাইল একজন শহিদ ও তার সাথে আপনাদের মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আহমেদ এর শিপাহসালার ছিল ।

আর আপনাদের দাবি মোতাবেক তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুগ্ধ করেছেন ও শহিদ হয়েছেন ।

সত্যি কথা বলতে কি আমাদের কাছে তথ্য আছে অন্যরকম । 
যে তথ্য গুলোর জবাব আপনার কাছে থেকে আশা করতেছি । 

(১) প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা মির্যা হায়রাত দেহলভী তার কিতাব (হায়্যাতে তাইয়েবা ) কোলকাতার যখন শাহ ইসমাইল শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ওয়াজ শুরু করলেন , শিখদের অত্যাচার ও নির্যাতনের বর্ননা দেয়া শুরু করলেন , তখন এক বেক্তি বললো , আপনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফতোয়া কেন যারী করেন না ? 
তদুত্তরে কিনি বললেন , তাদের (ইংরেজ ) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কোন মতেই ওয়াজীব (অপরিহার্য ) নয় । একে তো আমরা কাদের প্রদান , দ্বীতিয়ত তারা আমাদের ধর্মিয় কোন কালো হিন্দু মাত্র সমস্যা সৃষ্টি করতেছে না । তাদের শাষনআমলে আমাদের সব দিক দিয়ে স্বাধীনতা আছে । বরং তাদের উপরে কেউ হামলা করলে মুসলমানদের উপর ফরজ হবে হামলাকারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং আমাদের সরকারের গায়ে আচর ও লাগতে না দেওয়া (
সুত্র ;- হায়্যাতে তাইয়েবা কিতাব টা মির্যা হয়রাত দেগলফার লিখিত শাহ ইসমাইলের জীবনি গ্রন্থ , অবশ্য তাতে সাইয়েদ আহমেদ এর জীবনির কিছু কথা তুলে ধরা হয়েছে , পৃষ্টা নং ২৯৬ , 
তারিখ এ আজীবাহ পৃষ্টা নং ৭৩ 

উল্লেখিত তথ্য ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুগ্ধ করা ওয়াজীব নয় বলে ফতোয়া দেয়ার কারনে শাহ ইসমাইল কেন ইংরেজদের দালাল নয় ? 

প্রশ্ন নং ২ ;- মুহাম্মদ জাফর থানেশ্বরী লিখিত কিতাব তারিখ এ আজীবাহ এর ৯১ পৃষ্টাৎ শাহ ইসমাইলের একটা বক্তব্য তুলে ধরেছেন যে , শাহ ইসমাইল বলেছেন ;- আমরা ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে কি কারনে যুদ্ধ করব ! এবং  ধর্মিয় মুলনিতির বিরোধিতা করে কেন উভয় পক্ষের রক্ত প্রবাহিত করব ? ( তারিখ এ আজীবাহ পৃষ্টা নং ৯১) 

এমন স্পষ্ট বক্তব্য থাকার পরে ও শাহ ইসমাইল ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুগ্ধ করার গৌরব পেল ? 

আর এমন কথা পলার পরে কি করে মুজাহিদ ও শহীদ হল ? 

আর কেন শাহ ইসমাইল ইংরেজদের দালাল হবে না ? 

মৌলভী আব্দুর রহিম সাদেকপুরী লিখেছেন যে ;- সাইয়েদ আহমেদের লোকজনের কর্মতৎতপরতা এমন ছিল যে , তিনি একদিকে শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে জনসাধারণ কে উদ্ভুদ্ধ করতেন অন্যদিক ব্রিটিশ সরকারের শান্তি প্রিয়তার প্রস্ংসা করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে মোতাবেলা করতে বাঁধা দিতেন ( মাক্বালাত ই স্যার সাইয়েদ ) পৃষ্টা নং ২৫২ 

কি বলবেন ? কারা দালাল ? সাইয়েদ আহমেদ ? নাকি আব্দুর রহিম ? 

তারপরে দেখুন ;- সাইয়েদ আহমেদের জীবনি চিটিপত্র ও পুস্তকাদিতে ২০ এর বেশি বিবরন এমন পাওয়া গেছে যে ;- সে গুলোকে খোলাখুলি ও প্রকাশ্যভাবে সাইয়েদ আহমেদ সাহেব শরিয়াতের দলিলাদির নিরিক্ষে তার অনুসারী লোকদের কে ইংরেজদের বিরোধিতা করতে নিষেধ করেছেন ( প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা জাফর থানেশ্বরী লিখিত তারিখ এ আজীবাহ পৃষ্টা নং ৩৩৬) 

এমন কি তারিখ এ আজিবাহ এর ২০১ নম পৃষ্টা তে জাফর থানেশ্বরী লিখেছেন যে ;- মৌলভী ইসমাইল ঘোষনা দিয়ে রেখে ছিলেন যে , ইংরেজ সরকারকে বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা না ধর্মিয় দৃষ্টিকোন থেকে ওয়াজীব , আর না তাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ আছে ( তারিখ এ আজিবাহ ) 

উপরের তথ্যগুলো থেকে স্রষ্টার বক্তব্য থাকার পরে ও কেন সাইয়েদ আহমাদ ইংরেজদের দালাল বলে গন্য হবে না ? 

জবাব দিবেন কি ?

নাকি এই কারে দালাল হবে না যে ;- দেওবন্দিরা সত্য কবুল করতে পারে না তাই তিনি দালাল হবেন না ! 

উপরের কথা গুলো থেকে এটা তো সুষ্পষ্ট যে তারা ইংরেজ সরকার কে মুজিবের সরকার মনে করতেন । 

কিন্তু তারা আবার মাঝে মাঝে বলে থাকে যে ইংরেজদের শিখ সৈন্য বাহিনির সাথে যুদ্ধে করে শহিদ হয়েছেন ।

এই বিষয় টা আজ দেখা যাক ;--

প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা জাফর থানেশ্বরী তার কিতাব (সিরাতে সাইয়েদ আহমেদ ) এ লিখেছেন যে ;- যখন গোলাব সিংহ ও ইংরেজদের মধ্য পারষ্পরিক চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল , তখন ইংরেজ সরকার একটু চিটি মোলভী বেলায়েত আলীর নামে লিখেছিল ।তাতে লেখা হয়েছে যে ;- এখন গোলাব সিংহ ইংরেজ সরকারের পক্ষে আছেন , এখন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে করা খোদ ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সামিল ।সুতরাং এখন তোমাদের উচিত তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিগ্রোহ না করা ( জাফর থানেশ্বরী লিখিত তারিখ এ আজিবাহ পৃষ্টা নম ২১৬) 

এর পরে জাফর থানেশ্বরী লিখেছেন যে;- এরপর মুজাহিদিন যুদ্ধে বন্ধ করে দিল ও হাতিয়ার গুলো সরকারকে কাছে জমা দিয়ে ন্যায্য মুল্য আদায় করে নিল ইংরেজদের মুজাহিদদের শানদার অভ্যর্থনা জানালো ও তাদের কে দাওয়াত ও করল ( তারিখ এ আজিবাহ পৃষ্টা নং ২১৬) 

কি বলবেন এখন ? 

মৌলভী ইসমাইল সাহেব পানিপথির একটা টিকা তুলে ধরেছেন (মাক্বালাত এ স্যার সাইয়েদ ) কিতাবের ১৬ খন্ডের ২৪৯ নং পৃষ্টাতে যে ;- সাইয়েদ আহমেদ বেরেলভীর সমসাময়িক কোন ইতিহাসবেত্তা ইঙ্গিত এ ও কোন ইশারা দেন না যে তিনি ইংরেজদের শত্রু ছিলেন বা তাদের (ইংরেজদের ) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন বা ইচ্ছাটুকু পোষন করতেন ।
সেই সমসাময়িক ইতিহাসবেত্তাদের স্পষ্ট বর্ননা থাকার পরেও ১১৭ বছর পরে এ কথা বলা যে ;- না , হযরত শহীদ তো ইংরেজদের বিরুদ্ধ যুদ্ধ করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষন করতেন । এটা এমন একটা দাবি যে , যা প্রমান করার জন্য কোন যুক্তিগত ও উদ্ধৃতিগত কোন প্রমান নাই ( মাক্বালাত ই স্যার সাইয়েদ আহমেদ ) ১৬ খন্ড ২৪৯ নং পৃষ্টা ।

মজার কথা হল যে আপনার এমন দাবি করতেছেন , যেখানে কোন প্রমান নাই যে সাইয়েদ ওহেদ ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।  বরং প্রমান আছে সাইয়েদ আহমেদ ইংরেজদের দালালি করেছেন।  তা আপনাদের কিতাব থেকেই ।

আমি এই বলতে চাই যে আপনাদের দেওবন্দিদের কোন কিতাব থেকে যদি দেখাতে পারেন শাহ ইসমাইল ও সাইয়েদ আহমেদ কোন একটা ইংরেজ কে লক্ষ্য করে একটু বন্দুকের গুলি ছুড়েছে, আমি দেওবন্দি হয়ে যাব ।

আর না পারলে আপনারা তওবা করুন ।

জাফর থানেশ্বরী আরও লিখেছেন যে ;- এসব ঘটনা সংশ্লিষ্ট পুস্তক পুস্তিকা থেকে এটা সুস্পষ্টত ভাবে প্রমানিত যে সাইয়েদ আহমেদের ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে করার কোন ইচ্ছাই ছিল না । তিনি মুক্ত রাজত্বকাল নিজেরই রাজত্ব মনে করতেন । আর এতে ও সন্দেহ নাই যে , যদি ইংরেজ সরকার সাইয়েদ আহমেদের বিরোধি হত তবে কি করে হিন্দুস্তান থেকে তার কাছে সাহায্য পৌঁছাত ? 
তারিখ এ আজিবাহ পৃষ্টা ১৮৩ ।

এখন আপনি ও আমাকে জবাব দিন।  যদি ইংরেজ সরকার সাইয়েদ আহমাদের বিরোধি হত তা হলে ভারত থেকে চাঁদা তুলে তুলে কি করে সেই অর্থ সাইয়েদ আহমেদের কাছে পৌঁছাত ? 

জানি জবাব দিতে পারবেন না আর বিস্বাস ও করবেন না ।

কিন্তু যদি আপনাদের ঘরের কোন আলেম বলে এই কথা যে ইংরেজদের সাহায্য পেতেন সাইয়েদ আহমেদ তা হলে মনে হয় মেনে নিতে কষ্ট হবে না ।

আপনাদের ঘরের লোক হুসাইন আহমেদ মাদানি কি বলে দেখুন ;--যখন সাইয়েদ সাহেব শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা পোষন করেন , তখন ইংরেজগন সস্তির নিস্বাস ফেলেন । আর যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনিয় সবকিছু সবরারাহ করতে সাইয়েদ সাহেব কে সাহায করলো ( নক্বশে হায়্যাত ) ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ১২ 

কি বলবেন এখন ? 

বলুন হুসাইন আহমেদ মাদানি একজন মুখ তোরা মুর্খ আমাদের রেজা খানিদের মত মিথ্যুক ইংরেজদের দালাল মোনাফেক ও ইংরেজ সরকার বিরোধি যুদ্ধে ওলামা দেওবন্দের বিরুদ্ধবাদি ছিলেন ।

এমন কথা মুখ থেকে এখন আপনাদের বের হবে না। কারন লোকটা যে আপনাদের ঘরের ও কিতাব টা আপনাদের ঘরেই লেখা হয়েছে ।
আল্লাহ কে ভয় কর সত্য কবুল করার মত মানসিকতা তৈরি কর ও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিওনা যে তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন ।


আরে দেখুন , মির্যা কাতরাত দেহলভী লিখেছেন যে ;- সিমান্তে যখন শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রত তা ইংরেজদের অবগত ছিল ও বিরোধিতা করেন নাই । বরং ইংরেজ সরকার থেকে চাঁদা তুলে তা পৌছানো হত আর ইংরেজরা তাতে বাঁধা দেন নাই । একবার যখন ৭ হাজার রুপির হুন্ডি সময় মত পৌছায়নি তখন মাওলানা ইসহাক্ব সাহেব ইংরেজ আদালতে মুকাদ্দমা করেন ।আর ইংরেজ সরকার জামায়াতে মুজাহিদিনের পক্ষে রায় দিয়েছিল, ফলে হুন্ডির টাকা সাইয়েদ আহমেদ পেয়ে গিয়েছিল( হায়্যাতে তাইয়েবা ) শাহ ইসমাইলের জীবনি গ্রন্থ ।

এখন আমাকে বলুন , এটা কি করে সম্ভব যে , সরকারি মহল থেকে চাঁদা তুলে তুলে তা সিমান্ত পাঠানো হল , আর ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হল , তবু ইংরেজরা কোন কথা বললো না , 

এর পরে টাকা না পাওয়ায় ইংরেজের আদালতে মামলা করা হল , উল্টা ইংরেজে রা ইংরেজবিরোধিদের পক্ষে রায় দিল ।

এটা কি করে সম্ভব যদি ইংরেজরা রা সাইয়েদ আহমেদের পক্ষে না থাকে বা সাইয়েদ আহমেদ ইংরেজদের সক্ষে না থাকে ? 


জাফর থানেশ্বরী আরে লিখেছেন যে , হজ্জে যাবার সময় ইংরেজরা সাইয়েদ আহমেদ কে খাদ্য সরবরাহ  করেছে ( তারিখ এ আজিবাহ পৃষ্টা ৬০-৬২ সিরাতে সাইয়েদ আহমেদ ১ং খন্ড পৃষ্টা নং ১৯০ মাঝখানে আহমদি পৃষ্টা ৬৭ 

খাদ্য সরবারহ এর ঘটনা বাংলাদেশের সিলেট এর ফুলতলার পীরের কিতাব থেকে তুলে ধরা হয়েছে উপরে  লিংক আকারে  ।
৭ নং লিংক দেখুন ।

এত গুলো ইংরেজপ্রিতির প্রমান থাকার পরে ও কি করে সাইয়েদ আহমেদ ও শাহ ইসমাইল ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন তার প্রমান পেশ করুন আমাকে ।

ইংরেজ সরকার কে কতটা ভালবাসত দেওবন্দিরা , যদি আর একটা প্রমান তুলে ধরি তা হলে আরো সুবিধা হবে বুঝতে ।

দেওবন্দিদের আজিমুশ্শান আলেম মুহাম্মাদ আহসান নানুতভী সাহেব একদিন বেরেলির নও মহল্লা মসজিদে মুসলমানদের সামনে বক্তব্য রাখল । তাতে বলেন ইংরেজে সরকারে বিরোধিতা করা আইন বিরোধি কাজ ( সিরাতে মাওলানা আহসান নানুতভী ) পৃষ্টা নং ৫০ ।

ইংরেজদের সমর্থনে দেয়া বক্তব্যের এতটা প্রভাব পড়েছিল যে , উক্ত পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- এই বক্তব্য বেরেলিতে আগুন জ্বলে উঠল । সমস্ত মুসলমান মাওলানা আহসান নানুতভীর বিপক্ষে চলে গেল । যদি শহরের কোতোয়াল শেখ বদরুদ্দিনের পরামর্শক্রমে মাওলানা বেরেলী ত্যাগ না করতেন তা হলে তার প্রান হুমকির সম্মুখীন ছিল (সিরাতে মাওলানা আহসান নানুতভী ) পৃষ্টা ৫০-৫১

এখন ওই আপনাদের ঘরের মাওলানা আহসান নানুতভী কে কি বলবেন ? এত ইংরেজ পিরিতি দেখানোর কারনে ? 




দেওবন্দিদের কিতাব (মাওলানা মুহাম্মাদ আহসান নানুতভী ) জীবনি গ্রন্থে লিখছেন যেটা উসমানিয়া লাইব্রেরি করাচি পাকিস্তান থেকে প্রকাশ করা হয় । স্বীয় গ্রন্থে লেখক লাহোর থেকে প্রকাশিত ১৯ ফেব্রুয়ারী ১৮৭৫ সনের আন্জুমান পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে ;- ১৮৭৫ সালের ৩১ জানুয়ারি রবিবার পামের নামের একজন ইংরেজ গোয়েন্দা অফিসার মাদ্রাসা পরিদর্শন করতে যান । পরিদর্শন রিপোর্টে তিনি বলেন যে ;- যে কাজ বড় বড় কলেজ সমুহে হাজার হাজার টাকা খরচ করে হয়ে থাকে , সে কাজ এখানে কয়েক টাকায় হয়ে যায় । যে কাজ প্রিন্সিপাল সাহেব হাজার টাকা বেতন নিয়ে করে থাকেন , সেখানে একজন মৌলভী ৪০ টাকা বেতন নিয়ে করছে ।এ মাদ্রাসা সরকার বিরোধী নয় বরং সরকারকে সমর্থনকারী ও সাহায্যকারী ( মাওলানা আহসান নানুতভী ) পৃষ্টা ২১৭ । 

উপরের কথা গুলে ভাল করে যদি পাঠ করে দেখেন তবে দেখতে পাবেন যে , সেই সময়ের দেওবন্দের আলেম সামাজ ইংরেজদের থেকে মাসিক বেতন পেত ৪০ টাকা ও সরকারের দালালি ও করত । যে কাজ কলেজের প্রিন্সিপাল রা হাজার টাকা নিয়ে করে থাকতেন । 
তবু ইংরেজদের দালাল আমরা , তারা তো ইংরেজদের বাফাদার ছিল । তারা বেতন পেত টাকা নিত কাজ করত। দালাল আমরা আর বাফাদার ( দায়িত্ব পালনকারী) তারা ছিল । 


বিগত দিনের দেওবন্দ মাদ্রাসার  মুহতামিম ক্বারী তৈয়ব সাহেব ( সাওয়ানেহে কাসেমী ) কিতাবের ২য় খন্ডের ২৪৭ নং পেজে লিখেছেন যে ;- দেওবন্দ মাদ্রসার ব্যাবস্থাপনা কমিটির অধিকাংশ সদস্য এমন বুযুর্গ ছিলেন যে তারা সরকারের প্রাক্তন কর্মকর্তা ও সেই সময়ের পেনশনভোগী ছিলেন ।যাদের সম্পর্কে সন্দেহ করা সরকারের কোনই অবকাশ ছিল না ।( সাওয়ানেহে কাসেমী ) ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ২৪৭ ।
 দেওবন্দের সাবেক মুহতামিম এই ক্বারী তৈয়ব সাহেব নিজের মুখে যেখানে বললেন যে যারা উপদেস্ঠা মন্ডলি ছিল মাদ্রাসার তারা সকলে সরকারের প্রাক্তন কর্মকর্তা ও পেনশনভোগী ছিলেন। আর তাদের বিষয় সরকার সন্দেহ করার সুযোগই পেত না । 

এখন কথা হল যে (- যারা সরকারের পেনশন খেয়ে পেট চালায় , যারা বিগত দিনে ও সরকারে হয়ে সাধারন ভারতীয়দের উপরে জুলুম করেছে তারা আজ অবসরে এসে ও সরকারের ছায়ায় (পেনশন) বসে আছে । তারা কি করে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ?  

তবু তাঁরাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে জেহাদ করেছে ।  আমারে কেউ ধর । 

একই কিতাবের পাতায় একটু নিচেই লেখা আছে যে ;- একবার সরকার থেকে একটা প্রতিনিধি দল এসেছিল । তখন মাদ্রাসা কমিটির সদস্যরাই এগিয়ে গেলেন ও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে নিশ্চয়তায় প্রদান করলেন । ফলে তা ফলপ্রসূ হল ও তারা ফিরে গেল  ( সাওয়ানেহে কাসেমী ) ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ২৪৭ । 

এর পরে ও তারা জেহাদ করেছে বলে যদি দাবি করা হয় তবে কি তা নিছক মিথ্যা নয় ? 



আরো দেখুন ;- একদিন মাওলানা কাসেম নানুতভী নানুতা যাচ্ছিল । পথিমধ্য ওনার নাপিত এসে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল এবং বললো যে নানুতার ওসি সাহেব এক মহিলার মিথ্যা অভিযোগের কারনে আমার নামে ওয়ারেন্ট বের করেছে । আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বাঁচান । 

মাওলানা মনসুর আলী খান বলেন যে মাওলানা নানুতা পৌছা মাত্রেই নিজের বেক্তিগত মুন্সি ( পি এ) ডেকে রাগান্বিত হয়ে বললেন যে ;- এই গরীব বেক্তিকে ওসি সাহবে বীণা দোষে অভিযুক্ত করেছে । তুমি তাকে বলে দাও এ আমার লোক । ও তাকে ছেরে দাও , যদি তুমি তার হাতে হাতকড়া পরাও তোমার হাতে ও হাতকড়া পড়বে ।সাওয়ানেহে কাসেমী ১ম খন্ড পৃষ্টা নং ৩২১ও ৩২২
।

ততক্ষনে নাপিতের নাম ডায়েরীতে লেখা হয়ে গিয়েছিল।  । পুলিশের ওসি  নানুতভীর কাছে এসে বললেন হুজুর , নাম লেখা হয়ে গেছে। নাম কাটা বড় অপরাধ । আমার চাকরী চলে যাবে ( কাসেম নানুতভী বললেন ওর নাম টা কেটে দাও। তোমার চাকুরি যাবে না ( সাওয়ানেহে কাসেমী ) ১ম খন্ড ৩২৩ 

এখন কথা হল যে সরকারের কত বড় উচ্চ পর্যয়ালের লোকদের সাথে ভাল সম্পর্ক হয়ে থাকলে এমন জোর দিয়ে পুলিশ কে ধমকি দেয়া যেতে পারে তা কি ভেবেছেন একবার ? 

উপরের কথা গুলো থেকে এটা সুস্পস্ট যে নানুতভীর সেই সময়ে ইংরেজদের অনেক বড় বড় লোকদের সাথে সম্পর্ক ছিল । না থাকলে কেউ এমন কথা বলতে পারে না । 

আর যদি এই নানুতভী সাহেব ইংরেজদের পালিত না হত তবে কি করে একজন থানার ওসি কে ধমকি দিয়ে কথা বলতে পারে ? 

আর ইংরেজদের এত প্রিয় হয়ে ও কি করে আবার জিহাদের নাম নিতে পারে ? 


আর ইংরেজদের সাথে ধর্মযুদ্ধের আর এক নতুন কাহানী শুনুন আজ । তা হল যে ;- সাওয়ানেহে কাসেমী ২য় খন্ড পৃষ্টা ১০৩ এ লিখেছেন যে ;- ইংরেজদের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধে করেছিলেন তাদের মধ্য মাওলানা ফজলুর রহমান গন্জ মুরাদাবাদী (রহ) ছিলেন অন্যতম ।হঠাৎ একদিন মাওলানা সাহেবকে দেখা গেল তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিদ্রোহি বাহীনির কোন এক চৌধুরির নাম ধরে তিনি বলতেছিলেন যে , এই যুদ্ধ করে কি লাভ ? আমি তো হযরত খুজির কে দেখতে পাচ্ছি ইংরেজদের দলে ( সাওয়ানেহে কাসেমী ) ২য় খন্ড পৃষ্টা ১০৩ । 

এখন কথা হল যে , যদি ইংরেজদের দলে হযরত খিজির (আ) কে দেখতে পান তিনি , তবে হজরত খিজির (আ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে করার পরিনিত কি হতে পারে ? একবার বিজ্ঞ পাঠাক বলবেন কি ? 

শুধু এখানেই শেষ নয় বরং আবার লেখা হয়েছে যে ;- স্বপক্ষ ত্যাগ করার পর যখন হযরত মাওলানা ফজলুর রহমান গন্জ মুরাদাবাদী (রহ) গন্জ মুরাদাবাদের এরটা পরিত্যক্ত মসজীদে আশ্রয় নিলেন , ঘটনাক্রমে সেই পথ দিয়ে ইংরেজ বাহানী যাচ্ছিল আর মাওলানা ফজলুর রহমান মসজীদ থেকে দেখেতেছিল । হঠাৎ মসজীদের সিড়ি  থেকে নেমে ইংরেজ বাহীনীর এক ঘোড় সওয়ার যিনি ঘোড়া ইত্যাদি রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে ছিলেন)ওর সাথে কথা বলে মসজিদের 
দিকে ফিরে আসতে দেখা গেল । 
এখন স্বরণ নাই যে , তাকে জিগ্গেস করায় নাকি নিজে নিজে বলেছিলেন যে , এই ঘোড় সওয়ার, যার সাথে কথা বলেছি তিনিই হযরত খিজির । 
আমি জিগ্গেস করলাম এটা কেমন ব্যাপার ? তিনি জবাব দিলেন এটাই হুকুম হয়েছে (সাওয়ানেহে  কাসেমী ) ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ১০৫ । 
উক্ত কথাটার টিকা তে লিখেছেনে যে ;- হজরত খিজিরের আগমেন উদ্দেশ্য কি ? হতে পারে হকের  নিদর্শনের একটা রুপক আকৃতি ছিল , যা এ নামে আত্বপ্রকাশ করেছে ।বিস্তারিত ভাবে জানতে শাহ ওলীউল্লাহ প্রমুখের কিতাবাদী পড়ুন ।সম্ভবত যা কিছু দেখা গিয়েছিল তা ছিল গোপন রহস্যের উদঘাটন ( উপরের রেফারেন্সের টিকা ) 


উপরের কথা গুলো থেকে স্পষ্ট যে তাদের মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেব ইংরেজদের দলে হযরত খিজির (আ) কে দেখছেন । এবং খিজির (আ) এ বলেছেন যে এটাই হুকুম হয়েছে ।উক্ত কথাটার ব্যাখ্যাতে  লেখা হয়েছে যে ;- খিজির (আর এর আগমন ইংরেজ দলে তা হকের পক্ষে থেকে নিদর্শন ।  এখন কথা হল যে এমন স্পষ্ট হকের পক্ষে থেকে নিদর্শন পাওয়ার পরেও যদি কোন বেক্তি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে করে তবে কি তাকে মুজাহীদ বা গাজী বলা যাবে ? আর যারা মরেছে তাদের কে কি শহিদ বলা যাবে ? 

এই হচ্ছে তাদের জিহাদ । যাতে করে মুজাহীদ বাহানা হযরত খিজিরের কথা শুনে পিছিয়ে যায় আর যুদ্ধ না করে । আসলে প্রথমে যে কথা টা লিখেছি ইংরেজ গোয়েন্দা পামের বলেছিল কলেজের প্রিন্সিপাল যে কাজ করে ১০০ টাকা নিয়ে এঅ মাদ্রাসার মওলভীরা করে ৪০ টা মাসিক বেতন নিয়ে । ইংরেজ দলে খিজির (আ) কে দেখে মাসিক বেতন ৪০ টাকার একটা খেলা ছিল মাত্র । এই তাদের জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ । 

 

আরো এক দালাল যিনি কিনা টাকা ও পেত । রশিদ আহমেদ গাংগুহির, তারা জীবনী গ্রন্থ তাজকিয়াতুর রশীদ কিতাবের লেখক আশেক ইলাহী মারাঠি লিখেছেন যে , তিনি ( গাংগুহী ) মনে করতেন যে ;- আমি যখন সরকারের অনুগত , তখন কোন মিথ্যা অভিযোগ আমার পশম ও বাঁকা করতে পারবে না , আর আমি যদি মারা ও যাই তা হলে সরকারই মালিক , ওর (সরকারের ) যা ইচ্ছা তা করার অধিকার রয়েছে ( তাজকিয়াতুর রশীদ ) ১ম খন্ড ৮০ পৃষ্টা । 


এর চেয়ে ও কি আরো বেশি কথা বলা প্রয়োজন আছে ? তবুও আমরা ইংরেজদের দালাল , আর তারা বাফাদার । তারা দালালি করে না বরং বাফাদারি করে । 

যদি বিগত দিনে ও লিখেছিলাম যে ;- তারা ইংরেজদের থেকে টাকা নিত তা আবার তুলে ধরলাম ;- মাকাল্লামাতুল সাদেরিন ) কিতাবের ৮-৯ নং পৃষ্টায় সাব্বির আহমাদ উসমানী লিখেছেন যে :- ইংরেজ হুকুমত থেকে আশরাফ আলী থানবী প্রতি মাসে ৬০০ রুপিয়া নিয়ে থাকত ও এই টাকা রশিদ আহমাদ গান্গুহির মাধ্যমে আসতো (মাকাল্লামাতুল সাদেরিন) সাব্বির আহমাদ উসমানী পৃষ্টা ৮-৯ 

সাব্বির আহমেদ উসমানি কিন্ত্ তাদেরই ঘরের লোক । তাদেরই আলেম । 




উপরের কথা গুলো দল মত বাদ দিয়ে নিরপক্ষ হয়ে যদি কেউ বিবেচনা করেন তা হলে খুশি হতাম ও লেখা টা সার্থক হত আমার । 

দেওবন্দিদের কিতাব মাকালামাতুস  সাদেরীন এ ৮ নং পেজে লিখেছেন যে ;- তাবলিগ জামাত চালু করার শুরুর দিকে ইংরেজদের কাছে থেকে সাহায নেওয়া হয়েছিল।  পরে তা বন্ধ হয়ে যায় । 

দেখুন তাবলিগ জামাত কে ।

তাবলিগ জামাত সৃষ্টির মুল উদ্দেশ্য ছিল , মানুষ কে দেশ ও জাতি থেকে দুরে রাখা । 

কোরান হাদীসের কোন কোকোক না করে তারা এই কথিত তাবলিগ চালু করেন ইংরেজদের ইশারা তে । যাতে মানুষ দেশ ও বর্তমান দেশের অবস্থার দিকে চোখ না দেয় ।
আর তাই হয়েছে। মানুষ কে তাবলিগের কথা বলে আল্লাহর কথা বলে ইংরেজদের বিরোধী আন্দলন ও যুদ্ধে যতটা সম্ভব তারা দুরে রাখতে চেষ্টা করেছেন ।

শুধু এই তাবলিগ জামাত নয় ।
বরং আরো অনেক দল বা হ্রুপ তৈরি করা হয়েছে ইংরেজদের ইশারায়।  যেমন দেখুন (-

মাকালামাতুস সাদেরীন কিতাবে আরো বর্ননা করা হয়েছে যে ;- কোলকাতার জমিয়তে ওলামা ই ইসলাম সরকারের আর্থিক সহয়তা ও ইঙ্গিত এ কায়েম হয়েছে ( মুকালামাতুস সাদেরীন পৃষ্টা নং ৭) 


শুধু তাই নয়। বরং মুসলিম লীগ  যখন গঠন করা হয় মুসলমানদের সারের রক্ষার জন্য তখন তারা মুসলিম লিগের কঠোর সমালোচনা করতেন  । দেখুন ;--
আশরাফ আলী থানভী সাহেব বলেছেন , বর্তমান মুসলিম লীগ কে ধর্মিয় দল বা শরিয়ত সমর্থিত দল হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না ( আশরাফুল ইফাদাত) পৃষ্টা ১২ 

দেওবন্দি মৌলভী আব্দুল জব্বার বলেছেন যে  এটা কি ভাবে সম্ভব যে , হাকিমুল উম্মত (থানভী ) মুসলিমলিগের মত একটা অধার্মিক দল কে সমর্থন করবেন ? ( আশরাফুল ইফাদাত পৃষ্টা ১৮)

কিন্তু তারা ছিল কমগ্রেসের জন্য নিবেদিত প্রান । আমি এই বিষয়ে যেতে চাই না মোটেই। বরং সত্য কথা হল যে তারা ইংরেজদের প্রেমে এতই মগ্ন ছিল যে , তারা পাকিস্তানের জন্মের ও বিরোধিতা করে থাকেন প্রচন্ড ভাবে ।
বরং সত্য কথা যা তাদের পীর আতাউল্লাহ বোখারী পাকিস্তানের দাবিদারদের কে শুয়ার ও শুকর খোর বলে সম্মোহন করতেন (চমনিস্তান , যোফর আলি খান লিখিত পৃষ্টা ১৬৫ ) 

এই বিষয়ে যেতে চাই না । 


তো কথা হল যে , ইমাম আহমেদ রেজা খান (রহ) বলেছেন আল্লাহর রহমতে হিন্দুস্তান দারুল ইসলাম ।  এটা বলা উনার ঠিক হয় নাই ।

ভাল কথা। আগে জেনে নেওয়া যাক , ।
দারুল হারব বলতে আপনি আপনার পোষ্ট এ লিখেছেন যে ;- যুদ্ধ কবলিত দেশ ।

আসলে দারুল হারব বলতে তাকে বুঝাত , আপ তা হল শত্রু কবলিত দেশ ।
কিন্তু আমি উপরে আপনাদের যাই ইসমাইলের বক্তব্য তুলে ধরেছি । আবার ও কুলে ধরলাম যদি না দেখে থাকেন ;-তারপরে দেখুন ;- সাইয়েদ আহমেদের জীবনি চিটিপত্র ও পুস্তকাদিতে ২০ এর বেশি বিবরন এমন পাওয়া গেছে যে ;- সে গুলোকে খোলাখুলি ও প্রকাশ্যভাবে সাইয়েদ আহমেদ সাহেব শরিয়াতের দলিলাদির নিরিক্ষে তার অনুসারী লোকদের কে ইংরেজদের বিরোধিতা করতে নিষেধ করেছেন ( প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা জাফর থানেশ্বরী লিখিত তারিখ এ আজীবাহ পৃষ্টা নং ৩৩৬) 

এমন কি তারিখ এ আজিবাহ এর ২০১ নম পৃষ্টা তে জাফর থানেশ্বরী লিখেছেন যে ;- মৌলভী ইসমাইল ঘোষনা দিয়ে রেখে ছিলেন যে , ইংরেজ সরকারকে বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা না ধর্মিয় দৃষ্টিকোন থেকে ওয়াজীব , আর না তাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ আছে ( তারিখ এ আজিবাহ ২০১ নং পৃষ্টা ।

এখন কি বলবেন।  বরং সত্য বলতে তো এটা যে , যে কথা টা আমরা বার বার বলে থাকি , ইংরেজগন আপনার সাইয়েদ আহমেদ ও শাহ ইসমাইল কে ব্যাবহার করেছে পান্জাবের রনজিৎ সিংক কে দমন করার জন্য ।

আর যখন শিখ গন ইংরেজদের সাথে সন্ধি করল তখনকার ঘটনা উপরে তুলে ধরেছি আমি যে ;- প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা জাফর থানেশ্বরী তার কিতাব (সিরাতে সাইয়েদ আহমেদ ) এ লিখেছেন যে ;- যখন গোলাব সিংহ ও ইংরেজদের মধ্য পারষ্পরিক চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল , তখন ইংরেজ সরকার একটু চিটি মোলভী বেলায়েত আলীর নামে লিখেছিল ।তাতে লেখা হয়েছে যে ;- এখন গোলাব সিংহ ইংরেজ সরকারের পক্ষে আছেন , এখন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে করা খোদ ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সামিল ।সুতরাং এখন তোমাদের উচিত তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিগ্রোহ না করা ( জাফর থানেশ্বরী লিখিত তারিখ এ আজিবাহ পৃষ্টা নম ২১৬) 

এর পরে জাফর থানেশ্বরী লিখেছেন যে;- এরপর মুজাহিদিন যুদ্ধে বন্ধ করে দিল ও হাতিয়ার গুলো সরকারকে কাছে জমা দিয়ে ন্যায্য মুল্য আদায় করে নিল ইংরেজদের মুজাহিদদের শানদার অভ্যর্থনা জানালো ও তাদের কে দাওয়াত ও করল ( তারিখ এ আজিবাহ পৃষ্টা নং ২১৬) 


এই হচ্ছে আপনাদের প্রকৃত জীহাদ । 
তা ছারা রনজিত সিংহের সাথে সাইয়েদ আহমেদের দস্যু জীবনের একটা চরম দুশমনি আছে যা আমি লিংক আকারে তুলে ধরেছি উপরে WWW HUNTER এর কিতাব ইন্ডিয়ান মুসলিম কিতাবের বরাত দিয়ে ।
বরং এটার একটা চুড়ান্ত ফায়সালা হয়েছে বালাকোট এ। 

আর অন্য কথা হল যে , আপনি বলেছেন আলা হযরত ইমাম আহমেদ রেজা খাল বলেছেন ভারতবর্ষ দারুল ইসলাম তথা ইসলামি দেশ ।


আপনি ওনার সাথে লিখিত তর্কে লিপ্ত হয়ে উত্তর চেয়েছেন , আর ওয়াদা করেছেন যে পাল্টা জবাব দিবেন । কিন্তু আপনার জানা নাই যে , দারুল ইসলাম মানে ইসলামি দেশ নয় বরং মুসলমানদের বসবাসের উপযোগি দেশ ।

আমাদের বাংলাদেশ দারুল ইসলাম।  কিন্তু ইসলামি দেশ নয়। ভারত ও তাই ছিল । 

আর উপরে অনেক বর্ননা তুলে ধরেছি আমি যে আপনাদের আলেম থানভী , নানুতভী , গাংগুহী , শাহ ইসমাইল , সাইয়েদ আহমেদ  সকলের বক্তব্য থেকে যে তারা ইংরেজের এক ভক্তি ছিলেন যে গাংগুহী তো বলেছেন আমি মরলে লাশের মালিক ইংরেজ রা ।

তবু তারা মুজাহীদ ।
আর আলা হযরত শুধু বলেছেন এই দেশ মুসলমানদের বসবাসের উপযোগি ।

তাতেই তিনি দালাল হয়ে গেলেন ? 

আল্লাহ কে ভয় করুন। 

বরং পিছনের দিন মনে করে দেখুন। সত্য কথা হল যে আলা হযরতের সেই ফতোয়া কিতাব , যাতে ক্বাদীয়ানি দেওবন্দির অনেক বাঘা আলেম কে তিনি কাফের ফতোয়া দিয়েছেন।  এই দালাল বলে অপবাদ দেওয়া মুলত সেই ফতোয়ার একটা হিংসা মুসক জবাব ।

তোমাদের সকলের নামে এমন কি দেওবন্দ চলন্ত ইংরেজদের টাকায় তার ও প্রমান আছে। 


কিন্তু তুমি কি প্রমান করতে পারবে , আলা হযরত কে মাসে কোন ইংরেজ ১০ টাকা করে দিত বা ইংরেজদের দেয়া কোন উপাধি পেতেছেন বা কোন ইংরেজ ওনার প্রশংসা করেছেন ।

পারবে না। আল্লাহ কে ভয় কর ।

আর বলেছ যে , তোমরা জংগিবাদ কর না ।

ভাল কথা মেনে  নিলাম । 

এখন আমাকে বল যে পাকিস্তান তালেবান জংগল গুস্টি কি দেওবন্দি নয় ?
আফগানিস্তানের তালেবান কি দেওবন্দি নয় ? 

মুফতি ইজহারুল কে বাংলাদেশ পুলিশ কি কারনে গ্রেফতার করেছে? 
মুফতি ইজহারুলের মাদ্রাসায় বোমা বানানোর সময় কি বিষ্ফোরণ হয় নাই ? 

এই তথ্য গুলো কি করে মিটাতে চাও ? 

পাকিস্তানি জংগী গোষ্টি আহরার পার্টির কি দেওবন্দিদের নয় ? 

বরং মুল কথা হল পাকিস্তানের যত নাশকতা করা হচ্ছে তার অধিকাংশ করতেছে ভারত সরকার দেওবন্দের সহায়তায় ।

আর আমারে বলতেছ ইহুদিদের দালাল ? 

বরং তোমাদের হিন্দু পিরিতি ও ইংরেজের পিরিতি ইংরেজদের শাওনের লিখিত কবিতা নেহেরুর সামনে লিখিত কবিতা গান্ধির শোনে লিখিত কবিতা গুলি যদি আমি তুলে ধরি তবে এমন বড় এটা পোস্ট এ পরিনত হবে 

সত্য কবুল করতে শিখ।   তওবা কর এমন দেওবন্দি আকিদা থেকে। 

আর এটা ও শুনে রাখ , আমি আলা হযরতের মুরিদ না , তিনি একজন হক আলেম। আমি ওনাকে সম্মান করি 

আমি মোজাদ্দেদিয়া তরিকার মুরিদ । 
তরিকায খাস মুজাদদেদিয়া 
রংপুর জীলা বদরগঞ্জ থানা , 
হাকিমাবাদ . নাটারাম ।


সোহেল রানা ।