শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হাজীর নাযির আপত্তির জবাব -২

আপত্তি নং (৬) 

খৃষ্টানদের আক্বিদা হল হযরত ঈসা আঃ সর্বত্র বিরাজমান, 

তথা হাজির নাজির। 

যেমনটি লিখেছেন খৃষ্টান পাদ্রী ইমাদুদ্দীন তার রচিত “তাফতীশুল আওলীয়ায়। তিনি লিখেন- 

ঈসা আঃ প্রত্যেক স্থানে হাজির ও নাজির।

{তাফতীশুল আওলিয়া-১০৮}

খৃষ্টানদের আক্বিদা হল যে মজলিস ঈসা আঃ এর নামে করা হয়, সেখানে ঈসা আঃ উপস্থিত হন।

ঈসা আঃ বলেন-“কেননা যেখানে দুই অথবা তিনজন আমার নামে একত্র হয়, সেখানে আমি তাদের মাঝে উপস্থিত হই”। {ইঞ্জিল, মথি, অধ্যায় ১৮, পরিচ্ছেদ-২০}



জবাব ;- আমি আসলে ইসলাম এ শিক্ষা শেষ করতে পারি নাই , তবে খৃষ্টীনদের নিয়ে কি গবেষনা করব বলুন ? 

আমার জানা নাই হযরত ইসা (আ) সর্বত্র হাজীর ও নাযির কি না , 

আর আমার এটা ও জানা নাই যে ওনার নামে কোন মাহফিলে ওনি আদৌউ আসে কি না । 

তবে এটা জানি , যখন কোন দেওবন্দি বিপদে পড়েন , তখন দেওবন্দি আলেমগন কবর থেকে উঠে এসে তাদের কে সাহায্য করেন , ঝগরা লাগলে মিটিয়ে দেন , বাহাস এ তর্ক করেন , দিলের মধ্য জ্ঞানের সাগর বইয়ে দেন ।এমন ওনেক কিছু।  এ ক্ষেত্রে কিন্তু খৃষ্টীনদের দাবি মতে হযরত ইসা (আ) এর মতই ক্ষমতাবান দেওবন্দি আলেমগন। গত কালকের পোষ্ট দেখুন। বিস্তারিত  প্রমান দেয়া আছে । 



তার একটা মিথ্যাচার ;------দেখুন ।



হাজীর হওয়া আল্লাহ তাআলার সিফাত নয়। কারণ হাজির অর্থ হল যিনি আগে ছিলেন না, এখন এসেছেন, আর এমন বিশ্বাস আল্লাহ তাআলা ক্ষেত্রে বলা কিছুতেই জায়েজ নয়, 

আর নাজির হল দ্রষ্টা। আল্লাহ তাআলারতো কোন চোখই নাই, তাই তিনি আমাদের মত দেখবেন কিভাবে? 

তাছাড়া হাজির নাজির যদি আল্লাহর সিফাতই হইতো, তাহলে আল্লাহর নিরান্নবই নামের মাঝে এ সিফাতের কথা থাকতো। অথচ তা নেই। সুতরাং বুঝা গেল যে, এটা আল্লাহ তাআলার সিফাত নয়। বরং এটি মাখলুকের সিফাত। তাই এ সিফাতের অধিকারী হলেন রাসূল সাঃ ও বুজুর্গানে দ্বীন। {দ্রষ্টব্য-জাআল হক্ব ওয়া জাহাক্বাল বাতিল-১৫৩}


উপরের কথা গুলে তার মুখে ছুড়ে মারলাম।  

কারন আমার কাছে যা আল হক কিতাবের ৩ খন্ডই আছে । আমি তোমার চেয়ে শতবার ভাল করে পাঠ করেছি।  তুমি কিতাবের পাতা দাও যদি সত্যবাদী হয়ে থাক ।

আর আহমেদ ইয়ার খান নঈমি (রহ) ওনার কিতাব যা আল হক এর ২৫৭ নং পেজ ১ম খন্ডে লিখেছেন যে ;-আল্লাহ কে প্রত্যেক যায়গায় স্বীকার করা ধর্নহীনতা । প্র্ত্যক যায়গায় বিদ্যমান হওয়া খোদার রাসুলের বৈশিষ্ট ।আর প্রত্যেক যায়গায় খোদা কে হাজির নাযির স্বীকার করা হলেও খোদার রাসুলের বেলায় তা অস্বীকার করা যায় না । ( যা আল হক  খন্ড ১ পেজ নং ২৫৭ ) 

উপরের কথার সাথে এই কথা মিলিয়ে দেখুন তো কোন মিল আছে কি ? 
একেই বলে রংধনুর মিথ্যাচার । 


আর আমি পোষ্ট এর শুরুতেই বলেছি যে ;- তোমার রেফারেন্স ভুল । 
এবার এঅ ইবারত পুরাটাই ভুল। এর  আগে ও কিছু কিছু কথা এদিক সেদিক করা হয়েছে । 
আমি সেটা ধরিনাই। কিন্ত্ এত বেশি মিথ্যাচার শয্য করা অন্যায় হবে।  তুমি কিতাবের পাতা  পেশ কর । যা আপত্তি তুলেছ । 

আর যা আল হক কিতাবের আহমেদ ইয়ার খান নঈমি (রহ) যে বলেছেন আল্লাহ তায়ালা কে প্রত্যেক যায়গায় স্বীকার করা ধর্মহীনতা, তা তাদের কিতাবে ও বিদ্যমান আছে । 
প্রমান দেখুন :-(ইসলামি আকিদা ও ভ্রান্ত আকিদা ) নামক বই এ থানভী লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত মাওলানা হেদায়েত উদ্দিন রচিত কিতাবের ১ম খন্ডের পৃষ্টা নং ৪৯ এ লিখেছেন যে ;-হিন্দুদের বিস্বাস মতে ইশ্বর মানুষ , প্রানী , বৃক্ষ ,পাথর সবকিছুতেই প্রবেশ করেন ।এসব বিস্বাস পোষনকারী গনকে হুলুলিয়া বলা হয় ।এমন বিস্বাসী কুফরী ।

আর মাহমুদুল হাসান সাহেব আল্লাহ কে সর্বত্র প্রমান করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা কে বাথরুমে ডুকিয়ে দিয়েছে (নাউযুবিল্লাহ ) 


কিছু অপব্যাখ্যা দেখুন ;------চোখ খুলে মেশকাত শরীফের ১ নং খন্ডের ১৯৯ নং পৃষ্ঠায় দেখুন ইবারতের নিচে শহীদ অর্থ লিখা হয়েছে হাজির। আর প্রসিদ্ধ ডিকশনারী “সাররাহ”এ লিখা হয়েছে যে, শহীদ মানে হাজির ও স্বাক্ষ্য।

মিশকাত শরিফের ১৯৯ নং পেজ টা পেশ করুন যেখানে শহিদ মানে হাজির বলা হয়েছে । 

হাজীর কাকে বলে তা আপনার জানা নাই।  আগে হাজির এর অর্থ ভাল করে জেনে রাখবেন।  
শাহিদ মানে হাজীর এই কথা টা আরো একবার খতিয়ে দেখে নিন।  ও শাহিদ নামের অর্থ ব্যাখা জেনে নিন।  কারন  এই শাহিদ আপনার উপরে ওনেক ভারি পড়বে একটু নিচে গেলেই । 




আর এক অপব্যাখ্যা (-----
এমনিভাবে “বাসীর”এর অর্থ লিখা হয়েছে যে, দ্রষ্টা,তথা নাজির। দেখুন-“সাররাহ”-১৬০।

মাশা আল্লাহ।  সত্যি স্বীকার করেন আপনারা আর এক সত্যি কে অস্বীকার করার জন্য শুধু । 
তা হলে এ আয়াত ও স্বীকার করুন (

 يَاايُّهَاا لنَّبِىُّ اِنَّا اَرْسَلْنكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْرًا وَّدَاعِيًا اِلَى اللهِ بِاِذْنِه وَسِرَاجًا مُّنِيْرَا
। 
নাযির কথা টা কি দেখা যায় ? 

তা হলে কবুল করলেন নাযীর মানে দ্রষ্টা । এ আমাদের নবী আমাদের কে দেখেন । 


আর আল্লাহর নাম কত আছে তা নিয়ে তর্ক নেই আমাদের।  

কিন্ত্ আপনাকে যে কিতাবের  পাতা পেশ করতে বলেছি তে পেশ করুন।  কারন আপনি সীমাহীন মিথ্যাচার করেছেন । 


আর আল্লাহর চোখ প্রমান করতে চান নাকি আপনি ? 
আমরা কোরানে পেয়েছি আল্লাহ তায়ালা দেখেন।  কিন্ত্ আল্লাহ তায়ালার চোখ আছে এমন কোন বর্ননা যদি পেয়ে থাকেন আপনারা তবে পেশ করুন।  নির্ভরযোগ্য হলে মেনে নিতে আপত্তি নাই আমাদের ।

আল্লাহ দেখেন এটা মান্য করি। কিন্ত্ আল্লাহ কি ভাবে দেখেন তার চোখ কত টা আছে কেমন তা আমাদের জানা নাই।  যদি আপনার দানা থাকে কবে বর্ননা করুন।  
ইমাম আবু হানিফা (রহ) বলেন .

আল্লাহ তা‘আলার ছিফাতের সাথে মানুষের অর্থাৎ সৃষ্টির গুণের সাদৃশ্য হবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা জানেন। কিন্তু সৃষ্টির জানা তাঁর মত নয়। তাঁর ক্ষমতা-শক্তি সৃষ্টির ক্ষমতার মত নয়। তাঁর দেখা-শুনা, কথা বলা, মানুষের বা সৃষ্টির দেখা-শুনা বা কথা বলার মত নয়।

আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃঃ ৩০২।



তার আর এক ত্যানা পেচানো দেখুন ;---

সৈয়দ কাজেমি সাহেবের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন ;--
আল্লাহ তাআলার আসমায়ে হুসনার মাঝে হাজির নাজির কোন নাম নেই। আর কুরআন ও হাদীসে কোথাও হাজির নাজির শব্দ আল্লাহ তাআলার জন্য ব্যবহৃত হয়নি। সালাফে সালেহীনের কেউ আল্লাহর শানে এ শব্দ বলেন নি। কোন ব্যক্তি কিয়ামত পর্যন্ত একথা প্রমাণ করতে পারবে না যে, সাহাবায়ে কেরাম রাঃ অথবা তাবেয়ীগণ অথবা আইয়িম্মায়ে মুজতাহিদীনগণ আল্লাহর শানে হাজির নাজির শব্দ ব্যবহার করেছেন। {তাসকীনুল খাওয়াতীর-৩}

জবাবে সে লিখেছে ;-কাজেমী সাহেব স্বীয় দিলের উপর হাত রেখে (যদি দিল বলে কিছু থাকে) বলুন- উপরে বর্ণিত শুয়াবুল ঈমানে ১০৩০১ নং হাদীসে আল্লাহর শানে বলা ”নাজির”শব্দটি কি আপনার গোচরিভূত হয়নি? কি এটা হাদীস নয়।

এখন আমি বলছি তেতুল মাহমুদুল @ তুমি সীয় দিলের মধ্য হাত রেখে বল তো , আসমাউল হোসনার মধ্য যে ৯৯ টা নাম আছে , তাতে কি হাজীর ও নাযির বলতে আল্লাহর কোন নাম আছে ? 

এখন জবাব আসবে তোমার নাই।  তুমি মিয়া তেতুল আসমাউল হোসনার থেকে বর্ননা না দিয়ে শুয়াবুল ইমান কিতাবের রেফারেন্স কেন দিচ্ছ ? 
তিনি তো আসমাউল হোসনার কথা বলেছেন । 

   আর আল্লাহর শানে এমন কোন কথা কোন সুন্নি আলেম জীবনে ও বলতে পারেন না । আল্লাহ হাজীর ও নাযির । এটাই আমাদের আকিদা।  আপনি অপপ্রচার না করে সৈয়দ কাজেমি সাহেবের কিতাবের বাংলা বা উর্দু বা হিন্দি  যে কোন ভাষায় কিতাবের  পাতা পেশ করুন। 

এর আগে আমরা এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে বাধ্য নই ।


আর যে হাদিস ও কোরানের আয়াত দেয়া হয়েছে তাতে আমাদের কোন মত বিরোধ নেই।  বরং আল্লাহ দেখেন। তিনিই উপস্থিত আছেন। তিনি মনের কথা ও শোনেন। জোরে তাকে ডাকার ও দরকার নেই।  




আহমেদ ইয়ার খান নঈমি (রহ) তার কিতাব যা আল হক এ নিখেছেন যে ;- 
মালাকুল মওত সামনে পুরা দুনিয়া কে থালার মত করে দেয়া হয়েছে । তো যেখানে আল্লাহর একজন ফেরেস্তার সামনে পুরা দুনিয়া একটা থালার মত , সেখানে আল্লাহ ছারা আর কেউ হাযির নাযির নয় এই যুক্তি তোমাদের কোথায় থাকে ? 
আর আল্লাহর রহমতে আমাদের নবী ও হাযির ও নাযির ) 
এই কথা গুলোর খন্ডন করতে গিয়ে দেখেন কি কি লিখেছে ;- 

(১)

হযরত আজরাঈল আঃ কি একা একা জান কবচ করেন? না তার সাথে আরো ফেরেস্তা থাকেন? নিশ্চয় আরো অনেক ফেরেস্তা থাকেন। তাহলে একা রাসূল সাঃ সর্বত্র হাজির হওয়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে হাজার হাজার সাথি বেষ্টিত আজরাঈল আঃ এর উদাহরণ দেয়াটা কি যৌক্তিক হয়েছে?


জবাবা ;- তো তোমার কথা আল্লাহ তায়ালা স্বশরিরে সর্বত্র বিরাজমান । আল্লাহ সব কিছু দেখেন সব কিছু শোনান। তাকে জোরে চিৎকার করে ডাকার দরকার নেই ।

যদি তাই হয়ে থাকে , তবে ,,, কিয়ামতের দিনে ফেরেস্তাগন কে সাক্ষি দাড় করানো হবে কেন ? সব সময় মানুষের সাথে ২ জন ফেরেস্তা কেন ? আমাদের অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ সাক্ষি দিবে কেন ? আল্লাহ সব কিছুই দেখেন সব কিছুই শোনেন । 

তা হলে কিয়ামতের দিনে এই বৃথা সময় নষ্ট কেন ? নাকি আল্লাহ হাজীর নাযির নন ? 

জবাব দিবেন।  


একজন বাদশাহ যেমন ছোট থেকে ছোট কাজ নিজের হাতে করেন না , যদিও নিজ হাতে করতে সক্ষম , ঠিক তেমন আল্লাহ তায়ালা ও কোন কাজ নিজে করেন না । কারন এটা ওনার সম্মানের খেলাপ । এটা সারা জাহানের মালিকের জন্য শোভা পায় না । 

আর এটা ও জানি আমি আজকের পোষ্ট এর জবাব দেয়ার জন্য আগামী আরো ১৫ দিনের দরকার হবে আপনার ।


তার আপত্তি নং (২) 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাকে যে কাজ করার দায়িত্ব দেন তাকে সেই কাজ করার ক্ষমতাও দিয়ে দেন। আজরাঈল আঃ কে আল্লাহ তাআলা সকল মানুষের জান কবচের দায়িত্ব দিয়েছেন, তাই কিভাবে করতে হবে, একসাথে অনেকের জান কবচের ক্ষমতাও আল্লাহ পাক তাকে দিয়েছেন। আর রাসূল সাঃ কে যেহেতু আল্লাহ তাআলা সারা পৃথিবীতে ঘুরে ঘুরে উম্মতীদের অবস্থা দেখার দায়িত্ব দেন নাই। তাই তাকে এ ক্ষমতাও দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই।


জবাব ;-একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা । আল্লাহ তায়ালা  নবী (সা) কে দায়িত্ব দেন নাই তার উম্ম্তের খোঁজ খবর রাখতে ।

কিন্ত্ দেওবন্দি আলেমদের কে সেই ক্ষমতা ঠিকই দেয়া হয়েছে যাতে তারা মিত্তুর পর দেওবন্দিদের সমস্যা দুর করার জন্য তারা সাহায্য করতে পারেন।  কবার থেকে এসে বউয়ের জন্য মিষ্টি আনতে পারে , কবর থেকে একজনের দিলের মধ্য জ্ঞানের সমুদ্র বইয়ে দিতে পারে , ক্ষত মাতা নিয়ে সাইয়েদ আহমেদ শাহ ইসমাইল কেদার বখতের বাবা সাথে দেখা করতে পারে , কবরে থেকে এসে দেওবন্দিদের ঝগরা মিটিয়ে দিতে পারে , মোনাযেরা করতে পারে । 

উপরে যে ১৪ টা আপত্তি পেশ করা হয়েছে তা দেখুন । তাতে বিস্তারিত দেয়া আছে । 


আর সে উপরে লিখেছে ;- 

চোখ খুলে মেশকাত শরীফের ১ নং খন্ডের ১৯৯ নং পৃষ্ঠায় দেখুন ইবারতের নিচে শহীদ অর্থ লিখা হয়েছে হাজির। আর প্রসিদ্ধ ডিকশনারী “সাররাহ”এ লিখা হয়েছে যে, শহীদ মানে হাজির ও স্বাক্ষ্য।

একেই বলে তেতুল খোর দেওবন্দি।  যা তাদের মত সমর্থন করে তখন মেনে নিবে শাহিদ মানে হাজির । এর পর আর বাকি গুলো মান্য করবে না ।

এবার দেখুন এর ১২ টা কি করে বাজে ;---
১) يَاايُّهَاا لنَّبِىُّ اِنَّا اَرْسَلْنكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْرًا وَّدَاعِيًا اِلَى اللهِ بِاِذْنِه وَسِرَاجًا مُّنِيْرَا

[আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) কে সম্বোধন করে এরশাদ করেছেন, ওহে অদৃশ্য বিষয়াদির সংবাদদাতা! নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরন করেছি, হাযির-নাযির, সুসংবাদদাতা হিসাবে এবং ভয় প্রদর্শনকারী করেছি আল্লাহর নির্দেশানুশারে তার দিকে আহবানকারী এবং উজ্জল প্রদীপ হিসেবে]

শাহিদাও মানে হাজির । আর তুমি স্বীকার করেছ । 
তো উক্ত আয়াত বলে আমার নবী কি হাজির ও নাযির নয় ? 
আর যদি না হয় তবে কেন নয় ?  এখানে তো আল্লাহ তায়ালা শাহীদ (হাজীর ) বলেছে । 
এখানে শাহিদাও শব্দ কি ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয়েছে জবাব দাও ।

(২) وَكَذَالِكَ جَعَلْنَاكُمْاُمَّةًوَّ وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهْدْاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيْدًا

[এবং কথা হলো এই যে আমি (আল্লাহর তা’আলা) তোমাদেরকে (উম্মতে মুহাম্মাদী ) সমস্ত উম্মত গনের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করেছি ,যাতে তোমরা অন্যান্য লোকদের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করতে পার এবং এ রসুল (সাল্লাল্লাহু আল্লাইহে ওয়াসাল্লাম ) তোমাদের জন্য পর্যবেক্ষনকারী ও সাক্ষীরুপে প্রতিভাত হন ।
এখানে শাহিদ শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে । বল কেন আমার নবী হাজীর নয় ? 


৩) فَكَيْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ بِشَهِيْدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هؤُلَاءِ شَهِيْدًا

[তখন কি অবস্তা হবে ,যখন আমি (আল্লাহ তা’আল্লা) প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন করে সাক্ষী উপস্থিত করব ,এবং হে মাহবুব ! আপনাকে সে সমস্ত সাক্ষীদের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরুপে আনয়ন করব।

এখানে ও শাহিদ ব্যাবহার করা হয়েছে । তবে বল আমার নবী কেন হাজির নয় ? 

উপরে যে তুমি লিখেছ আল্লাহ আমার নবী কে দায়িত্ব দেন নাই তার উম্ম্তের খবর রাখার , ও কোন প্রয়োজন নেই ।
তবে এখানে হাজির কি করে হল তখন ? 
কিয়ামতের দিনে সাক্ষি হবেন কি করে যদি তিনি না দেখেন এসব । 

আর আমাদের নবী (সা) কে তো এই ক্ষমতা দেয়াই  হয়নি তোমাদের মতে , কিন্ত তোমাদের আলেম কে তো সেই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে , আর আমি তুলে ও ধরেছি উপরে , আমি জানি তা ভাল করে । 

আপত্তি (৩) 
সে লিখেছে মালাকুল মওত (আ) একই সময় ওনেক যায়গায় জান কবচ করেন ।এতে যদি বলা তিনি ও হাজীর নাযির  , তবে নবী (সা? হাজির নাযির হওয়ায় কি বৈশিষ্ট থাকল ? 

জবাবে আমি বলব যে ;- আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও আমাদের নবী রাহমাতুল্লিল আলামিন । 

আমাদের নবী ও আলামিন আল্লাহ ও আলামিন । 
তো এখানে আলামিন শব্দ নবীর শানে ব্যাবহার করার কারনে আল্লাহর শানে যে আলামিন বলা হয়েছে তাতে কি কোনই বৈশিষ্ট নেই ? 

যদি বলেন আছে তবে আজরাইল (আ) এর সাথে হাজির শব্দ ব্যাবহার করার পরে ও আমাদের নবীর শানে হাজীর শব্দের বৈশিষ্ট্য কেন থাকবে না ? তার জবাব দেন ।


আর তার দুই মুখি ভাব দেখুন , সে লিখেছে ;- 
যদি বলা হয় যে, না আজরাঈল আঃ হাজির নাজির নয়, তাহলে আজরাঈল আঃ এর উদাহরণ দিয়ে রাসূল সাঃ এর হাজির নাজির প্রমাণিত হয় কি করে?

আপনি যে কোন এক নৌকা তে পা দেন। হয় আজরাইল (আ) কে হাজির স্বীকার করুন নয় তো অস্বীকার করুন।  বাকি টা আমরা দেখব ।

এর পর সে হাদিস পেশ করেছে (- নবী (সা) এর কবরের পাশে থেকে দরুদ পড়লে তিনি নিজে শোনেন ও দুরে থেকে দরুদ পড়লে ফেরেস্তা গন পৌছায় দেন।  রেফারেন্স ও দিয়েছে ।

জবাব ;- 
নবী কারীম (সা) কে জিগ্গেস করা হয়েছিল যে আপনার থেকে দুরে অবস্থানকারীদের দরুদের অবস্থা কি ? 
জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন যে , আমি আমার প্রতি মোহাব্বত কারীদের  দরুদ নিজে শুনি এবং তাদের কে জানি ( দালাইলুল খায়রাত পৃ ৮১) 

দেখুন:-
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ، ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَﻯ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻴًّﺎ ﻓَﻘَﺪْ ﺁﺫَﻧْﺘُﻪُ ﺑِﺎﻟْﺤَﺮْﺏِ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﻘَﺮَّﺏَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﺃَﺣَﺐَّ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻤَّﺎﺍﻓْﺘَﺮَﺿْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺰَﺍﻝُ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻳَﺘَﻘَﺮَّﺏُ ﺇِﻟَﻲَّ ﺑِﺎﻟﻨَّﻮَﺍﻓِﻞِ ﺣَﺘَّﻰ ﺃُﺣِﺒَّﻪُ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﺣْﺒَﺒْﺘُﻪُ ﻛُﻨْﺖُ ﺳَﻤْﻌَﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺴْﻤَﻊُ ﺑِﻪِ ﻭَﺑَﺼَﺮَﻩُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺒْﺼِﺮُ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﺪَﻩُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﺒْﻄِﺶُ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺭِﺟْﻠَﻪُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﻤْﺸِﻲ ﺑِﻬَﺎ  ﻭَﺇِﻥْ سَآَلنِى لَآُطَينَهُ وَلَئِن إِستَعَاذَنِى لَأُعِيذِنِهِ- 
 
 অর্থাৎ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার অলীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করে।আমার বান্দা নফল কাজের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। সে আমার কাছে কিছু চাইলে,আমি তাকে তা দেই। সে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যা করার ইচ্ছা করি,সে ব্যাপারে কোন দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগি না কেবল মু’মিনের আত্মার ব্যাপার ছাড়া। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি।
(বুখারী শরিফ হাদীছ নং-৬৫০২, মেশকাত শরীফ হাদীছ নং-২২৬৬)।

শত শত প্রমান আছে যে , আল্লাহর কাছে ফেরেস্তাগন বান্দাদের আল্লামা পেশ করে থাকেন।  এমন কি ফেরেস্তা গন লিখতেই আছেন । 
কিন্তু উপরে যে হাদিসে কুদসী দেয়া হয়েছে , তাতে স্পষ্ট একটা বিষয় মুহাব্বাত ।
আল্লাহ বলেন আমি বালেদার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে ,  তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে । 

এটা মুহাব্বাতের মধ্যেখানে ফেরেস্তাদের কোন স্থান নেই । আল্লাহর কিছু ওলি থেকে থাকেন যাদের বিষয় শুধু আল্লাহ অবহত থাকেন , কোন ফেরেস্তা ও থাকেন না।  এঅ সু মুহাব্বাতের বিষয় ।

ঠিক তেমনি আপনি মুহাব্বাতের সহিত নবীর প্রতি দরুদ পেশ করলে মাঝখানে কিছুই প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে না । তিনি নিজ কানেই শুনবেন । 

যেমন আপনাদের কায়েম নানুতভী সাহেব সুরা আহযাব ৩৩/৬ এর ব্যাখা দিতে গিয়ে তাহযিরুন নাস এর ১০ নং পেজে লিখেছেন যে , বিস্বাসীদের প্রানের চেয়ে ও নিচে তার নবী । 

আপ যদি এত নিতে হয়ে থাকেন নবী তবে সালাম কেন শুনবেন না ? 



অন্যখানে আরো বলা হয়েছে যে , সালামের আওয়াজ আমার কানে  পৌছে তা যেখানে পাঠ করা হোক না কেন ( হুজ্জাতুল্লাহিল আলা আলামিন ) পৃষ্টা নং ৭১৩ ।
উক্ত হাদিস ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ) বর্ননা করেছেন (আলাউল আফহাম )কিতাবের ৬১ নং পেজে ।

তো এখানে ও সালামের আওয়াজ কানে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে । 

আমার নবী আরো বলেছেন পুর্বে ও পশ্চিমে যে কেউ সালাম পেশ করবে , আমি ও আল্লাহর ফেরেস্তাগন সালামের উত্তর দেই ( আল আওজী, জালাউল আফহাম পৃষ্টা নং ১৯ । সামছুদ্দিন সাখাবী , আল কওলুল বদী পৃষ্টী নং ১৫৬ ।

তো আমার নবী ও সালামের জবাব দেয় আর ফেরেস্তাগন ও সালামের জবাব দেয়।  এর অর্থ এই যে , আমার নবী (সা) কে মুহাব্বাতের সহিত সালাম পেশ করলে আমার নবীই জবাব দিবেন , আর যদি কাম সাড়া নামে সালাম দেন তবে ফেরেস্তাগন জবাব দিবে । 


আর  বলব যে তোমাদের আলেম মাওলানা যাকারিয়া এর কিতাব (ফাযায়েলে দরুদ ) অধ্যায় ভাল করে পাঠ করতে । তা হলে এই দরুদ শোনা নিয়ে কোন আপত্তি থাকবে না । 


ফাজায়েলে আমল কিতাবের ফাযায়েলে দরুদ অধ্যায় তে বলা হয়েছে যে (- মানাবেজুল হাসানাত) গ্রন্থে ইবনে ফাকেহানীর কিতাব ফজরে মুনিহা কিতাব থেকে বলেছেন যে :-এক বুযুরগ বলিয়াছেন এক সময় এক জাহাজ ডুবিয়ে যাইতেছিল , আমি সেই জাহাজে ছিলাম । হঠাৎ আমার তন্দ্রা এসে যায় । আমি স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সা) কে দেখি । তিনি বলেন যে এই দরুদ লোকজনদের কে হাজার বার পাঠ করতে বল ।
উক্তি দরুদ তিনশত বার পড়তে পড়তে জাহাজ বিপদ থেকে রক্ষা পাইল ( ফাযায়েল এ দরুদ পেজ নং ৮২ কাহীনি নং ৪) 

আমার ভাই তাবলিগি । উপরে বলেছ তুমি যে , নবী কে এই কাজ দেয়া হয়নি যে তিনি ঘুরে ঘুরে উম্ম্তের খোঁজ নিয়ে বেড়াবেন । 
তো এখানে তোমাদের কিতাব থেকে তো এটা প্রমানিত যে , তিনি উম্ম্তের বিষয় সজাগ । এখন কি বলবেন ? 
আর দরুদ কাছে থেকে বললে শুনতে পায় দুরে থেরে পড়লে তিনি শোনেন না ! 

তো তোমার আলেম তাহযিরুন নাস কিতাবে তে বলেছেন বিস্বাসীদের কাছে নবী তার প্রানের চেয়ে ও কাছে ( তাহযিরুন নাস পেজ নং ১০ ) 

তো ভাই এটা কেমন কথা হল বলেন তো ? 

দুর কথা টা অর্থ  দুরত্ব করা হয়েছে আমাদের দেশে । আসলে এটা  দুরত্ব নয় । বরং   এটা মুহাব্বাতের দুরত্ব । 

কিছু কিছু মানুষের কথা আল্লাহ নিজে শোনেন । আবার কারো কারে কথা ওনার কাছে পৌঁছানো হয় । আবার কারো দোয়া পৌছেই না আল্লাহর দরবারে । তা শুধু জমা হয়ে থাকে । 
এই সব গুলো মুহাব্বাত এর বিষয়।  মুহাব্বাত সহ দরুদ পাঠ করলে আমার নবী নিজ কানেই শোনেন । যেমন ;- 
তাদের কিতাব কারামতে এমদাদীয়া তে লিখেছেন যে ;- আমি( মাওলানা মুহাম্মাদ হাসান , মৌলভী মনোয়ার আলী ও মোল্লা মহিবুদ্দিন হযরতের ( হাজী ইমদাদুল্লাহ)'র খেদমতে হাজীর হলাম একটা জরুরী কথা আরজ করার জন্য  ।হযরত নিয়ম মাফিক উপরে তলে গিয়েছিলেন , খবর দিয়ে ডাক দেয়ার মত কোন লোক ও ছিল না । ডাক দেয়া ও বেআদবি মনে হতে লাগল । তাই আমরা নিজেদের মধ্য পরামর্শ করলাম যে হযরতে কলবের প্রতি মনোনিবেশ করে বসে গেলে জবাব পাওয়া যাবে বা হযরত নিজে তাশরিফ আনবেন ।

কিছুক্ষন অতিবাহিত হতে না হতে হযরত উপর থেকে নিচে তাশরিফ নিয়ে এলেন ।
আমরা ক্ষমা চাইলাম যে ওই সময় হযরত সম্ভবত শুইয়েছিলেন , অনর্থক কষ্ট দিলাম ।
হযরত বললেন , কি করে শুইবো ? তোমরা তো আমাকে শুইতে দিলে না ( কারামত এ এমদাদীয়া , মাওলানা মোহাম্মাদ হাসান লিখিত . পৃষ্টা নং ;--১৩ )  

তো এখন কথা হচ্ছে যে , আমার নবীর কবরের পাশে গিয়ে যদি দরুদ পড়লে তিনি শোনেন ও দুরে ওনার প্রতি দরুদ পড়লে যদি উনি না শোনেন , তবে তোমাদের পীর সাহেব উপরের তলায় থেকে নিচে ওনার মুরিদের মনের কথা কু করে শুনতে পান ? 
মুরিদ নিচে থেকে নিজের জরুরাত কি করে উপরে পৌছে দিলেন ? মুখে উচ্চারন ও না করে । মোরাকাবা চুপ করে হয় , শব্দ করে নয় । 

এটা কি আমার নবীর ক্ষমতার চেয়ে তোমার পীরের পীর গীরি বেশি হয়ে গেল না ? 

ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ) ওনার কিতাব (আনিসুল জলীল)  এর ২২৭ নং পেজে লিখেছেন যে , রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমার ওফাতের পর বেশি বেশি করে দরুদ পড়বে ।তোমাদের দরুদ আমি সরাসরি শুনি ) 

হাফেজ ইবনে কাইয়্যুম তার কিতাব (জিলাউল ইহফাম) গ্রন্থের ৭৩ পৃষ্টায় ১০৮ নং হাদিসে বলেছেন যে ;- রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন যে কোন স্থানে যে কোন বেক্তি দরুদ পাঠ করলে পাঠকের আওয়াজ আমার কানে পৌছে ।এই রীতি আমার ওফাতের পরেও বলবৎ থাকবে ( হাফেজ ইবনে কাইয়ু্যম রচিত কিতাব জিলাউল ইহফাম পেজ নং ৭৩ হাদিস নং ১০৮)

আমি চাইলে এমন পাল্টা হাদিস দিতে পারি । কিন্ত্ হাদিস দিলে সে তার জবাবে অন্য হাদিস পেশ করবে ব্যাক্ষা ছারা । 
তাই তাদের কিতাবের কথা তুলে ধরলাম।  এবার তারে ও মুশরিক বলুক । 

আরো বলতে ইচ্ছা হচ্ছে যে ;- তারা শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিস এ দেহলভী (রহ) এর উত্তরসূরি মনে করে ও দাবি করে নিজেদের কে । শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিস এ দেহলভী (রহ) এর অমর গ্রন্থ মাদারেজুন নবুয়াত এর ১ম খন্ডের ১৩৫ পৃষ্টা ৫ম অধ্যায় এ লিখেছেন যে ;- কোন কোন আরেফ বেক্তি বলেছেন যে ;- তাশাহুদ ও আসসালামুআলাইকা আইয়্যুহান নাবী এই কারনে বলার প্রচলন করা হয়েছে যে , হকিকতে মোহাম্মাদি সৃষ্ঠি কুলের অনু পরমানু এমন কি সম্ভবপর সবকিছুতেই বিদ্যমান আছে , 

একই বংশের বিখ্যাত সুফি ও বুযুর্গ শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিস এ দেহলভী (রহ) লিখেছেন যে , আমি তার প্রতি যখনই সালাম পেশ করি , তিনি (নবী সাঃ) খুশি হন ও তা প্রকাশ করেন ।কেননা তিনি সারা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরুপ
 ( ফুযুজুল হারামাইন পৃষ্টা নং ৮৪-৮৫)

শাহ আব্দুল আজীজ (রহ) আরো বলেন যে ;- নবী কারীম (সা) সকল পাপ কে জানেন , তোমাদের আমলের স্তর সম্পর্কে অবগত , তোমাদের ভাল আমল অন্তরের নিষ্টা কপটতা সম্পর্কে ও অবগত ( সুরা নাহলের ৮৯ নং আয়াতের তাফসির , তাফসীরে আজীজি পেজ নং ৫১৮) 


আর কি বলতাম আমি ? আমার তো আরো ভাল করে ভাষা জানা নাই এর চেয়ে। 


এর পর সে লিখেছে হিজরত ;--- 
হিজরত মানে ছেরে দেওয়া । মক্কা থেকে মদিনায় চলে যাওয়ার কারনে যদি নবী (সা) কে হাজির মান্য করা হয় , তবে হিজরত অস্বীকার করা হবে ।
কারন তিনি তো সব যায়গায় হাজির ।

মিয়া ভাই। আল্লাহ তো হাজির। এটা মান্য করতে তো কষ্ট নেই। 

এখন আমাকে জবাব দিন যে ;-  
আল্লাহ তায়ালা যে রাতের তৃতীয় অংশে ৭ম আসমানে নেমে আসেন , তখন কি আল্লাহর আরশ খালি পড়ে থাকে ? 
আপনি তো আল্লাহ কে সর্বত্র হাজির মান্য করেন । তো আমাকে এটার ব্যাখা দিন যে , ৭ম আসমানে যখন আল্লাহ নেমে আসেন তখন আল্লাহর আরশ কি খালি থাকে ?  
৭ম আসমানে নেমে আসার মানে কি আল্লাহর আরশ ছেরে চলে আসা নয় ? 

আপনি এটার জবাব দিন । আমি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ব্যাখা পেশ করব। 


আর আমাদের ইমান হল ;--
ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-কে আল্লাহ তা‘আলার অবতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যে রাত্রের তৃতীয় অংশে সপ্ত আকাশে নেমে আসেন, এ নেমে আসাটা কেমন, কিভাবে নামেন, এটা বলার ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। কেমন করে নামেন এটা আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।আক্বীদাতুস সালাফ আছহাবুল হাদীছ, পৃঃ ৪২; শারহুল ফিক্বহুল আকবার, পৃঃ ৬০। 


আপনাকে যে প্রশ্ন করা হয়েছে , তার জবাব দিবেন।  কেমন। 

অনুরুপ আপনি মিরাজের কথা বলেছেন ;- যে নবী হাজীর নাযির হলে মিরাজে নিয়ে গেলেন কেন ? 

জবাব ;- আল্লাহ আপনার মতে সর্বত্র । তাই যদি হয় তবে মিরাজের রাতে নিয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ এর কেন দরকার ? 
আল্লাহ তো এখানেই দেখা করতে পারতেন ? 

আর আল্লাহর ইলম আমাদের কে পরিবেষ্টন করে আছে তা তো মান্য করতে কষ্ট বেশ আপনার।  তো জবাব দিন 
উপরের আপত্তি আল্লাহ ৭ম আসমানে নেমে আসেন তার জবাব দিবেন।  


তো মিরাজের রাতের বিষয় ও হিজরতের বিষয় খোলাসা হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ ।



সবার শেষে লিখেছে ;----

তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের খাস বৈশিষ্ট হাজির নাজির হওয়াটি রাসূল সাঃ এর জন্য সাব্যস্ত করাটা একটি শিরকী আক্বিদা ছাড়া কিছু নয়।

জবাব ;---- হাজীর নাযির হওয়ার মধ্য আল্লাহ হওয়ার কোন গুন নেই । 

যেমন আপনাদের আলেম থানভী লিখেছেন যে ;- অতি অল্প সময় পৃথীবি ভ্রমন করা নিয়ে আবু ইয়াজিদ কে জিগ্গেস করা হয়েছিল । তিনি বলেন যে , এটি কোন পুর্নতা জ্ঞাপক বৈশিষ্ট নয় ।দেখুন , ইবলিশ পৃথিবির পুর্ব থেকে পশ্চিম নিমিষেই অতিক্রম করে (হিফযুল ইমান  , পৃষ্টা নং ৭) 

তো নবী (সা) কে হাযির ও নাযির জ্ঞান করা তে এতে আল্লাহ হওয়ার কোন বৈশিষ্ট্য নেই । 
আপনি কয়েক যায়গায় আমার নাম নিয়ে বলেছেন যে (- সোহেল রানার মতে শয়তান ও হাজীর নাযির । এবার কিন্ত্ আমি তা আপনাদের কিতাবের রেফারেন্স দিয়ে দিলাম।  আশা করব এতে সোহেল রানার নাম আর আসবে না , কারন সোহেল রানা আপনার মত কানা হয়ে কথা বলে না প্রমান ছারা । 


আমাদের আকিদা হল ;--ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলার ছিফাত-এর সাথে সৃষ্টজীবের ছিফাতকে যেন সাদৃশ্য করা না হয় এবং আল্লাহ তা‘আলার ছিফাতের মধ্যে দু’টি ছিফাত হচ্ছে- তাঁর রাগ ও সন্তুষ্টি। রাগ ও সন্তুষ্টি কেমন একথা যেন না বলা হয়। এটাই হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের কথা। তাঁর রাগকে শাস্তি এবং সন্তুষ্টিকে যেন নেকী না বলা হয়। আমরা তাঁর ছিফাত সাব্যস্ত করব। যেমনভাবে তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি ও তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং কেউই তাঁর সমকক্ষ নয়। তিনি জীবিত, সবার উপর ক্ষমতাবান। তিনি শুনেন, দেখেন, সব বিষয় তাঁর জানা। আল্লাহর হাত তাদের সবার হাতের উপর। আল্লাহর হাত সৃষ্টির হাতের মত নয় এবং তাঁর মুখমন্ডল সৃষ্টির মুখমন্ডলের মত নয়

ফিক্বহুল আবসাত্ব, পৃঃ ৫৬।


এটা  আমাদের আকিদা । আল্লাহ হওয়ার জন্য হাজির হওয়া গায়েবের ইলম জানা কোন বৈশিষ্ট নয় । 


বরং আল্লাহর বৈশিষ্ট্য যে আল্লাহ কে কেউ পয়দা করেন নাই , আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষি নন , আল্লাহ কে কেউ জানান না । তার সৃষ্ঠি ও নেই ও তার সমাপ্তি ও নেই।  এটাই আল্লাহর সিফাত।  আমি উপরে ইমাম আবু হানিফা (রহ) এর বরাত দিয়ে তা প্রমান করেছি ।


ইমাম আবু হানিফা (রহ) আরো বলেন ;-

আল্লাহ তা‘আলার ছিফাতের সাথে মানুষের অর্থাৎ সৃষ্টির গুণের সাদৃশ্য হবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা জানেন। কিন্তু সৃষ্টির জানা তাঁর মত নয়। তাঁর ক্ষমতা-শক্তি সৃষ্টির ক্ষমতার মত নয়। তাঁর দেখা-শুনা, কথা বলা, মানুষের বা সৃষ্টির দেখা-শুনা বা কথা বলার মত নয়।

আল-ফিক্বহুল আকবার, পৃঃ ৩০২।



কাজেই আমাদের নবীর হাজীর হওয়া আল্লাহর মত নয় , আজরাইল এর হাজির নাযির হওয়া আল্লাহর মত , আল্লাহর দেখা শোনা সৃষ্টির  মত নয় । 

তার কথা বলা সৃষ্টির  কথা বলার মত নয় ।


তাই সৃস্টির কোন কিছুই আল্লাহর মত নয় । 


তাই মানুষ কে কি করে আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করা সম্ভব ? 


এর পর লিখেছে আমার জবাব দিবে ।


আমার জবাব দিতে হলে তোমাদের তেঁতুলের গাছ কে আনতে হবে । শুধু তেতুল দিয়ে কাজ হবে না ।



হাজীর ও নাযির নিয়ে আপত্তির জবাব -১


১ম পর্ব ,,,,,,,,,


আজ এক সপ্তাহ লেগে গেল (মাহমুদুল হাসান হানাফি)'র হাজীর নাযির নিয়ে পোষ্ট করতে । 

আর তার মতে আহমেদ ইয়ার খান নঈমি (রহ) এর লেখা কিতাবে (যা আল হক ) এ ভ্রান্ত বর্ননা করা হয়েছে । 

সে যে গুলো আপনি তুলে ধরে আমাদের কিতাব থেকে তা হল ;-


(১)প্রতি স্থানে হাজির হওয়া এটা আল্লাহ তাআলার সিফাত কখনোই নয়। আল্লাহ তাআলা স্থান থেকে পবিত্র। {জাআল হক্ব ওয়া যাহাক্বাল বাতিল-১৬১}


আপত্তি নং (২) 


আহমাদ ইয়ারখান সাহেব এর পর লিখেন-“আল্লাহ তাআলা প্রতিটি স্থানে বিদ্যমান মানাটা বদ্বিনী। প্রতি স্থানে বিদ্যমান হওয়াটা এটা রাসূল সাঃ এরই শান। {জাআল হাক্ব ওয়াযহাক্বাল বাতিল-১৬২}

সহীহ আক্বিদা°°°••••••

আপত্তি (৩) 

আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরাজমান তথা হাজির। 

কিন্তু কিভাবে হাজির তা আমাদের জানা নেই। 


জবাব ;--জবাব ;- ভাই। এটাই আমাদের আকিদা । আল্লাহ সুবহানু তায়ালা কোন স্থান ও সময়ের মুখাপেক্ষি নন । আল্লাহ তায়ালা যদি সব যায়গায় হাজীর হয়ে থাকেন , তা বলে আমাকে বলুন আপনার আল্লাহ (আমার নয় ) কোন কোন বাথ রুমে আর কোন কোন পতিতালয় এ আথে ? (নাউযুবিল্লাহ ) 


আর কোন কিছু হাজীর (উপস্থিত)  হতে হলে আগে অনুপস্থিত হতে হবে । এর পর হাজির হতে পারে কেউ।  অন্যথায় নয় ।


আপনি যে আপনার আল্লাহ কে সর্বত্র হাজীর মনে করেন তো আপনার আল্লাহ মনে হয় আগে অনুপস্থিত ছিল । তাই নয় কি । 


জবাব দিবেন এটার । 


আর আপনি বলেছেন ৩ নং আপত্তি দিয়ে যা আমি চিন্হিত  করেছি ;-

আল্লাহ হাজীর কিভাবে তা আপনার জানা নাই । 

আপনার না জানা টা প্রমান করে আপনার শিক্ষার সল্পতা । আগে জেনে নিন ওলামায় কেরামগন কি মত পেশ করেছে এই সকল বিষয় ।

আর আমি বিগত দিনে পোষ্ট করার পর ও আপনি এখন এটা অস্বীকার করতেছেন । কারন পোষ্ট করা হয়েছিল আপনার জবাব দিয়ে ।

এখন আপনি শুধু আমাদের ঘারে দোষে চাপানোর জন্যই এমন একটা সত্য গোপন করে যাচ্ছেন । 


তবু লিখে  দিচ্ছি আল্লাহ হাজীর এর ব্যাখা ;-


 সুরা হাদীদ এর ৪ নং আয়াতের (ওয়া হুয়া মা'আকুম আইনা মা কুনতুম) এর অর্থ করা হয়েছে , তোমরা যখন যেখানেই থাক না কেন , আল্লাহ তোমাদের সঙ্গেই আছেন ।কিন্ত্ তার এমত সঙ্গতা তার সত্তা ও গুনবত্তার মতই অনুরুপ্যহীন আঁকার ও প্রকার বিহিন ।তাই তোমরা বোধায়ত্ব করতে পারো না ।(তাফসির এ মাঝহারী) খন্ড ১১ পৃষ্টা ৩০২ ।


সুরা মুজাদেলা এর ৭ নং আয়াতের তাফসীরে আরো সুন্দর করে বলা হয়েছে যে আসলে আল্লাহর সত্তা থাকেন না আমাদের সাথে , থাকেন ওনার ইলম বা জ্ঞান ।দেখুন 


এরপর সুরা মুজাদালাহ এর ৭ নং আয়াত দিয়েছে । আল্লাহ তায়ালা নাকি হাজীর ও নাযির । 
আমাদের আরিদা হচ্ছে আলেলাহ তায়ালা যায়গা ও সময় থেকে মুক্ত । উপরোক্ত আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে যে ;- অধিকাংশ গুরুজন ঐক্যমত্য প্রকাশ করেছেন যে , এঅ আয়াতের দ্বারা উদ্দেশ্য হল معيت علمي আল্লাহ তায়ালার সত্তা বিদ্যমান থাকা নয় , তার ইলম সব যায়গাতে বিদ্যমান আছে ।এটাই উদ্দেশ্য , ৩ জনের সমাবেশে চতুর্থজন হবে আল্লাহর ইলম ( তাফসির ইবনে কাসীর ১৭ খন্ড সুরা মোজাদেলাহ এর তাফসীর আয়াত নং ৭ পেজ নং ৩৬২) 


তো আল্লাহ তায়ালা হাজীর ও নাযির বলতে ওনার সত্তা নয় বরং ওনার ইলম । আজ থেকে এটা আকিদা জেনে রাখুন। 


কিন্ত্ আমাদের আকিদা হল ( খোদা তো স্থানের গন্ডিতে আবদ্ধ নন) যা আল হক ১ম খন্ড পেজ নং ২৫৭ 

আবার ও বলা হয়েছে যে ;- আল্লাহর সত্তা প্রত্যেক যায়গায় বিদ্যমান মনে করা ধর্নহীনতা( যা আল হক ১ম খন্ড পেজ নং ২৫৭) 

আর উপরে যে রেফারেন্স দিয়েছেন যা আল হক কিতাবের তা মুলত ভুল। 
উপরে যে দুইটা রেফারেন্স আমি দিয়েছি তাই সঠিক।  কেমন।  পরে কোন সময় যদি অবার অপপ্রচার চালাতে হয় তবে রেফারেন্স টা ঠিক ভাবে দিয়ে দিও ।

এরপর সুরা মুজাদেলা সুরা হাদীদ ও অন্যান্য আয়াত দিয়েছে আল্লাহ তায়ালা কে সর্বত্র হাজীর নাযির প্রমান করার জন্য ।
আমি উপরে কিন্তু সুরা হাদীদ ৪ নং আয়াতের ও মুজাদেলা ৭ নং আয়াতের তাফসির পেশ করে প্রমান করেছি যে , আল্লাহ তায়ালা স্বশরিরে হাজির নয়। বরং ওনার ইলম (জ্ঞান ) আমাদের কে পরিবেষ্টন করে আছে। 
২ টা সুরার তাফসীরে যদি মন না ভরে তবে যে আয়াত গুলো দিয়েছেন তার সব গুলোকে তাফসীর দিতে রাজী আছি ইনশাল্লাহ ।

আপত্তি নং (৪) 
সুতরাং বুঝা গেল সর্বত্র বিরাজমানতা তথা হাজির থাকাটা এটা আল্লাহর সিফাত। এ সিফাত অন্যের জন্য প্রতিষ্ঠিত করা সুষ্পষ্ট শিরকী আক্বিদা।

জবাব ;- হানাফি এ নিয়ে কয়েকটা আয়াত দিয়ে শেষে লিখেছে আল্লাহ কি ভাবে সর্বত্র বিরাজমান হাজীর তা আমাদের জানা নাই ।

কিন্ত মিয়া তোমার এটা জানা আছে যে হাজীর ও নাযির হওয়ার দাবি করা শিরক । 

আমাদের আকিদা আমার নবী হাজীর ও নাযির আল্লাহ পাকের দেয়া ক্ষমতার ও ওনারই ইচ্ছায় এর পর ও যদি শিরক হয়ে থাকে তবে আগে আপনাদের কয়েকজন আলেম কে মুশরিক বলে কবুল করুন ;- 
(১) যেমন আপনাদের আলেম রশিদ আহমেদ গাংগুহি তার ফতোয়া গ্রন্থ ফতোয়া এ রশিদিয়া এর বিদআত শির্ষক অধ্যায় এ  ৯১ পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;-সরকার এ দো-আলম হুজুর (সা) এর মওলিদ শরিফে (হাজির নাযির)  বিষয়টা প্রতিষ্ঠিত নয় বটে .তবে খোদা প্রদত্ত শক্তির বদৌলতে ওনাকে হাজীর নাযির জ্ঞান করা শিরক নয় , অন্যথায় শিরক ) 

ভাই। আমাদের তো আকিদা আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমা বলে আমাদের নবী হাযির ও নাযির । এর পর ও যদি শিরক এর ফতোয়া শুনতে হয় তবে আপনার গাংগুহি মুশরিক প্রমানিত হল আজ আপনার কথায় । 

(২) (বারাহিনে কাতেয়া ) কিতাবের ২৩নং পৃষ্টায় আছে যে , মাওলানা রশীদ আহমেদ গাংগুহি তো রেজেষ্টিরি করে দিয়েছেন যে খোদা ছারা অপর কাউকে খোদা প্রদত্ত ক্ষমতা বলে হাজীর নাযির জ্ঞান করা শিরক নয় ।

এই কথা যদি মান্য করতে কষ্ট হয় তবে খলিল আহমেদ মিয়া রে ও মুশরিক এর ফতোয়া প্রদান করুন ।

(৩)  একদা রশীদ আহমেদ গাংগুহি বললেন আমি কি বলব ?  
তাকে বলতে বলা হল যে হযরত বলুন ।
 আবার জিগ্গেস করল আমি কি বলব ? 
আবার ও বলতে বলা হল , 
তিনি আবার জিগ্গেস করলেন আমি কি বলব ? 
অতপর তিনি বললেন যে তিন বৎসর যাবৎ আমার পীর হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজের এ মক্কি (রহ) এর মুখচ্ছবি আমার অন্তরে ছিল , আমি তাকে জিগ্গেস  না করে কিছুই বলতাম না । 

 এর পর তিনি আবার জিগ্গেস করলেন  যে আমি কি বলব ? 
আবার ও লোকজন তাকে বলতে অনুরোধ করলেন ।তিনি উত্তেজিত হয়ে  আবার  বললেন আমি কি বলব ?  ওনাকে বলতে বলা হলে  তখন তিনি বললেন যে :-কিছু বৎসরের জন্য হযরত মোহাম্ম্দ (সা) আমার ভিতরে ছিলেন । আমি তাকে জিগ্গেস না করে কোন কাজই করতাম না ।এর পর তিনি আবার ও জিগ্গেস করলেন যে আমি কি বলব ? তখন লোকজন তাকে (গাংগুহী ) কে পীড়াপিড়ি করতে লাগল যে বলুন । তখন তিনি চুপ করে রইলেন আর কিছুই বললেন না (আরওয়া এ ছালাছা কিতাবের ২৬৫ নং পৃষ্টা , দারুল ইশাক করাচি থেকে প্রকাশিত কাহিনি নং ৩০৬ ও আশেক ইলাহী মারাঠি লিখিত তাযকিয়াত উর রশিদ এর খ ২ পৃ ১৯৭)

 মন্তব্য ;--রশিদ আহমেদ সাহেব থাকতেন গাংগোহ শহরে আর হাজী ইমদাদুল্লাহ (রহ) থাকতেন মক্কায় । অথচ তিনি ওনাকে জিগ্গেস না করে কোন কিছুই করতেন না । এখানে ঠিকই আপনাদের আলেমের পীর হাজির হতে পারে শুনতে পারে আলোচনা করে কোন কাজ ও করতে পারে । আমাদের নবী তার উম্মাতের বিষয় হাজির ও নাযির দাবি করলে শিরক হয় । 
তবে তোমাদের গাংগুহি কেন মুশরিক নয় ? 


এর পর বলেছেন নবী (সা) গাংগুহির ভিতরে ছিলেন । তখন আমাদের নবীর রওজায় আকদাস খালি ছিল কি ? 

আর শুধু ছিলেনই না। বরং নবী (সা) এর সাথে কথা না বনে কিছুই করতেন না । তো এটা কেমন হল ? 
এমন আকিদার কারনে কি গাংগুহী কেন মুশরিক হবে না ? 
জবাব দিবেন ।

(৪) ---আপনাদের আলেম কাশেম নানুতভী সাহেব ওনার কিতাব (তাহযিরুন নাস ) এর ১০ নং পেজে লিখেছেন যে ;- মুহাম্মদ (সা) বিস্বাসী লোকদের নিকট তাদের প্রানের চেয়ে ও নিকটতম ( তাহযিরুন নাস পেজ নং ১০) 

মন্তব্য ;--নিকটতম মানে কি ? যে পাশেই আছে , কাছেই আছে । তো এমন কথা বলার কারনে কেন কাসেম নানুতভী মুশরিক হবেন না ? 

না কি আপনাদের বিশ্বাসই নাই ? 


(৫) রশিদ আহমেদ গাংগুহির লেখা কিতাব (এমদাদুস সুলক ) এর ১০ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- মুরিদের এও দৃঢ়ভাব্ বিস্বাস করতে হবে যে , পীরের রুহ এক যায়গায় আবদ্ধ নয় ।মুরিদ দুরে বা কাছে যেখানেই হোক না কেন , এমন কি পীরের পবিত্র শরীর থেকে দুরে হলেও পীরের রুহানীয়াত কিন্তু দুরে নয় ( এমদাদুস সুলুক পেজ নং ১০) 

মন্তব্য ;--একজন সাধারন পীরের যদি এত ক্ষমতা হয় তার মুরিদ যেখানেই হোকনা কেন তার রুহানীয়াত দুরে নয় । 

তো আমাদের নবীর ফয়েজ তার উম্ম্ত থেকে কি করে দুরে থাকে ? 

আর এমন কথা বলার কারনে কেন গাংগুহি মুশরিক হবে না ? 
জবাব চাই ।


(৬) হাজী দোস্ত মোহাম্ম্দ খান মাওলানা রশীদ আহমেদ গাংগেহীর একান্ত বিস্বস্ত খাদেম ছিলেন । তার স্ত্রীর রোগের বর্নানা বর্নানা করেছেন আশেক এলাকা মারাঠি সাহেব । চলুন দেখা যাক -( হাত পা অবশ হয়ে গেছে , উর্ধ শ্বাস সুরু হয়ে গেছে , হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে ।স্ত্রীর প্রতি হাজী সাহেবের অগাধ মুহাব্ব্ত ছিল । তিনি এসে দেখলেন অবস্থা খারাপ । পাশে বসে সুরা ইয়াছিন পাঠ করতে শুরু করলেন । স্ত্রীর মিত্তু যাতনা শয্য হচ্চিল না । হাজী সাহেব এ দৃশ্য দেখে শয্য করতে পারল না । সাথে সাথে মোরাকাবায় বসে গাংগুহি সাহেবের দিকে মনোনিবেশ করল । আর বলল যে যদি শেষ সময় এসে যায় তবে যেন এর শুভ সমাপ্তি হয় আর যদি হায়াৎ থেকে থেকে বাকি তবে তিন দিন থেকে যা কষ্ট যাতনা ভোগ করছে তা যেন লাঘব হয়ে যায় ।
মোরাকাবা শেষ হওয়ার আগেই রোগী (হাজী সাহেবের স্ত্রী) চোখ খুলল কথা বলা শুরু করল ।সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে গেল , ও দুই তিন দিন পর শক্তি ও এসে গেল (তাযকিয়াতু রাশীদ খ ২ পৃ ২৩১) 
এর পর আর একটু পড়ে নিন , আর তা হচ্ছে;- 
হাজী দোস্ত মোহাম্মদ খান প্রায় সময় বলতেন যে ;- যে সময় আমি মোরাকাবায় বসেছিলাম সেই সময় আমি হুজুর কে আমার সামনে দেখেছি ।
এর পর আমার এমন অবস্থা হল যে আমি যে দিকে নজর দিতাম তিন দিন পর্যন্ত সেই দিকে ইমাম রাব্বানী হযরত গাংগুহী কে দেখতাম (তাযকিয়াতুর রশিদ ২ খ ২২১ পৃ ) 

মন্তব্য ;- তো ভাই। আপনাদের কিতাবে তো গাংগুহি সাহেব একজন হয়ে তার মুরিদের চতুর্দিকে থাকেন । এটা কি হাজির ও নাযির হওয়া নয় ? এটা কি মুসরিকি আকিদা নয় ? 

জবাব দিন ।

(৭) আশরাফ আলী থান্বির কিতাব (বেহেস্তি যেবার) এর ১ খ এর ৯ নং পৃষ্টায় লিখেছেন ( কারামত ) এ থানবী তে ৭ নং কারামত এ যে ;- 

তাহার জৈনিক খলিফা বলেন যে একবার আলিগরের শিল্প-প্রদর্শনীতে দোকান খুলিয়াচিলাম। তো মাগরিবের পর কোনো এক দোকানে আগুন লেগে যায়। আর আমি আমার দোকানের সমস্ত মালামাল দোকানের ভিতর থেকে বাহির করছিলাম কিন্তু আমার আকার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। হটাথ দেখি সেখানে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী। তিনি আমাকে সাহায্য করছেন দোকানের মালামাল বাহির করতে। তাই আমার বিশেষ কিছু ক্ষতি হয় নাই। পরে খোজ্নিয়ে দেখি হজরত তখন থানা ভবনেই অবস্থান করছিলেন। প্রথম খন্ড পেজ নং ৯ 

মন্তব্য ;--তো ভাই। আপনাদের আলেম থানা ভবনে থেকে ও তার মুরিদের সাথে গিয়ে তার দোকানের মাল সামানা বের করতে সাহায্য করেন যাতে আগুনে পুড়ে না যায় । 

এটা কি একজন মানুষ হয়ে একই সময় দুই যায়গায় হাজির হওয়া নয় ? এটা কি মুশরিকি  আকিদা নয় ? এতে কি আপনাদের থানবির আল্লাহর সাথে শরিক করা হল না ? 


(৮)। তাযকিয়াতুর রাশীদ কিতাবের লেখক আশেক এলাহি মারাঠি নাগীনা শহরের মৌলভী মাহমুদুল হাসানের একটা বর্ননা দিয়েছেন যে (- 
যে মাহমুদুল হাসান সাহেব বর্নানা করেছেন যে ;- আমার সেই ভাগ্যবতি আম্মাজান আমার আব্বাজানের সাথে ১২ বছর মক্কা শরিফে অবস্থান করেন । তিনি খুবই ধার্মিক ও ধর্মপরায়ণ ছিলেন ও তার শত শত হাদীস মুখস্ত ছিল ।তিনি আমাকে বলতেন যে বৎস , হযরত গাংগুহির শত শত শাগের্দ ছিল কিন্তু হজরত কে কেউ চিনতে পারেনি ।আমি যখন মক্কা শরিফে ছিলাম তখন প্রতিদিন হযরত কে হেরেম শরিফে ফজরের নামায পড়তে দেখেছি এবং লোকদের কাছ থেকেও শুনেছি যে ইনিই হযরত গাংগুহি যিনি গাংগোহ থেকে প্রতিদিন তাশরীফ অনয়ন করতেন ( তাযকিয়াতুর রশীদ, ২য় খন্ড পৃ ২১২) 

মন্তব্য ;- ভাই।  আপনাদের আলমে গাংগোহ তে বসবাস করত আর প্রতিদিন হেরেমে পাক এ নামায আদায় করত ফজরের । এটা কেমন করে হল ? এখানে ও হাজির  ওখানে ও নামায । 

এটা কি আল্লাহর সাথে শরিক করা হল না ? 
একমাত্র আল্লাহ আপনাদের মতে হাজীর ও নাযির । তো আপনাদের আলেম একজন মানুষ হয়ে কি করে হাজির হল হেরেমে ও নামায আদায়  করল ? 
এটা কি আল্লাহর সাথে শরিক করা হল না ? 



 (৯) দেওবন্দী দের গুরু আশরাফ আলী থানবী এর লেখা কিতাব (হেকায়াত এ আওলিয়া ) ২২২ নং পেজে নাসির দারুল ইশক উর্দু বাজার করাচী থেকে প্রকাশিত ফোন নং ২১৩৭৬৮ (টেলিফোন) উক্ত পেজে লিখেছেন আম্মে মোহতারাম হজরত মৌলানা হাবিবুর রেহমান বলেছেন যে মলোবি আহমাদ হাসান আমরোহী আর মলবী ফখরুল হাসান সব গান্গুহী এর মাঝে কিছু মতভেদ ছিল কিন্তু ঝগড়া  করার কোন ইচ্ছা ছিল না মলবী আহমাদ হাসান সাহেব আমরোহির । কিন্তু কেন জানি তিনি একদিকে ঝুকে গেলেন আর ঝগড়া অনেক দূর পর্যন্ত বেড়ে গেল । তো মৌলানা রফিউদ্দিন সাহেব  মলবী আহমাদ হাসান আমরোহী কে ডেকে পাঠালেন দারুল উলুম দেওবন্দ এ। যখন মলবী আহমদ হাসান সাহেব আমরোহী রফিউদ্দিন সাহেবের কাছে পৌচিলেন তখন দেখেল্ন যে তিনি খালি গায়ে ঘরের বাইরে দাড়ায় ছিলেন আর মৌসুম অনেক বেশি ঠান্ডা শীত ছিল ।  তো রফিউদ্দিনসাহেব বললেন মলবী হাসান সাহেব এই মাত্র আমার সামনে মলবী কাসেম নানুতাভি ওনার সেই সুঠাম চেহরা নিয়ে একদম জিন্দা মানুষের মত হাজির হয়েছিলেন।  আর বললেন যে আহমাদ হাসান কে বল যেন সে এমন ঝগড়া বিবাদে না জরায় । আর আমি ওনাকে দেখে এই শীতের মধেও ঘামে ভিজে পানি পানি হয় গেলাম সাথে সাথে আহমাদ হাসান সাহেব মওলানা রফিউদ্দিন এর হাত ধরে তওবা করলেন আর ওয়াদা  করলেন আর কোনো দিন ও ঝগড়া  করবেন না । 

 মন্তব্য ;- ভাই। আপনাদের আলেম কবর থেকেই জানতে পারে কার কার ঝগড়া হল আর এটার সুরাহ করার জন্য কবর থেকে এসে তার অনুসারীদের সাথে  সাক্ষাত করতে ঝগড়া করতে মানা করতে পারেন । 

ভাই। আপনাদের এই কাসেম সাহেব কি করে জানলে দেওবন্দে  কার করা ঝগরা হল আর কি নিয়ে হল । আপনার আলেম কি মিত্তুর পর হাজীর ও নাযির হয়ে গেল নাকি ? তা না হলে কি করে এটা সম্ভব ? 
আমাদের নবী কবর থেকে আমাদের কে দেখেন ও জানেন আমাদের বিষয় এটা মান্য করতে আপনাদের কষ্ট হয়।  এটা শিরক হয়। আর আপনাদের আলেম কবর থেকে স্বশরিরে উঠে এসে   রফিউদ্দিন সাহেব কে নসিহত করলেন ।  এটা কি শিরক হয় না ভাই ? 
এতে কি আপনারা মুশরিক প্রমান হন না ? 


(১০)
মুনাজির আহসান গীলানি স্বীয় কিতাব সাওয়ানিয়াহে কাসেমী তে লিখেছেন যে তিনি একদিন ছাতা মসজিদে দেওবন্দি মাদ্রাসার মুহাতামিম মাওলানা ইয়াকুব নানুতভী বলেন যে ;-ভাইসব, আজ আমি ফজরের নামাযের সময় মরেই যেতাম , একটুর জন্য বেঁচে গেছি ।লোকেরা আশ্চর্য হয়ে জিগ্গেস করলেন কিনা কি হল ," শেষ পর্যন্ত কি না কি বিপদের সম্মুখীন হলেন ! এটাই শোনার বিষয় ।
এরপর তিনি বলতে শুরু করলেন যে আজ ফজরের নামাযের সময় আমি সুরা মুযাম্মিল পাঠ করছিলাম । হঠাৎ আমার সীনায় জ্ঞানের সমুদ্র প্রবাহিত হতে লাগল , যা আমি বহন করতে পারছিলাম না । আমার মারা যাওয়ার উপক্রম হল ।
তিনি আরো বলেছিলেন যে সেটা ঠিকমতই প্রবাহিত হয়ে গেল , যেমনি হঠাৎ করে এসেছিল ঠিক তেমনি প্রবাহিত হয়ে চলে গেল ।এ জন্য আমি বেঁচে গেলাম ।

জিগ্গেস করা হল যে এই জ্ঞান সমুদ্র হঠাৎ আত্বার উপর চড়াও হয়ে যে অতিবাহিত হয়ে গেল এটা আসলে কি ছিল ? 
তখন তিনি বললেন যে ;-আমি তখন নামাযের পর চিন্তা মগ্ন হলাম যে এটা কি ছিল ! 
তখন আমার কাশফ হল যে মাওলানা কাসেম নানুতভী মিরাট থেকে আমার দিকে মনোনিবেশ করেছিল ।এটা ওনার মনোনিবেশের ফল যে আমার মাঝে জ্ঞান সমুদ্র ঢেউ খেলছিল আর আমার শয্য করা কষ্টা হচ্ছিল ( সাওয়ানিয়ায়ে কাসেমী ১ম খন্ড ৩৪৫ নং পৃ )

মন্তব্য ;- আপনাদের আলেম কবরে থেকে একজনের দিলের মধ্য জ্ঞানের সমুদ্র বইয়ে দিতে পারেন,আর আমাদের নবী কি ওনার রওজায় আকদাস এ শুয়ে থেকে আমাদের দিকে ওনার সামান্য নজর দিতে পারেন না আমাদের মত নগন্যের দিকে ? 

যদি আমার নবী না পারেন , আর এমন দাবি করে শিরক হয় তবে আপনারা এমন দাবি করার পর ও কেন মুশরিক হবেন না ? 
জবাব দিন । 

(১১)
;-  দেওবন্দের অন্যতম আলেম মনজুর হাসান গীলানি (সাওয়ানিয়ায় কাসেমী ) নামে কাসেম নানুতভীর জীবনি নিয়ে একটা  বড় কিতাব রচনা করেন । তাকে এক অদ্ভুত মোনাযেরার কাহীনি তুলে ধরেন এই ভাবে যে ;-
দেওবন্দের এক ছাত্র পান্জাবের কোন এক এলাকায় গেলেন । লোকজন খুশি হয়ে তাকে মসজিদের ইমামতি করার দায়িত্ব দেন । দিন ভালই যাচ্ছিল । কিন্ত্ হঠাৎ এক ওয়ায়েজী মৌলভী ওয়াজ নসিহতের জন্য আগমন করেন ও মানুষ কে ওয়াজ নসিহত করে সাধারনের দিলে স্থান করে নেন । আর যখন তিনি জানতে পারেন যে মসজিদের ইমাম দেওবন্দ মাদ্রাসার ছাত্র তখন তিনি রেগে যান ও ফতোয়া দেন যে এই ইমামের পিছনে এতদিন ধরে যারা নামায আদায় করেছেন তাদের একটা নামায ও আদায় হয়নি । কারন দেওবন্দিদের আকিদা ঠিক নেই। তারা এমন বলে ওমন করে রাসুলের সাথে দুষমনি রাখে এমন ওনেক অভিযোগ তুলে ধরেন । 

এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে সেই দেওবন্দি মাদ্রাসার ছাত্র যিনি ইমামতি করতেন  তার কাছে গেলেন ও বললেন যে হয় আপনি সেই ওয়ায়েজী মৌলভীর জবাব দেন , নয় আমরা আপনার সাথে কিরুপ আচরন করব বলে দিন ? 
বেচারা কম শিক্ষিত মৌলভী ছিল বলে ঘাবড়ে গেল, আর চিন্তা করল যে আমি সাধারান একজন অল্প শিক্ষিত মানুষ , আর ওয়ায়েজী সাহেব কতই না শিক্ষিত তিনি । যখন তিনি রেবায়েত ও দর্শনের বড় বড় বুলি বলা শুরু করব তখন নিজের কি হাল হবে তাই চিন্তা করে চিন্তিত । উপায় না দেখে তিনি মোনাযেরার সম্মতি দিলেন ।
দিন তারিখ সব ঠিক হয়ে গেল । সাময়মত ওয়ায়েজী মৌলভী সাহেব কিতাবের বড় বড় পুটলি নিয়ে মসজিদে হাজির হয়ে গেল । এদিকে বেচারা দেওবন্দি ইমাম সাহেব আল্লাহ আল্লাহ করে নিরুপায় হয়ে সামনে এগিয়ে আসলেন ।এরপর সেই দেওবন্দি ইমাম সাহেব বলেন যে ;- আমি এসে সেই ওয়ায়েজি মৌলভী সাহেবের সামনে এসে বসি । এমন সময় আমার পাশে এক মানুষ এসে বসে যায় । আমি তাকে কোনদিন দেখিনাই । তিনি বললেন যে আলোচনা শুরু কর । ভয় করিও না । হঠাৎ সেই লোকটি আমার  পাশে এসে বসার  কারনে আমার দিলে ওনেক সাহসের উৎপত্তি হয় ও আমি আলোচনা শুরু করতে বলি ।

এরপর ইমাম সাহেব বলেন যে আমার মুখ থেকে এমন সব কথা ও শব্দ বের হচ্ছিলাম যে আমি এসব কথা জীবনে শুনি নাই আর জানতাম ও না আর এটা ও বুঝতে পারছিলাম না কি বলছি আমি ।
প্রশ্নেত্তর বেশি দুর অগ্রসর হল না । প্রথমে ওয়ায়েজী মৌলভী সাহেব দুই একটার জবাব দিয়েছিল । কিন্ত্ পরে দেখি ওয়ায়েজী মৌলভী সাহেব আমার পায়ে মাথা রেখে কান্না শুরু করে দিয়েছে , আর বলেছে যে আমাকে ক্ষমা করে দিন , আপনি যা বলবেন তাই সত্যি ও বরহক, আমিই এতদিন ভুলের মধ্য ছিলাম । আপনি এতবড় মাপের আলেম আমার জানা ছিল না ।


এটা দেখে সকল সাধারন মানুষ হতবাক হয়ে গেল । কি ভেবে এসেছিল আর কি হয়ে গেল । এর পর দেখি আমার পাশে যে লোকটা এসে বসেছিল সেই লোকটা অদৃশ্য হয়ে গেল । তাকে আর খুঁজেই পেলাম না (সাওয়ানিয়ায়ে কাসেমী ) ১ম খন্ড ৩৩০-৩৩১ পৃ ।

এই পর্যন্ত আসল ঘটনা বর্ননা করার পর মনজুর হাসান গীলানি লিখেছেন যে ;-শাইখুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান বলেছেন যে , আমি সেই ইমাম সাহেবে কে জিগ্গেস করলাম যে , হঠাৎ আবির্ভুত সেই বেক্তির চেহারা ও গঠন কেমন ছিল ? 
সেই ইমাম সাহেব যা যা বর্ননা করছিলেন তা শোনার পর উস্তাজুল ওলামা হযরত কাসেম নানুতভীর এক একটি অংঙ্গ আমার সামনে ভেসে উঠতে লাগল, এবং আমি বললাম যে ইনি তো শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ রাহমাতুল্লাহ আলাইহে ছিলেন, যিনি তোমাকে সাহায্য করার জন্য হক তায়ালার পক্ষো থেকে আবির্ভুত হয়েছিলেন (সাওয়ানিয়া এ কাসেমী ) ১ম খ পৃ ৩৩২ 


মন্তব্য ;- ভাই মাহমুদুল হাসান । তোমাদের আলেম কবরে থেকে জানতে পারে যে , তোমাদের কোন মৌলভী মোনাযেরায় রাজী হতে বাধ্য হয়েছেন , এবং তোমাদের আলেম সেই মুনাযেরার মদদ করার জন্য নিজে স্বশরিরে এসে সেই মৌলভীর পাশে বসে মোনাযেরায় সক্রিয় ভাবে সাহায্য করতে পারেন । 

আর আমার নবী কবরে থেকে তার উম্মাত কে দেখা ও তাদের আকুতি মিনতি শুনতে পায় এমন দাবি করা তোমাদের কাছে শিরক হয় ? 

মাশাআল্লাহ ভাই।  
তবে আমাকে এটা বলে দাও যে , তোমাদের কিতাবে এমন কথা উল্লেখ করার কারনে তোমরা কেন মুশরিক হবে না ? 
 

(১২)  আশরাফ আলী থানবীর জীবনি কিতাব ( আশরাফুছ ছাওয়ানেহ) গ্রন্থে  এমন কি আশরাফ আলি থানবীর কিতাব বেহেস্তি যেবার প্রথম খন্ডে লেখক পরিচিতি ও কারামত অধ্যায় তে ও এই ঘটানা টা উল্লেখ আছে যে ;- 
এক বিয়ের বরযাত্রীদের উপর ডাকাতের হামলা হলে আশরাফ আলী থানভির দাদা নিহত হন ও পীর সামাউদ্দিনের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয় । কিন্ত মজার কথা হচ্ছে যে আশরাফ আলী থানবীর দাদা মিত্তুর পর ও তাদের বাড়িতে আসতেন  ।স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতেন আর বলতেন যে কাউকে বলিও না তবে আমি রোজ আসতে পারব রাতে তোমার কাছে এবং বউ  কে মিষ্টি খেতে দিতেন 
কিন্তু  ছোট ছোট বাচ্চারা মিষ্টি খাচ্ছে দেখে পাছে কেউ কি না কি সন্দেহ করে এই চিন্তা করা কথাটা প্রকাশ করে দেন , এর পর থেকে আশরাফ আলি থানবীর দাদার আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় ( আশরাফুছ সাওয়ানিয়া ) প্রথম খন্ড পৃ ১২ 

মন্তব্য ;- তোমাদের আলেম আশরাফ আলি থানভীর দাদা যদি মরার পর ও ফিরে আসতে পারেন সাথে মিষ্টি নিয়ে ও বাচ্চাদের কে খেতে দিতে পারেন , আমার নবী কবর থেকে  তার গোনাহগার উম্ম্ত দের কে দেখতে পারেন না ? 
মিলাদ মাহফিল এ আসতে পারেন না ? 

ভাল কথা। তাই যদি হয় তবে বেশ । তোমাদের কিতাবে এমন ঘটনা থাকার কারনে ও প্রচার করার কারনে তোমরা কেন মুশরিক হবে না ? 

কারন কবরে ও কবর থেকে বাইরে আসা তো এখানে হাজির প্রমান করে দুই যায়গায় । 

(১৩) 
 আশরাফ আলি থানবি বলেন যে (- মাওলানা ইসমাইল দেহলভী( গুসতাক শাহ ইসমাইল ) এর কাফেলার কেদার বখত নামে এক লোক শহিদ হয়েছিল । কেদার বখত দেওবন্দের অধিবাসি ছিলেন । শহিদ হওয়ার খবর যাথাসময়ে বাড়িতে পৌছায় দেয়া হয়েছিল । এক রাতে কেদার বখত এর বাবা হাসমত আলী খান দেওবন্দে নিজের কামরায়  তাহাজজুদ আদায়  করছিলেন হঠাৎ বাইরে ঘোড়ার খুড়ের আওয়াজ শুনে বাইরে এসে দেখেন যে কেদার বখত বলছেন বাবা , মাওলানা শাহ ইসমাইল ও সাইয়েদ আহমেদ তাশরীফ আনছেন , আপনি তারাতারী এখানে একটা মাদুর পেতে দিন । 
মৃত কেদার বখতের বাবা তাই করলেন । তারা এসে বসার পর কেদার বখতের বাবা কেদার বখত কে জিগ্গেস করলেন বাবা কোথায় তোমার আঘাত লেগেছিল ? যা তোমার মিত্তুর কারন হয়ে গেল ? 
তখন কেদার বখত তার মাথার পট্টি খুলে হাত দিয়ে দেখিয়ে দেন । 
কেদার বখতের বাবা বলেন যে ;- বাবা ঢেকে রাখ ঢেকে রাখ । আমার শয্য হচ্ছে না । এরপর সকলে চলে যান । সকাল বেলা কেদার বখতের বাবা বলেন যে এটা কি স্বপ্নে ছিল নাকি জাগ্রত ? 
এই চিন্তা করে আংগিনায় গিয়ে দেখেন যে কেদার বখত ক্ষত দেখানের সময়ে মাথা থেকে পড়া রক্তের চিন্হ এখন ও পড়ে আছে মাটিতে । 
কেদার বখত এর বাবা হাসমত আলী খান রক্তের ফোটা দেখে বুঝতে পারলেন যে এটা স্বপ্নে নয় বরং জাগ্রত অবস্থায় ।শেষে কয়েকজন বর্ননা কারিদের নাম উল্লেখ করে বলেন যে এই ঘটনার আরো ওনেক নির্ভরযোগ্য বর্ননাকারী রয়েছে (মালফুজাত এ মাওলানা আশরাফ আলী থানভী ) পৃ ৪০৯


মন্তব্য ;- আপনাদের শাহ ইসমাইল সাইয়েদ আহমেদ ও  কেদার বখত যদি মিত্তুর পর স্বশরিরে ফিরে আসতে পারেন  কেদার বখত এর বাড়িতে ও তার বাবার সাথে দেখা করতে পারেন 

তবে আমার নবী কেন কবরে থেকে তার উম্ম্তের খোঁজ নিতে পারবেন না।  
কেন মিলাদ মাহফিলে হাদির হওয়া শিরক হবে ? 

আমার নবী তার উম্ম্তের বিষয় এ হাজির ও নাযির দাবি করা যদি শিরক হয় . তবে তোমাদের আলেম ও শহিদ কবরে থেকে ফিরে এসে দেখা করার আকিদায় কেন শিরক হবে না ? 

এই জবাব গুলো আমার চাই লিখিত আকারে ।  
যদি কোন হালালের সন্তান এই জবাব গুলোর সঠিক ব্যাখা দিতে পারেন তবে আমি দেওবন্দি হয়ে যাব । 


তার আপত্তি নং (৫) 

সে লিখেছে (---- নবী হাজির নাজির হওয়া মুসলমানদের নয় খৃষ্টানদের আক্বিদা )


জবাব ;- হমমম। নবী হাজীর নাযির হওয়া আসলেই কথিত মুসলিম দের আকিদা  নয় । বরং কথিত দেওবন্দি  মুসলিম দের আকিদা হচ্ছে তাদের আলেমগন হাজীর ও নাযির । যেমন আমি উপরে তুলে ধরেছি ১৪ রেফারেন্স । 


আপত্তি নং (৬) 

খৃষ্টানদের আক্বিদা হল হযরত ঈসা আঃ সর্বত্র বিরাজমান, 

তথা হাজির নাজির। 

যেমনটি লিখেছেন খৃষ্টান পাদ্রী ইমাদুদ্দীন তার রচিত “তাফতীশুল আওলীয়ায়। তিনি লিখেন- 

ঈসা আঃ প্রত্যেক স্থানে হাজির ও নাজির।

{তাফতীশুল আওলিয়া-১০৮}

খৃষ্টানদের আক্বিদা হল যে মজলিস ঈসা আঃ এর নামে করা হয়, সেখানে ঈসা আঃ উপস্থিত হন।

ঈসা আঃ বলেন-“কেননা যেখানে দুই অথবা তিনজন আমার নামে একত্র হয়, সেখানে আমি তাদের মাঝে উপস্থিত হই”। {ইঞ্জিল, মথি, অধ্যায় ১৮, পরিচ্ছেদ-২০}



জবাব ;- আমি আসলে ইসলাম এ শিক্ষা শেষ করতে পারি নাই , তবে খৃষ্টীনদের নিয়ে কি গবেষনা করব বলুন ? 

আমার জানা নাই হযরত ইসা (আ) সর্বত্র হাজীর ও নাযির কি না , 

আর আমার এটা ও জানা নাই যে ওনার নামে কোন মাহফিলে ওনি আদৌউ আসে কি না । 

তবে এটা জানি , যখন কোন দেওবন্দি বিপদে পড়েন , তখন দেওবন্দি আলেমগন কবর থেকে উঠে এসে তাদের কে সাহায্য করেন , ঝগরা লাগলে মিটিয়ে দেন , বাহাস এ তর্ক করেন , দিলের মধ্য জ্ঞানের সাগর বইয়ে দেন ।এমন ওনেক কিছু।  এ ক্ষেত্রে কিন্তু খৃষ্টীনদের দাবি মতে হযরত ইসা (আ) এর মতই ক্ষমতাবান দেওবন্দি আলেমগন। উপরে দেখুন । প্রমান দেয়া আছে । 



চলবে ,,,,,,,