শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৪

Maodudi oparation :- 1

মাওলানা মওদুদী এর কিতাব (খেলাফত ওয়া মুল্কিয়াত) এ অনেক আপত্তি জনক কথা উল্লেখ করেছেন।   বর্তমান কিছু শিবির কর্মী ও জামাতের ভাইয়েরা মাওলানা মওদুদী এর কিতাব গুলোকে নিজের আদর্শে পরিনত করেছেন।   যা অনেক অসঙ্গতি পূর্ণ।   আমি চেষ্টা করব আমার কাছে যা কিতাব আছে তার আলোকে (খেলাফত ওয়া মুল্কিয়াত) এর কিছু আপত্তি আপনাদের সামনে তুলে ধরার।   আশা করব সকলে বিবেক দিয়ে বোঝার চেষ্টা করবেন।   
আসলে মাওলানা মওদুদী এর কিতাব কে হাজ্জাজি তলোয়ার বলা যায়।   হাজ্জাজ বিন ইউসুফ নামের একজন লোক ছিল যে তার তলোয়ার যেমন ইসলাম এর উপকার করেছে ঠিক ক্ষতি ও করেছে।  ঠিক তখন থেকেই হাজ্জাজি তলোয়ার মশহুর হয়ে যায়।   আর  কেউ যদি সামান্য গুস্তাকি বে আদবী বা বেপরোয়া হয়ে কথা বলে ঠিক তার আমলের কোনো স্থান রাসুলে পাকের বর্গায় নাই।    আমাদের কোনো ভাবেই উচিত না কোনো সাহাবা কেরামদের নামে মিথ্যা অপবাদ বা দোষারোপ বা তাদের দোষ ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা। করা  কারণ ইটা কখনই সমীচীন না যে কোনো সাহাবী আজ ১৪০০ বছর পর কোনো মামুলি জ্ঞান পাপী আলেমের কলম এর খোচায় রক্তাক্ত হওয়া।  
আমরা সকলে জানি যে রাফ্জি বা শিয়া গণ গুস্তাক এ সাহাবা।   তারা হজরত আবু বাক্কার হজরত ওমর  মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহ আনহা কে নিয়ে ও আরো কিছু বাজে আকিদার কারণে সকল মাস্লক থেকে কাফের হিসেবে গণ্য হয়।    কারন শিয়া গণ গুস্তাক এ সাহাবা।    গুস্তাক এ সাহাবা হুয়ার কারণে শিয়া গণ যদি কাফের হয় তা হলে রহুল কুদ্দুস হজরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহ আনহু এর নামের সাথে মিথ্যা অপবাদ দোষারোপ করার কারণে মাওলানা মওদুদী কেন গুস্তাক এ সাহাবা দের কাতারে গণ্য হবে না ? কেন কাফের হিসেবে গণ্য হবে না ? আমাকে জবাব দিবেন।    আমি চেষ্টা করব কিছু আপত্তি জনক কথা হজরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহ এর বিষয় যা বলেছেন মাওলানা মওদুদী তার জবাব দেয়ার।   
১,,,) আইনের শাসন ও বিলোপ শিরোনামে লিখেছেন যে - হজরত মুয়াবিয়া বেদাত জারি করেছেন !!!!!!! 

তিনি লিখেছেন যে  ইমাম যুহুরি বর্ণনা করেন ;-  এই বাদশা (মুয়াবিয়া ) এর আমলে দ্বীনের অনুগত ছিল না ও হারাম ও হালালের কোনো তমিজ ( আদব) ছিল না।  
তিনি তার দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে ;- রাসুল পাকের সময় কাফের ও মুসলিম একে অপরের উত্তরাধিকারী হতে পারত না   কিন্তু মুয়াবিয়া  রাযিয়াল্লাহ কাফের দের কে মুসলমানদের উত্তরাধিকারী না করলে ও মুসলমানদের কে কাফেরের উত্তরাধিকারী করেন।  হজরত অমর বিন আজিজ খলিফা হয়ে এই বেদাত বিলুপ্ত করেন।   কিন্তু হিসাম বিন আব্দুল মালিক খলিফা হয়ে নিজেদের খানদানি (হজরত মুয়াবিয়ার)  প্রথা চালু করলেন।  


এখন মূল কিতাব যা অনুসরণ করে মাওলানা মওদুদী লিখেছেন তা দেখুন 

এমাম যুহুরি বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ এর সময় কাফের ও মুসলিম গণ একে অপরের উত্তরাধিকারী হত না।  কিন্তু হজরত মুয়াবিয়া  কাফেরদের কে মুসলমানদের উত্তরাধিকারী না করলেও মুসলমানদের কে কাফেরের উত্তরাধিকারী ঘোসনা করেন।  পরবর্তী খলিফাগণ ও পরবর্তী খলিফাগণ ও সেই ধারা আব্বাহত রাখলেন।  কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আজিজ  পুর্ববর্তি  সুন্নতটি পুনর্বহাল করেন।  পরবর্তী খলিফা ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিক ও তার অনুসরণ করেন।  কিন্তু হিসাম বিন আব্দুল মালিক আবার ও হজরত মুয়াবিয়া এর সুন্নাত জারি করেন অর্থাত মুসলমানদের কে কাফেরের উত্তরাধিকারী ঘোসনা করলেন।   আল বিদা ওয়ান নিহায়া খ ৯  পৃষ্টা ২৩২ ) 

মাওলানা মওদুদীর বর্ণনা ও মূল কিতাবের বর্ণনা একতু মিলে দেখুন কত পার্থক্য।   আরো একটা বর্ণনা দেখুন 
শাফেয়ী মাজহাবের হাফেজ ইবনে হাজার (রহ) লিখেছেন যে :- ইবনে শায়বা  হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাকিল এর উদৃতি থেকে বলেছেন যে আর কোনো ফয়সালা আমার হজরত মুয়াবিয়ার থেকে উত্তম মনে হয়নি।  আমরা আহলে কিতাবীদের উত্তরাধিকারী হতে পারব কিন্তু তারা আমাদের উত্তরাধিকারী হোতে পারবে না যেমন আমরা তাদের মহিলাদের কে বিয়ে করতে পারব কিন্তু তারা আমাদের মহিলাদের কে বিয়ে করতে পারবে না।  
হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাজিয়াল্লাহ বলেন এই হাদিসটি হজরত মুয়াবিয়ার সপক্ষে মজবুত দলিল -: ইসলাম বৃদ্ধি করে , হ্রাস করে না ( ইসলামের কারণে কেউ মেরাচ থেকে বঞ্চিত হতে পারে না ) এমাম আবু দাউদ এই হাদিস বর্ণনা করেছেন ও এমাম হাকিম তা সহিহ বলে রায় দিয়েছেন।  (ফাতহুল বাড়ি অধ্যায় মুসলিম কাফেরের উত্তরাধিকার ) 

এখন এটাই প্রমাণিত হলো যে মাওলানা মওদুদী হজরত মুয়াবিয়া  এর ওপর মিথ্যা অপবাদ ও বেদাত এর ফতোয়া মেরেছেন।  
আর হালাল হারাম এর বিষয় নবী পাক বলেছেন যে ;- হালাল হারাম এর বিষয় হজরত মুয়াজ বিন জাবাল বেশি জানে সাহাবা দের মধ্যে ,( মিশকাত - বাবুল মান্কির , তিরমিজি -বাবুল মান্কির ) 

সেই মুয়াজ বিন জাবাল হজরত মুয়াবিয়ার মত কে প্রাদান্ন দিয়েন সে হাদিস আমি উপরে বর্ণনা করেছি।     আজ ১৪০০ বছর পর মাওলানা মৌদুদী কি ইজতেহাদ এর ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান  হজরত মুয়াবিয়ার কাছ থেকে ? অথচ হজরত মাওলা আলী কারামুল্লাহ এর সাথে দুশমনি কে লক্ষ্য করে যে বীজ বুনেছেন তার বিষয় হজরত ইবনে আব্বাছ রাযিয়াল্লাহ কে জিগ্গেস করা হল  হজরত মুয়াবিয়া ১ রাকাত বিতর পরেন  আপনি কি বলেন এই বিষয় ? ইবনে আব্বাছ রাজিয়াল্লাহ বলেন তিনি তো একজন ফকিহ।  ( বুখারী সরিফ , হজরত মুয়াবিয়া অধ্যায় ) 
 আলী ইবনে আব্বাছ নিজেই হজরত মুয়াবিয়া কে মুজতাহিদ ও উচ্চ মানের ফকিহ মনে করেন।   আর মাওলানা মরদুদ আপনি কোন বলে মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহ কে বেদাতি বলার হিম্মত করলেন ? আমার মত উম্মী ( মুর্খ) লোকের তো বুঝে আসে না। 
আরো মজার বিষয় হচ্ছে যে ইমামে যুহুরি (রহ) এর কথা কে তীর বানিয়ে চুরেছেন আপনি তিনি কিন্তু মুসলমানদের কে কাফের এর উত্তরাধিকারী করা কে সুন্নাত বলেছেন , বেদাত বলেন নাই।   আপনার কথা থেকে আসলো এত বড় হিম্মত রুহুল কুদ্দুস হজরত মুয়াবিয়া রাজিআল্লাহ কে বেদাতি বলার ? 
আপনারা জেনে হতবাক হবেন যে হজরত মুয়াবিয়ার কাজ ছিল রাসুলে পাকের বর্গায় ওহী লেখা যা নবী পাকের ওপর প্রত্যাদেশ হত।    এখন বলেন মাওলানা মৌদুদী ওরফে মরদুদ সয়তান কোথায় পেলেন এত বড় হিম্মত আপনি ? 
একজন সাহাবী যিনি যৌবন এর সোনালী দিন গুলো কেটে দিয়েছেন যুদ্ধের ময়দানে আজ ১৪০০ বছর পর এই অনার প্রাপ্প ছিল ? 
হে মুসলিম সমাজ জবাব দাও আমার 

সোহেল রানা 

Maodudi oparation:-2

মওদুদী কে :-২ , শিয়া আকিদার প্রতি বিশ্বাস ও অগাধ আস্থার দরুন মাওলানা মওদুদীর চোখে হজরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহ এর দোষ গুলো তিনি সুনিপুন ভাবে বর্ণনা করে গেছেন মূল কিতাবের আগা -মাথা কাট ছাট করে আর জুড়িয়ে দিয়েছেন নিজের মনমত কথা।   এমনি একটা উক্খাপন করেছেন তিনি যে ;- হজরত মুয়াবিয়া দিয়্তের অর্থ আত্তসাথ করেছেন।   
মাওলানা মওদুদী লিখেছেন যে হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন যে দিয়্তের ক্ষেত্রে হজরত মুয়াবিয়া সুন্নাতে হস্তক্ষেপ করেন।  সুন্নাত মোতাবেক চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের (জিম্মির) দিয়্ত বা রক্তপণ মুসলিম -অমুসলিম দের বরাবর হুয়ার কথা।  কিন্তু হজরত মুয়াবিয়া তা অর্ধেক নামিয়ে এনে বাকি অর্ধেক নিজেই নেয়া সুরু করলেন।  পৃষ্টা ১৭৩-১৭৪ 
 
 আসুন একবার দেখি যে কিতাব এর উদৃতি দিয়ে মাওলানা মরদুদ এই সঙ্গিন অভিযোগ লাগিয়েছেন হজরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহ এর সান ও মানে সেই কিতাবে এই কথাটা কিভাবে উল্লেখ করেছেন।  

ইমাম যুহুরির বলেন যে সুন্নাত এই যে - দিয়ত (রক্তপণ) এর ক্ষেত্রে মুসলিম ও অমুসলিম বরাবর হুয়ার কথা।  কিন্তু হজরত মুয়াবিয়া প্রথম বেক্তি যে তা অর্ধেকে হ্রাস করে বাকি অর্ধেক নিজের জন্য নেয়া সুরু করলেন (আল -বিদা ওয়ান নিহায়া ৮খ পৃষ্টা ১৩৯) 
ভালো করে লক্ষ্য করুন মওদুদীর দেয়া উদৃতি ও হাফেজ ইবনে কাসীর (রহ) এর উক্তি।  
প্রথমত দিয়্তের  (রক্তপণ) এর ক্ষেত্রে হজরত মুয়াবিয়া সুন্নাত এ হস্তক্ষেপ করেন এই কথাটা মওদুদীর নিজস্য সংযোজন।   এমাম যুহুরি বা হাফেজ ইবনে কাসীর কেউ এই কথা বলেন নাই।  
আর দিতীয়ত এই বক্তব্য হাফেজ ইবনে কাসির এর নয় , তিনি ইমাম যুহুরির বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন মাত্র।  অথচ মওদুদী ওরফে মরদুদ এই কথাকে হাফেজ ইবনে কাসীর এর কথা বলে চালিয়ে দিয়েছেন বরং এটাও হাফেজ ইবনে কাসীরের ওপর মিথ্যা আরোপ করেছেন।  


যাই হোক , মওদুদী মিয়া আরোপ করেছেন দিয়্ত(মুক্তিপণ ) এর অর্থ অর্ধেক নিজেই নেয়া সুরু করলেন।    অথচ যদি আর কয়েকটা কিতাব খুলে দেখার কষ্ট করতেন তা হলে এই অপবাদ দেয়ার সুযোগ পেতেন না মওদুদী।  কিন্তু তিনি তা না করেই অর্থ অত্তসাথের অভিযোগ তুলেছেন হজরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহ এর নামে।  অথচ দেখুন বায়হাকী সরিফে এসেছে ইমাম যুহুরির বর্ণনা এসেছে এইভাবে যে ;- বাকি অর্ধেক তিনি বায়তুল মালে জমা করলেন(  খ ৮ পৃষ্টা ১০২ ) 

সুতরাং ইটা বোঝা গেল যে তিনি তার দায়িত্বে অর্পিত বায়তুল মালের জন্য নেয়া সুরু করলেন , ওনার নিজের বেক্তিগত খরচ এর জন্য নয়।  
আর দিয়্ত এর ক্ষেত্রে সাহাবাদের মধ্যে ও মতবিরোধ ছিল , যেমন এক হাদিসে এসেছে কাফেরের দিয়্ত(রক্তপণ) হবে মুসলিমদের অর্ধেক(  মুসনাদ এ আহমাদ , নাসাই সরিফ, তিরমিজি) 
এই হাদিসের আলোকে হজরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ ও ইমাম মালিক রহ অমুসলিম দের দিয়্ত মুসলিমদের দিয়ত এর অর্ধেক বলে মত দিয়েছেন ( নায়্লুল আওতার খ ১ প্রস্ত ৭৯৫ ও বিদ্রাতুল মুজতাহিদ খ ২ পৃষ্টা ৪১৪ ) 

পক্ষান্তরে আব্দুল্লাহ বিন  ওমর বর্ণনা করেছেন যে নবী পাক এরশাদ করেন জিম্মির দিয়্ত মুসলিমদের দিয়্ত এর অনুরূপ ( বায়হাকী খ ৮ পৃষ্টা ১০২) 


আর এই হাদিসের ওপর ভরসা করেই ইমাম আবু হানিফা  ও ইমাম সূফিয়ান সাওরী ( রহ) দিয়্ত মুসলিম ও  অমুসলিম দের ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন বলে মত দিয়েছেন। 
কিন্তু হজরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহ  উভয় হাদিসের প্রতি সামঞ্জস্য রেখে নিজস্স্য ইজতেহাদ প্রয়োগ করেন।  তিনি এ বিষয় বেক্ষা দিতে  গিয়ে বলেন যে কোনো  বেক্তির মিত্তুতে  যেমন তার নিকটাত্তিয় গন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠিক তেমন জিজিয়া কর থেকে বায়তুল মাল ও বঞ্চিত হয়েছে / তাই দিয়ত (রক্তপণ ) এর অর্ধেক তার আত্তীয় দের কে ও বাকি অর্ধেক বায়তুল মালে জমা কর (বায়হাকী ৮ খ ১০২ ) 

প্রকাশ থাকে যে একজন এর ইজতেহাদ কে আর একজন মুজতাহিদ নাও গ্রহণ করতে পারেন /   ইটা এতক্ষণ থেকে বোঝা গেল  যে একটা ইজতেহাদের মাসালা মাত্র  / কিন্তু  অব্চচের বিষয় যে একজন সাহাবীকে এই ভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এ অভিযুক্ত করা হয়েছে / আরো জেনে আশ্চর্য হবেন 

যে হজরত ওমর ও অসমান রাযিয়াল্লাহ এর ও এই বিষয় মতভেদ ছিল / ওনাদের আমলে একজন জিম্মির দিয়্ত (রক্তপণ) ছিল মুসলিম দিয়তের এক তৃতীয়াংশ / আর ইমাম শাফি (রহ) এই মত গ্রহণ করেছেন (বিদাতুল মুজতাহিদ খ২ পৃষ্টা ৪১৪) 

এই খানে আরো একটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ইমাম যুহুরি দিয়্ত এর পরিবর্তন কারী বলেছেন হজরত মুয়াবিয়া কে কিন্তু দিমত প্রকাশ  করেন নাই।  কারণ এই মাত্র ২ দুই জন খোলাফায়ে রাশেদিনের থেকে হাদিস ও দেখলেন আপনি।  এনাদের সময় দিয়ত ছিল ৩ এর ১ অংশ মাত্র।  

আজ অত্যান্ত অব্চচের সাথে বলতে হচ্ছে যে যে সাহাবীর বিষয় নবী পাকের ভবিষ্যত বাণী ছিল যে ;- তিনি সপ্নে দেখে উম্মে হারাম (রা) কে বলেন যে আমার একদল উম্মত কে আমার সামনে পেশ করা হয়েছে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত রত জাহাজের মধ্যে আরোহন করে , বাদশাহর মত বা সিংহাসনে তারা উপবিষ্ট(বুখারী শরিফ , ৬৫৩০ নং হাদিস) 

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নৌবহর নির্মাতা ও সমুদ্র পথে জিহাদ্কারী এই সাহাবী , নবী পাক বলেগেছেন যে সেই প্রথম সমুদ্র পথে জিহাদ কারিগন বাদশাহর মত সিংহাসনে উপবিষ্ট, এই সেই সাক্স হজরত মুয়াবিয়া রাজিয়াল্লাহ্কে আজ ১৪০০ বছর পর দিয়তের  অর্থ আত্মসাতের মরা মানুষের আত্তীয় দের হক খাওয়ার মত অপবাদ একজন জ্ঞান পাপী আলেমের কাছ থেকে কলম এর খোচায় খোচায়  !!!!! 
মাওলানা মউদুদী , আমি সোহেল রানা বলতে চাই ,আপনি বেনজির (সব সময় দেখা যায় না ) লেখক হতে পারেন।  কিন্তু আপনার কিতাব চোখ বন্ধ করে পরার বা মেনে নেয়ার মত না।  
আর মওদুদীর উম্মত গণ , তোমাদের মাঝে কি কোনো হ্যায়া সরম আছে  ? মাওলনা মওদুদী তোমাদের তো মডেল , এই তোমাদের মডেল দেখ কত বড় গুস্তাক এ সাহাবা।  যারা আমার নবীর প্রানপ্রিয় সাহাবাদের শানে এই রকম অপবাদ লাগায় তার প্রতি কি আমার নবী রাজি খুসি থাকতে পারে ? জবাব দিবেন 

সোহেল রানা 


রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৪

ইলিয়াছ মেওয়াতি কে সাহাবা দের সাথে তুলনা :-

ইলিয়াছ মেওয়াতি  কে সাহাবা দের সাথে তুলনা :- 

তাবলিগ সমাচার :-৩
 
মাওলানা ইলিয়াছ মেও-য়াতি  কে সাহাবীদের সাথে তুলনা।  

সাইয়েদ আবুল হাসান নদভী এর লেখা (মাওলানা ইলিয়াচ ও তার দ্বীনি দাওয়াত)  এ লিখেছেন যে উম্মী বিবি (মাওলানা ইলিয়াছ এর মা)  মাওলানা ইলিয়াছ কে অত্যান্ত স্নেহ করতেন।  আর প্রায় বলতেন আখতার( ইলিয়াচ এর ডাক নাম) আমি তোমার মাঝে সাহাবীদের সুঘ্রান পাই।  কখনো পিঠের উপর হাত রেখে বলতেন আমি জানি না কি রহস্য।  সাহাবা কেরামদের মত কিছু আকৃতি আমি তোমার সাথে চলা ফেরা করতে দেখি।  (মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত পৃষ্টা ৪৯) 

এর পর লিখেছেন যে সুরু থেকেই মাওলানা ইলিয়াছ এর মাজে সাহাবা সুলভ বৈশিষ্ট ও জজবা বিদ্দিমান ছিল যা দেখে শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান বলতেন ইলিয়াছ কে দেখলে আমার সাহাবাদের কথা  মনে পরে যায়।   পৃষ্টা ৪৯  একই কিতাব।  

এবার লক্ষ্য করুন।   উক্ত কিতাবে ৪৯ নং পৃষ্টায় একবার বলা হয়েছে যে সাহাবাদের সুঘ্রান পায় তার মা তার সরির থেকে।   এই কিতাবের সুরু তে পৃষ্টায় তার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবুল হাসান তিনি সব সময় অত্যান্ত রোগা ছিলেন এমন কি জীবনের শেষ নিশ্বাস ও অত্যান্ত রোগাক্রান্ত হয়েই তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে যান।  

আর এনার মাঝে তার মা সাহাবাদের সুগ্রান পেত। 
 এর পরই বলেছে যে আমি জানি না কি রহস্য তোমার সাথে আমি সাহাবাদের কিছু আকৃতি চলা ফেরা করতে দেখি।   
আবার দেখুন সাহাবাদের  আকৃতি চলা ফেরা করতে দেখতে পেত মাওলানা ইলিয়াছ এর সাথে। তার মানে কিছু সাহাবী তার সাথে চলা ফেরা করত।   
 অব্চচ।   
আচ্ছা সাহাবা গণ কার সাথে চলা ফেরা করত ? আমার নবী হজরত মুহাম্মদ  সল্লেল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এর সাথে।   কিন্তু তার মা দেখত সাহাবা দের কিছু আকৃতি মাওলানা ইলিয়াছ এর সাথে ঘুরা ফেরা করত।  আর এই কথা দেওবন্দী গণ তাদের কিতাবে ফলাউ করে প্রচার করে আর একটা বার চিন্তা ও করে না আমরা কি বলতে যাচ্ছি। এটা কি মাওলানা ইলিয়াছ এর জন্য নবীর দরজা খোলা হলনা ! জবাব দিবেন আপনারা।  
 
এর পর দেওবন্দিদের আর এক মহান আলেম শায়েখ উল হিন্দ , যার অর্থ গোটা হিন্দুস্থান এর শায়েখ  তার উপর আর কেউ নাই।  সে কি বলে ইলিয়াছ কে দেখলে আমার সাহাবাদের কথা মনে পরে।  তার মানে হচ্ছে যে তিনি অনার মাঝে সাহাবাদের কে দেখতে পাতেন।   পিছের কথা ও বলে রাখি যে এই ইলিয়াছ সাহেব যখন ছোট ছিলেন তখন রশিদ আহমাদ  গান্গুহীর কাছে যখন পরতেন এই কিতাবের ৫১ নং পৃষ্টায় বলা হয়েছে যে রশিদ আহমাদ গান্গুহিকে না দেখলে তার মনে শান্তি আস্ত না।   মাঝে মাঝে গভীর রাতে ও  রসদ  আহমাদ এর কামরায় যেতেন ও তার চেহরা দেখে মন কে তৃপ্ত করতেন।  আর তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর 

এই সেই রশিদ আহমাদ গান্গুহী যিনি সকলের সামনে কাসেম নানুতাভির সাথে সমকামিতার আচরণ করেছেন। আর কাসেম নান্য্তাভি বলত জনাব এ কি করছেন সবার সামনে।  একা একা হলে অন্য কথা। গোপনে গোপনে যে কত করেছে তা আল্লাহ জানে ( আরওয়া -এ- ছালাছা ) পৃষ্টা ২৮৯। 

রাতের অন্ধকারে কি দেখে মন তৃপ্ত করত এখন যা পারেন আপনারা বোঝেন। 


যার নামে লোকজন  সমকামিতার উভিযোগ ও উক্খাপন করে সেই ইলিয়াছ মেওয়াতি কে দেখলে নাকি মাহমুদুল হাসান এর সাহাবাদের কথা মনে পরত।   সাহাবীরা কি এমন হয় ? 

নিজেদের আলেমদের ইজ্জাত বাড়ানোর জন্য আর কত মিথাচার করবেন ? নবী ,রাসুল, উম্মুল মোমেনিন , মা ফাতেমাতুজ জোহরা সবার প্রতি  আপনারা নিজেদের ইজ্জাত বাড়ানোর জন্য মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন।  এখন আপনাদের আলেম কে সাহাবা এর সাথে তুলনা করছেন।   সাহাবা গণ এদের মাওলানা ইলিয়াছ এর সাথে ঘোরে বা সাহাবাদের কথা মনে পরে তাকে দেখলে !!!! কি এসব ? 
সাহাবা গণ এর ইজ্জাত এত  কম !!!! আপনাদের কাছে ? 

জবাব দিন দেও-ভুত গণ 

সোহেল রানা 

শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৪

Iliyach er family detail

তব-লিগ সমাচার :-২
:- গত কাল সময় সল্পতার কারণে পোস্ট করতে পারি নাই।  যাই হোক  করছি আর এমন হবে না।  তব-লিগ সমাচার এর গত পর্বে মেওয়াত জনগোষ্টির ধর্মিও অবস্থা ও পরিবেশ তুলে ধরেছিলাম যে কেমন পরিবেশ থেকে এই বেদাতি তাবলিগ নামের তব-লিগ এর সুরু হয়েছিল আশা করছি অনেকে দেখেছেন।  মাওলানা ইলিয়াছ সাহেবের ও কিছু ছোট বেলার কথা আপনাদের জানা প্রজন। 
 
  দেওবন্দী দের কিতাব গুলো যদি কেউ একটু সুন্দর করে নিরীক্ষণ করেন তা হলেই তারা নিজেদের কোথায় নিজেরাই জুতার মালা গলায় পরে।  আপনাদের কে  আর কষ্ট করার প্রয়োজন নাই।  

এমনি একটি কথা হচ্ছে যে ;- ছোট বেলাতেই পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী মাওলানা ইলিয়াছ সাহেব কোরান এর হেফজ সম্পুর্ন করেন।  তাদের পরিবারে হেফজুল কোরান এতই বেশি ছিল যে মসজিদের দের কাতারের মধ্যে মুয়াজ্জিন ছাড়া কোনো গায়ের এ হেফজুল কোরান ছিল না।  ( সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী এর লেখা কিতাব , মাওলানা ইলিয়াছ ও তার দ্বীনি দাওয়াত পৃষ্টা ৪৯) 

এবার লক্ষ্য করুন  ওনাদের পরিবারের মধ্যে এত পরিমান হাফেজ ছিল বলা হয়েছে যে মসজিদের দের কাতারের মধ্যে মুয়াজ্জিন ছাড়া সব কোরান এর হাফেজ খাড়া হত।  আচ্ছা ভাই মসজিদের লাইন এ কতজন লোক এক সাথে খাড়া হতে পারত  ? মিনিমাম ২০ জন এক কাতারে , তা হলে দের কাতারে ৩০ জন হাফেজে কোরান ছিল।  ইটা কি কোনো সাধারণ মানুষের বংশ ছিল ? নাকি রাবন এর বংশ ছিল  ? হিন্দু দের ধর্মে সবচে যে বড় বংশের নাম এসেছে তা রাবণ এর বংশ।  তবে সেখানে ও এত পরিমান পুরুস এর সংখা উল্লেখ আছে বলে আমার মনে হয়না।  মেওয়াত এ হয়ত আর এক বড় রাবন থাকত ইলিয়াছ সাহেবের এর বংশের মধ্যে।  তাই এমন হতে ও পারে।  তাই না কি রে দেওবিন্দী গণ ? 

আসলে এমন কিছুই না।  এরা নিজেদের আলেমের বংশের ইজ্জাত লোকদের কে বোঝানোর জন্য এমন কথা বলেছেন।  আর যদি মেওয়াত এ ৩০ জন কোরান এ হাফেজ থাকত তা হলে এই কিতাবের ৭৩-৭৪ এ আধা হিন্দু বলে কেন লিখলেন সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ? জবাব দেন 

আচ্ছা এদের বংশ যদি দেখা যায় উক্ত কিতাবে যা বর্ণনা করেছেন সে মতে পুরুস এর সংখা  মাত্র ৪ জন এর অধিক না।  অথচ কিভাবে কিতাবে মিথ্যাচার করেছে !!! 

Hajir najir bye kazi bhai 6

ইবনে কাইয়েম আল-জওযিয়া নিজ ‘কিতাবুর্ রূহ’ বইয়ে লিখে:

”প্রকৃতপক্ষে, জীবিত ও মৃতদের রূহ একত্রিত হওয়ার বিষয়টিও সত্য-স্বপ্নেরই রকম-বিশেষ, যেটা মানুষের কাছে অনুভূত বিষয়সমূহের সমশ্রেণীর। তবে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

”কারো কারো মতে রূহের মধ্যে সর্বপ্রকার এলম্ (জ্ঞান) বিদ্যমান। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিদের পার্থিব কর্মচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততা ওই জ্ঞান অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তবে নিদ্রাবস্থায় যখন কোনো রূহ সাময়িকভাবে দেহ থেকে বের হয়ে যায়, তখন তা আপন যোগ্যতা ও মর্যাদা অনুযায়ী অনেক বিষয় অবলোকন করে থাকে। আর যেহেতু মৃত্যুজনিত কারণে দেহ থেকে রূহ পুরোপুরি মুক্তি লাভ করে, সেহেতু রূহ জ্ঞান ও চরম উৎকর্ষ লাভ করে। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু সত্য ও কিছু ভ্রান্তির অবকাশ রয়েছে। কেননা, মুক্তিপ্রাপ্ত রূহ ছাড়া ওই সব জ্ঞান লাভ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

”কোনো রূহ পুরোপুরি মুক্তি লাভ করা সত্ত্বেও আল্লাহর ওই সব জ্ঞান সম্পর্কে অবহিত হতে পারে না, যেগুলো তিনি তাঁর রাসূল (আ:)-বৃন্দকে প্রদান করে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। আর রূহ পূর্ববর্তী নবী (আ:) ও তাঁদের কওমের বিস্তারিত কোনো তথ্য, যেমন - পরকাল, কিয়ামতের আলামত, কোনো কাজের ভাল-মন্দ ফলাফল, আল্লাহর আদেশ-নিষেধের বিবরণ, আল্লাহ পাকের আসমাউল হুসনা (সুন্দর নামসমূহ), আল্লাহর গুণাবলী, কার্যাবলী ও শরীয়াতের বিস্তারিত বিষয়াদিও জানতে পারে না। কেননা, এ সমস্ত বিষয় শুধু ওহী বা ঐশী প্রত্যাদেশের মাধ্যমে জানা যায়। মুক্তিপ্রাপ্ত রূহের পক্ষে এসব বিষয় জানা সহজ হয়ে ওঠে। তবে ওহীর মাধ্যমে যে জ্ঞান লাভ করা যায়, সেটাই শ্রেষ্ঠ ও সঠিক।” [ইবনে কাইয়েম আল-জওযিয়া কৃত ‘কিতাবুর রূহ’ (১৯৭৫ সংস্করণের ৩০ পৃষ্ঠা; মওলানা লোকমান আহমদ আমীমীর অনূদিত বাংলা সংস্করণের ৪৯ পৃষ্ঠা, ১৯৯৮)।]

’মীলাদ মাহফিলে মহানবী (দ:) আসেন মর্মে বিশ্বাস’ (The Belief that the Prophet Comes to the Milad Meeting) শীর্ষক একটি ওয়েবসাইটে আরেকটি আপত্তি উত্থাপন ও প্রচার করা হয়েছিল, যা নিম্নরূপ:

”কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন যে রাসূলুল্লাহ (দ:) মীলাদের মাহফিলে আসেন, আর এই বিশ্বাসের কারণে তাঁরা সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ান। এটা একেবারেই মিথ্যা। রাসূলুল্লাহ (দ:) কোনো ঈদে মীলাদ আন্ নবী (দ:) মাহফিলেই আগমন করেন না। তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় তাঁর রওযা মোবারকে অবস্থান করছেন এবং ’এয়াওমুল কেয়ামাহ’ তথা কেয়ামত দিবসে (শেষ বিচার দিনে) সেখান থেকে উঠবেন.......নিচের আয়াত ও হাদীস এর সাক্ষ্য বহন করে: রাসূলুল্লাহ (দ:)-কে সম্বোধন করে আল-কুরআনে সুস্পষ্ট এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আপনাকেও বেসালপ্রাপ্ত (পরলোকে আল্লাহর কাছে গমন) হতে হবে এবং তাদেরকেও মরতে হবে। অতঃপর তোমরা কেয়ামত দিবসে আপন প্রতিপালকের সামনে ঝগড়া করবে’ (সূরা যুমার, ৩০-৩১ আয়াত)। অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (দ:)-কে সমগ্র মানব জাতির সাথে একযোগে সম্বোধন করা হয়েছে এভাবে - ‘অতঃপর তোমরা এরপরে অবশ্যই মরণশীল। অতঃপর তোমাদের সবাইকে কেয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে’ (সূরা মু’মিনূন, ১৫-১৬ আয়াত)। মহানবী (দ:) স্বয়ং একটি হাদীসে বলেন, ‘কেয়ামত দিবসে আমার রওযা-ই সর্বপ্রথম খোলা হবে এবং আমি-ই সর্বপ্রথম শাফায়াত করবো, আর আমার সুপারিশও সর্বপ্রথম গৃহীত হবে।’ এ সকল আয়াত ও হাদীস (অনুরূপ অন্যান্য দলিলসহ) প্রমাণ করে যে কেয়ামত দিবসে গোটা মানব জাতিকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করা হবে, আর রাসূলুল্লাহ (দ:)-ও এর ব্যতিক্রম নন। এ বিষয়ে পুরো উম্মতের এজমা তথা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” [নোট-২১: মুফতী এবরাহীম দেসাঈ, ফতোওয়া বিভাগ, জামিয়াতে উলেমায়ে ইসলাম, দক্ষিণ আফ্রিকা।]

Hajir najir bye kazi bhai 5

অপর দিকে, ‘আল-হাযির’ শব্দটি নিরুদ্ধ, কেননা আরবী ভাষায় এটি কোনো স্থানে শারীরিকভাবে উপস্থিত হওয়াকে বোঝায়। অর্থাৎ, এটি সৃষ্টিকুলের এমন এক বৈশিষ্ট্য যা স্রষ্টা হতে নিরুদ্ধ। সুতরাং ‘হাযের’ শব্দটি ’সর্বত্র উপস্থিত’ শব্দটির মতোই আল্লাহর ক্ষেত্রে কেবল আলঙ্কারিকভাবে ব্যবহার করা যায়, যাতে বোঝানো যায় যে তিনি সর্বজ্ঞানী; কিন্তু আল-কুরআন, সুন্নাহ কিংবা প্রাথমিক জমানার ইমামবৃন্দের লেখনীর কোথাও ‘সর্বত্র উপস্থিত’ বা ‘হাযের’ হওয়াকে খোদায়ী গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ বা বর্ণনা করা হয় নি। আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভাল জানেন।

ওপরে উক্ত আপত্তি উত্থাপনকারীর কাছে যখন এ খণ্ডনমূলক বক্তব্যের কিছু কিছু পেশ করা হয়, তখন সে বলে: “হাযের ও নাযের বলতে আমরা বোঝাই আল্লাহর জ্ঞান সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক। তাঁর সম্পূর্ণ জ্ঞান হতে কোনো কিছু আড়ালে নয়। আরেক কথায়, তিনি হলেন ‘আলীম’ এবং তাঁর এই সিফাত আল-কুরআনে বার বার উল্লেখিত হয়েছে।” ওই আপত্তি উত্থাপনকারী এ জবাব দিয়ে স্বীকার করে নিয়েছে:

. সে ‘আলীম’ বোঝাতে ‘হাযের’ ও ‘নাযের’ শব্দ দুটোকে আলঙ্কারিকভাবে ব্যবহার করেছে;
. নিজের কৃত ব্যাখ্যা অনুযায়ী প্রথমোক্ত শব্দটি দ্বারা শেষোক্ত দুটো শব্দ বোঝাতে গিয়ে সে যেমন (ক) ভাষাতত্ত্ব/বিদ্যার ওপর নির্ভর করে নি, তেমনি (খ) ’নস-এ-শরঈ’ তথা শরীয়তের দলিলের ওপর নির্ভরও করে নি।

আমরা শায়খ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী (রহ:)-এর “আল্লাহ হাযের ও নাযের” মর্মে বক্তব্যের প্রসঙ্গে আবার ফিরে যাচ্ছি; তাতে কিছু শর্তও প্রযোজ্য:


/ -- খোদায়ী নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের মৌলিক নিয়ম-কানুন, যা ’আল-আসমা’ ওয়াস্ সিফাত’-বিষয়ক সালাফ-এ-সালেহীন (প্রাথমিক যমানার বুযূর্গ উলামা) ও খালাফ-এ-সোয়াদেকীন (পরবর্তী যুগের বুযূর্গ উলামা)-বৃন্দের ওপরে বর্ণিত নীতিমালার আলোকে প্রণীত, তা নাকচ করতে কোনো বিচ্ছিন্ন মন্তব্যকে ব্যবহার করা যাবে না।

/ -- বাস্তবতার আলোকে, শায়খ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী (রহ:) তাঁর বক্তব্যকে যত্নসহ এমনভাবে সাজিয়েছেন যা নকশবন্দিয়া তরীকার আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ার আওতাধীন কোনো খালেস (একনিষ্ঠ) মুরীদের খোদায়ী জ্ঞানের সর্বব্যাপী প্রকৃতি-বিষয়ক সচেতনতাকে দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করে; ঠিক যেমনি শাযিলী তরীকার পীরেরা তাঁদের মুরীদানকে বলতে শেখান “আল্লাহু হাযিরি”, ”আল্লাহু নাযিরি”, ”আল্লাহু মাঈ”। এই সকল অভিব্যক্তি বা প্রকাশভঙ্গি খোদাতা’লা সম্পর্কে গভীর সচেতনতাকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই; আর প্রকৃতপক্ষে এগুলোর সবই ঐশী জ্ঞানের এমন বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতি দিকনির্দেশ করে যা সৃষ্টিকুলের ‘হুযুর’ বা ’নযর’-এর সাথে কোনো রকম সাদৃশ্য রাখে না, কেবল নামের সাযুজ্য ছাড়া।

/ -- তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ্ থেকে, আরবী ভাষায় এবং মহানবী (দ:)-এর সম্পর্কে যাঁরা ‘হাযের’ শব্দটি ব্যবহার করেন, তাঁদের থেকে আলাদা কোনো কিছুকে বুঝিয়েছেন শায়খ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী (রহ:)। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ‘হাযের’ বলতে স্বাভাবিক সৃষ্টিজাত ‘উপস্থিতির’ অর্থে বোঝান নি, বরং তিনি একে ‘আল-এলম আল-হুযূরি’ তথা ঐশী জ্ঞানের অ-সৃষ্টিজাত অর্থে বুঝিয়েছেন। এটা তিনি ‘মকতুবাত শরীফ’ গ্রন্থের ৩য় খণ্ডে শাহজাদা খাজা মোহাম্মদ সাঈদকে লেখা ৪৮নং চিঠি, যার শিরোনাম ’খোদার নৈকট্যের রহস্য ও তাঁর যাত মোবারক সম্পর্কে আত্মপ্রকাশ’, তাতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। এটা একটা অতি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও বিশেষায়িত অর্থ যাকে এই দৃষ্টিকোণ্ থেকেই দেখতে হবে, যদি না কেউ শায়খ সেরহিন্দী যে অর্থে বুঝিয়েছেন তার পরিপন্থী কোনো মানে বের করতে আগ্রহী হয়।

/ -- ’মুফতী’ খেতাবে পরিচিত আমাদের সমসাময়িক কতিপয় ব্যক্তি আকিদাগত কোনো বিষয়ে শর্তারোপের সময় নতুনত্বের সাথে এই একই বাক্য ব্যবহার করে থাকেন, যার ফলে তাদের দ্বারা ওই বাক্যের ব্যবহারের মানে কী তা নিয়ে যৌক্তিক সংশয় দেখা দেয়; এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন তারা এর সাথে যোগ করেন (নিজেদের) বানানো শর্ত, যথা - “আল্লাহর ছাড়া আর কারো প্রতি ‘হাযের’ ও ’নাযের’ শব্দগুলো প্রয়োগ করা যাবে না।” এ কথা বলে তারা বিচারকের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় পূর্বশর্তটি বাতিল করে দিয়েছেন যা দ্বারা তিনি যে কোনো এবং যে সকল মামলায় সাক্ষী গ্রহণের দরকার সেগুলোতে সাক্ষী নিতে না পারেন। বরঞ্চ তারা (হয়তো) বোঝাতে চান, “আল্লাহ ছাড়া আর কারো প্রতি সেই অর্থে এটি আরোপ করা যাবে যে অর্থে আল্লাহর প্রতি আরোপ করা হয়েছে”, যখন (আদতে) তা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদের প্রতিও আরোপ করা যায় মাখলুক তথা সৃষ্টির প্রতি আরোপযোগ্য অর্থে।


/ -- সৃষ্টিকুল-শ্রেষ্ঠ মহানবী (দ:)-এর প্রতি যাঁরা ‘হাযের’ ও ’নাযের’ শব্দগুলো ব্যবহার করেন, তাঁরা তাঁর সৃষ্টিজাত মহান রূহ বা সত্তাকে আল্লাহ যেখানে চান সেখানে শারীরিক ও আত্মিকভাবে উপস্থিত হওয়ার অর্থে গ্রহণ করেন। আর যারা মহানবী (দ:) এই অর্থে উপস্থিত হতে পারেন মর্মে বিষয়টিকে অস্বীকার করে, তারা ইসলাম ধর্মত্যাগ করেছে।

/ -- মহানবী (দ:)-এর ‘হাযের’ ও ’নাযের’ লকবগুলোর ব্যবহার বাতিলের পক্ষে দলিল হিসেবে বিরোধিতাকারীরা যা পেশ করে থাকে, তার কোনোটাই একে নাকচ করে না। এ লকবগুলো আল্লাহর সাথে তাঁর ভাগাভাগি করা অন্যান্য লকবের মতোই যা আমরা (ইতিপূর্বে) পেশ করেছি; যেমন - আল্লাহ হলেন ‘রউফ’ ও ’রাহীম’, এবং তিনি ‘নূর’ ও ‘শাহীদ’ (সাক্ষী) এবং ‘আল-শাহিদ’ (সাক্ষ্যদাতা)-ও। আর তিনি তাঁরই প্রাক্ অনন্তকালের বাণী আল-কুরআনে এই লকবগুলো রাসূলুল্লাহ (দ:)-কে দান করেছেন।

/ -- ইসলামী বিদ্বান ব্যক্তিদের উদ্ধৃতির প্রশ্ন উঠলে বিরোধিতাকারীদের উচিত এ কথা স্বীকার করে নেয়া যে ’হাযের’ ও ‘নাযের’ গুণ/বৈশিষ্ট্যগুলো আহলে সুন্নাতের ওপরে উদ্ধৃত মোল্লা আলী কারীর মতো উলামাবৃন্দ আরোপ করেছেন এবং আরও আরোপ করেছেন সে সকল অগণিত আউলিয়া-বুযূর্গ যাঁরা দিন-রাত হুযূর পাক (দ:)-এর (রূহানী) সান্নিধ্যে ছিলেন বলে সর্বজনজ্ঞাত; এঁদের মধ্যে রয়েছেন - শায়খ আবুল আব্বাস আল-মুরসী (রহ:), শায়খ আবুল হাসান শাযিলী (রহ:), শায়খ আব্দুল আযীয দাব্বাগ (রহ:), এবং সম্ভবত শায়খ আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী (রহ:) নিজেও (আল্লাহ তাঁদের ভেদের রহস্যকে পবিত্রতা দিন)।

Hajir najir bye kazi bhai

মোল্লা আলী কারীর বক্তব্য সম্পর্কে এক দেওবন্দীর মিথ্যা দাবি

সম্প্রতি জনৈক দেওবন্দী লেখক এক আজব দাবি উত্থাপন করেছে যে মোল্লা আলী কারী তাঁর ‘শরহে শেফা’ গ্রন্থে নাকি আসলে বলেছিলেন, “মহানবী (দ:)-এর রুহ (মোবারক) মুসলমানদের ঘরে উপস্থিত নন ” (লা আন্না রুহাহু হাযিরাতুন ফী বুইউতিল্ মুসলিমীন), যা মোল্লা কারীর বক্তব্যের ঠিক উল্টো! ওই দেওবন্দী বলে:

”তিনি (মোল্লা আলী কারী) এই বিষয়ে তাঁর ‘শরহে শেফা’ গ্রন্থে আলোচনা করেছেন যে লা আন্না রুহাহু হাযিরাতুন ফী বুইউতিল মুসলিমীন - অর্থাৎ, মহানবী (দ:)-এর রূহ (মোবারক) মুসলমানদের ঘরে উপস্থিত মর্মে ধারণাটি ভুল। কিছু কিছু সংস্করণে (আরবী) 'লা' শব্দটি বাদ পড়ায় কোনো কারণ ছাড়াই কতিপয় ব্যক্তির মাঝে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে; এঁদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন মুফতী আহমদ এয়ার খান সাহেব (’জাআল হক্ক’ ১৪২ পৃষ্ঠা দেখুন)।.....মোল্লা আলী কারী স্বয়ং তাঁর সকল সুস্পষ্ট উদ্ধৃতিতে হাযের ও নাযেরের ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন। যারা তাঁর সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট (অপ্রাসঙ্গিক) উদ্ধৃতিগুলোর ওপর নির্ভর করেন, তাঁরা সম্পূর্ণ ও নিশ্চিতভাবে ভ্রান্ত।” [নোট-১৫: সারফরাজ সাফদার কৃত ‘আঁখো কি দানদাক’ (পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮)।]

ওপরের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ দাবি কেউ তখনি উত্থাপন করতে পারে, যখন আরবী ভাষাগত জ্ঞানে সে মূর্খ হয়। কেননা, মোল্লা আলী কারী তাঁর বক্তব্য আরম্ভ করেন আরবী শব্দ ‘আয়’ (অর্থাৎ/মানে) দ্বারা, যার সাথে না-বাচক (নফি-সূচক) বাক্য জুড়ে দেয়া আরবী ব্যাকরণগত ভুল হবে; যেমন - ‘মহানবী (দ:)-এর রূহ মোবারক মুসলমানদের ঘরে উপস্থিত নন।’ সত্য হলো, আরবী ‘লা’শব্দটি বাদ পড়ে নি, কারণ তা প্রথমাবস্থায় সেখানে ছিলই না; আর তা ওখানে ছিল মর্মে দাবি করাটা তাহরিফ তথা দলিল রদ-বদলের অপচেষ্টার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। অধিকন্তু, মোল্লা আলী কারী ’উপস্থিত’ বোঝাতে যে (আরবী) শব্দ ‘হাযির’ ব্যবহার করেছেন, তা পুং-লিঙ্গে (মোযাক্কের); ‘হাযিরাতুন’ তথা স্ত্রী-লিঙ্গে (মোয়ান্নেস) নয়। কেননা, রুহের ক্ষেত্রে উভয় লিঙ্গ ব্যবহৃত হলেও মহানবী (দ:)-কে উদ্দেশ্য করার সময় মোযাক্কের ব্যবহার করা অধিক যথাযথ।

এক দেওবন্দী কর্তৃক নবুয়্যতের গুণাবলী অস্বীকার

দেওবন্দীদের অপর এক ব্যক্তি যাকে কেউ কেউ ’আলেম’ মনে করেন, সে হুযূর পাক (দ:)-এর প্রতি হাযের ও নাযের হওয়ার বৈশিষ্ট্য আরোপ করার বেলায় আপত্তি উত্থাপন করেছিল; কেননা তার দাবি অনুযায়ী এই বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী একমাত্র আল্লাহতা’লারই অধিকারে। তর্কের ভিত্তি হিসেবে যদি এই কথাকে সত্য হিসেবে ধরেও নেয়া হয়, তথাপি যুক্তি ভুল। কেননা, এ কথা এই রকম শোনায় যে ‘আর্ রউফ’ ও ‘আর-রাহীম’ খোদায়ী গুণাবলী হবার কারণে সেগুলো নবুয়্যতের গুণাবলী হতে পারে না। ইমাম কাজী আয়ায (রহ:) তাঁর ‘শেফা শরীফ’ গ্রন্থে এই কূটতর্ককে খণ্ডন করেছেন এ কথা বলে:

”জেনে রেখো, আল্লাহ তাঁর আম্বিয়া (আ:)-দের অনেকের প্রতি সম্মানের নিদর্শনস্বরূপ তাঁর নিজের কিছু নাম মোবারক তাঁদেরকে দান করেছেন; উদাহরণস্বরূপ, তিনি হযরত এসহাক (আ:) ও হযরত ইসমাইল (আ:)-কে ‘আলিম’ (জ্ঞানী) ও ‘হালিম’(ধৈর্যশীল) নামে ডেকেছেন। ঠিক তেমনি হযরত ইবরাহীম (আ:)-কে ‘হালিম’, হযরত নূহ (আ:)-কে ‘শাকুর’ (কৃতজ্ঞ), হযরত মূসা (আ:)-কে ’কারীম’ (মহৎ) ও ‘ক্কাওয়ী’ (শক্তিশালী), হযরত ইউসুফ (আ:)-কে ‘হাফেয,’ ‘আলেম’ (জ্ঞানী অভিভাবক/রক্ষক), হযরত আইয়ুব (আ:)-কে ‘সাবুর’(ধৈর্যবান), হযরত ঈসা (আ:) ও হযরত এয়াহইয়া (আ:)-কে ’বারর’ (আত্মোৎসর্গিত), এবং হযরত ইসমাইল (আ:)-কে ‘সাদিক আল-ওয়াদ’আ’ (প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী) নামে ডেকেছেন.....তথাপি তিনি আমাদের মহানবী (দ:)-কে বেছে নিয়েছেন (এঁদের মধ্যে) এই কারণে যে, তাঁরই মহাগ্রন্থে (আল-কুরআনে) এবং আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দের পবিত্র জবানে বিবৃত তাঁর (বহু) নাম মোবারকের অঢেল সম্পদ তিনি মহানবী (দ:)-কে মন্ঞ্জুর করেছেন।” [নোট-১৬: ইমাম কাজী আয়ায প্রণীত ‘শেফা শরীফ’; ইংরেজি অনুবাদ - আয়েশা আবদ আর-রাহমান বিউলী (গ্রানাডা, মদীনা প্রেস, ১৯৯২), পৃষ্ঠা ১২৬।]

ওপরে উদ্ধৃত প্রমাণাদি সন্দেহাতীতভাবে পরিস্ফুট করে যে ’হাযের’ ও ’নাযের’ নাম দুটো আল্লাহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত যদি হয়ও, তথাপি তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মধ্যে ওই বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী সন্নিবেশিত থাকার সম্ভাবনায় কোনো রকম বাধা নেই। বস্তুতঃ এই বিষয়টি সর্বজন-জ্ঞাত যে কেরামন কাতেবীন তথা কাঁধের দুই ফেরেশতা, ‘কারিন’, যমদূত আযরাঈল ফেরেশতা এবং শয়তানও উপস্থিত; এরা সবাই দেখছে, শুনছে, আর সুনির্দিষ্ট যে কোনো সময়ে সংঘটিত মানুষের সকল কর্মের সাক্ষ্য বহন করছে।

উপরন্তু, ‘হাযের’ ও ’নাযের’ কি খোদায়ী (ঐশী) নাম ও গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত? ইমাম আহমদ ফারুকী সেরহিন্দী (মোজাদ্দেদে আলফে সানী)-কে এ মর্মে উদ্ধৃত করা হয় যে তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহতা’লা প্রতিটি ও সকল ছোট ও বড় ঘটনা/পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকেফহাল এবং তিনি ’হাযের’ ও ’নাযের’। তাঁর সামনে প্রত্যেকের শরমিন্দা হওয়া উচিত।” [নোট-১৭: ‘মকতুবাত-এ-ইমাম-এ-রব্বানী, ১ম খন্ড, জব্বারী খানকে লেখা ৭৮ নং চিঠি।]

তবে খোদায়ী বৈশিষ্ট্য/গুণাবলী আজ্ঞাস্বরূপ এবং অনুমানেরও অতীত। যুক্তি-তর্ক, সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো কিছুর সাথে তুলনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কিংবা অন্য কোনো রকম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ঐশী বৈশিষ্ট্য/গুণাবলী উপলব্ধির কাজে ব্যবহার করা হয় না, বরং শরীয়তের মৌলিক দুটো উৎস কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে প্রকাশিত ঐশী প্রত্যাদেশই শুধু এ কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সমস্ত না হলেও বেশির ভাগ আকিদার কেতাবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আল-মাতুরিদীর আকায়েদ, তাতে এই মৌলিক বিশ্বাসটি উপস্থিত রয়েছে। অতএব, আমরা ‘আল-হাযের’ সম্পর্কে কথা বলতে পারবো না, যখন ‘আল-নাযের’ ‘আশ্ শাহীদের’-ই অনুরূপ, যা’তে ঐশী দৃষ্টিক্ষমতার মানে হলো খোদাতা’লার জ্ঞান। ইমাম বায়হাকী বলেন:

”আশ-শাহীদ তথা সাক্ষীর অর্থ সেই মহান সত্তা (খোদা) যিনি ভালভাবে জ্ঞাত যে সকল সৃষ্টি উপস্থিত থাকা অবস্থায় সাক্ষ্যের মাধ্যমে জানতে সক্ষম.......কেননা, দূরে অবস্থানকারী কোনো মানুষ তার ইন্দ্রিয়গুলোর সীমাবদ্ধতায় ভোগে; পক্ষান্তরে, আল্লাহতা’লা ইন্দ্রিয়ের মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি এর অধিকারী মানুষের মতো সীমাবদ্ধও নন।” [নোট-১৯: আল-বায়হাকী কৃত ‘আল-আসমা’ ওয়াস্ সিফাত’ (কাওসারী সংস্করণের ৪৬-৪৭ পৃষ্ঠা; হাশিদী সংস্করণের ১:১২৬-১২৭)।] {‘শাহীদ’ আল-কুরআনে বর্ণিত নবুয়্যতের একটি বৈশিষ্ট্যও}