বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৫

তাকবিয়াতুল ইমান খন্ডন --৩

তাকবিয়াতুল ইমান ----৩ 

বিগত ২ টা পোস্ট থেকে বোঝা যায় যে দেওবন্দিদের মধ্য এমন কোন সন্তান নেই , যে এমন মায়ের দুধ পান করতে পেরেছে যাতে আমার জবাব দিতে সক্ষম হয় । আর যারা হারামজাদা তারা কি করে জবাব দিবে এমন ব্যাভিচারিনি মায়ের দুধ পান করে ? 
এমন কি হোক না সে বালাকোটি ! 

তাকবিয়াতুল কিতাবের ৭ নং পেজে লিখেছেন যে ;- যদি কাফেরগন কে জিগ্গেস করা হয় , সারা দুনিয়ায় কাহার বাদশাহি ? এমন শক্তিশালী কে ? যিনি পৃথীবির সকল বিষয়ে সাহায্য করিয়া থাকেন , তাহার উপর আর কেহই সাহায্য করিবার ক্ষমতা রাখে না ? তবে তাহারা ও মুক্ত কন্ঠে বলিবে তিনি আল্লাহ ।
যদি তাহাই হয় , যদি আল্লাহ ব্যাতীত কোন বিষয়ে কাহারো কোন ক্ষমতা বা প্রভুত্ব না থাকে তবে তাহারে ছাড়িয়া অন্যের নিকট সাহায্য চাওয়া মাথায় প্রতারিত হওয়া ছারা আর কি হইতে পারে ? এই আয়াত দ্বারা জানা গেল যে , আল্লাহ তায়ালা  সমস্ত দুনিয়ায় কাহার ও উপরে কোন প্রকার ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার দেন নাই এবং কেহ কেহ কাহারো উপকার বা সাহায্য করিতে সমর্থ নহে ।
আর ইহা ও বোঝা গেল যে , হযরত পয়গম্বর (দ) সময় কাফেরগন তাহাদের দেব দেবীগুলোকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করিত না , তাহাদীগ কে আল্লাহর সৃষ্ট বান্দা বলিয়া মান্য করিত ।তথাপী দেব দেবী গুলোকে ভক্তি শ্রদ্ধা করা পুজা করা মনের বাসনা তাহাদিগকে জানানো , আল্লাহর দয়া পাইবার জন্য তাহাদিগকে মধ্যস্তাতা বা সুপারিশকারী মনে করা ইহাই তাহাদের শিরক এবং কুফরী ছিল ।সুতরাং যদি কেউ আল্লাহ ছারা অন্য কাহারো সহিত ওই প্রকার কার্য করে , তবে কুফরীতে আবু যাহেল সমতুল্য হবে ।  অতএব সকলের জানা উচিত যে শিরক শুধু আল্লাহর সমতুল্য বা প্রতিযোগি মনে করার উপরে নির্ভর করে না । বরং শিরকের আসল অর্থ এই যে , খোদা তায়ালা তাহার জন্য যাহা কিছু নির্দিষ্ট করিয়েছেন সেই সমস্ত কাজ অপরের জন্য করা হইলে - যাহার উদ্দেশ্য করা হয় ।যদি ও তাহাদিগ কে খোদারই সৃষ্টি , খোদা হইতে ছোট ও তাঁহারই বান্দা বলিয়া মনে করা হয়  ।তথাপি ইহা শিরক বলিয়া গন্য হইবে । 
(তাকবিয়াতুল ইমান পৃষ্টা নং ৭-৮ ) 


আমার ভাই , উপরের কথা গুলে ভাল করে পড়ে নিন আর একবার । এর পরে নিচে চোখ দিন । 


উপরে নিহত ইসমাইল বালাকোটির অনেক কথা বর্নিত হয়েছে। এত কথার জবাব আমি দিতে পারব না একই পোষ্টে । একটা কথা কে মুল আলোচনা হিসেবে গ্রহন করলাম । তা হল ;--
আল্লাহ তায়ালা  সমস্ত দুনিয়ায় কাহার ও উপরে কোন প্রকার ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার দেন নাই এবং কেহ কেহ কাহারো উপকার বা সাহায্য করিতে সমর্থ নহে ।( তাকবিয়াতুল ইমান পৃষ্টা নং ৭) 

উপরের কথা গুলো থেকে এটা প্রমান হয় যে , আল্লাহ তায়ালা কোন বেক্তিকে কাহারো উপরে এমন কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করিবার শক্তি বা সামর্থ দেন নাই , যাহা আল্লাহ তায়ালা তা নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন । যেমন কারো জীবন দেওয়া কারো মিত্তু দেওয়া । 

কেউ যদি কারো উপরে এমন কোন কথা আরোপ করে বা বিস্বাস করে বা দাবি করে তবা তাহা শিরক হইবে । আর এটা কোন আমাদের কিতাব নয় বরং এটা দেওবন্দিদের ভাষায় শহিদে অমর বালাকোট  শাহ ইসমাইল দেহলভী ।
আর শুধু দেওবন্দি নয় বরং বালকোটি সুন্নি বা গোলাপি সুন্নি যাদের কে বলা হয় তারা আর আহলে হাদিস রা ও  মান্য করে । 

এবার মুল আলোচনা করা যাক ;- 
 
দেওবনেদের কিতাব (আশরাফুস সাওয়ানেহ) এর ১ম খন্ড ১২৫ নং পেজে লিখেছেন যে ;- হযরত হাফেজ হুসাইন সাহানপুরী সাহেব , যিনি সাহানপুরের গন্যমান্য বেক্তিত্ব সহ সিলসিলাহ ভুক্ত বুযুর্গ ও ছিলেন ।একবার কারো জন্য বদদোয়া করেছিলেন আর সেই বেক্তি সঙ্গে সঙ্গে মারা যান ।তিনি স্বীয় কারামতে খুশি না হয়ে ঘাবড়ে যান ও চিঠি মারেফত আশরাফ আলী থানভী থেকে মাসয়ালা জিগ্গেস করেন যে ;-আমার কি হত্যা করার গোনাহ হল ? ( আশরাফুস সাওয়ানেহ) ১ম খন্ড পৃষ্টা নং ১২৫।

উক্ত মাসয়ালার জবাবে আশরাফ আলী থানভি লিখেছেন যে (- যদি আপনার মধ্য হস্তফেপ করার ক্ষমতা থাকে এবং বদ দোয়া করার সময় আপনি সেই ক্ষমতা দ্বারা কাজ আদায় করেছেন অর্থাৎ এই কাজ টা ইচ্ছাকৃত ধারনা ও ক্ষমতা বলে করেছেন যে এ লোকটা মারা যাক , তা হলে হত্যার গোনাহ হলো যেহেতু হত্যা ইচ্ছাকৃত । ও হত্যার কাফ্ফারা ও (দিয়ত)  ক্ষতিপুরন ওয়াজীব হবে ।( আশরাফুস সাওয়ানেহ ) ১ম খন্ড পৃষ্টা নং ১২৫। 

একবার হাফেজ আহমেদ হুসাইন ও আশরাফ আলীর আলোচনা টা দেখে নিন । 

প্রথমত হাফেজ হুসাইন সাহেব একজন বুযুর্গ ছিলেন ও ওনার বদদোয়ার কারনে একজন লোক মারা গেছে । 
আর দ্বীতিয়ত থানভী সাহেব লিখেছেন যে ;- যদি হস্তক্ষেপ  করার ক্ষমতা থাকে , 
মানে আল্লাহ ছারা অন্যের মিত্তু তে তাদের মতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা থেকে থাকে ।

&& এর পরে লিখেচে ও যদি বদ দোয়া করার সময় সেই ক্ষমতা দ্বারা কাজ (হত্যা ) করে থাকেন , 
অর্থাৎ বদ দোয়া টা ইচ্ছাকৃত ধারনা ও ক্ষমতা বলে  করেছেন । 


এর মানে হল যে :- দেওবন্দ আলেম গন আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট কাজে হস্তক্ষেপ সহ কাউকে ইচ্ছাকৃত হত্যা ও করতে পারেন । 

তাকবিয়াতুল ইমানের মতে এই বিষয়গুলো শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট , এমন কি এমন আকিদা আল্লাহ ছারা অন্য কারো বেলায়  পোষন করলে তা শিরক হইবে । 

শাহ ইসমাইলের মতে হাফেজ হুসাইন সাহেবের বেলায় থানবি এমন আকিদা রাখার কারনে স্পষ্ট ভাবে মুশরিক সাবস্ত হয় । 

কিন্ত্ না , তারা মুশরিক নয় । মুশরিক আমরাই তাদের মতে । এই হচ্ছে দেওবন্দ ।



এখন কথা হল কোন দেওবন্দি কি আমাকে বলবেন এখানে কে সঠিক আর কে ভুল ? 

শাহ ইসমাইল ভুল ? 
নাকি আশরাফ  আলী থানবী ? 


সোহেল রানা । 

তাকবিয়াতুল ইমান খন্ডন --২

তাকবিয়াতুল ইমান ------২
গতকাল যখন পোষ্ট করেছিলাম যে কথিত শাহ ইসমাইল নিহত বালাকোটি তার কিতাব তাকবিয়াতুল ইমান এ লিখেছেন বিপদে আপদে আল্লাহ ছারা পীর পয়গম্বরগন কে ডাকা শিরক। 

আর দেওবন্দিদের কিতাব থেকে প্রমান দিয়েছিলাম যে :- জাহাজ ডোবার সময় স্বীয় পীর হাজী ইমদাদুল্লাহ (রহ) কে ডেকেছিল ও এমন বলেছিল যে ;- 
তুলে ধরলাম আবার ও ;-----জনাব আশরাফ আলী থানবীর লিখিত কিতাব স্বীয় পীর কেবলা হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজের এ মক্কি (রহ) নামে কারামতে ইমদাদিয়া এর ১৮ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- হাজী সাহেবের কোন এক মুরিদ জাহাজে ছিল , আর ঝড়ে জাহাজের তলা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল , উনারা দেখলেন যে এখন মিত্তু ছারা কোন উপায় নেই ,সেই সংকটময় মুহুর্তে স্বীয় পীরের কথা মনে করলেন । কারন এই সময় থেকে অধিক প্রয়োজন আর কোন সময় হতে পারে । আল্লাহ তায়ালা সর্বদ্রোতা , সর্বদ্রষ্টা সব কিছুর আমজান দানকারী । সেই সময় জাহাজ ডোবা থেকে রক্ষা পেল ও সমস্ত লোক বেঁচে গেল । কারামতে ইমদাদিয়া এর ১৮ নং পৃষ্টা


এখান থেকে সুস্পষ্ট ভাবে দেখা যায় যে ;- বিপদে সেই মুরিদ তার পীর সাহেব কে ডেকেছিল । 

আর তা শাহ ইসমাইল নিহত বালাকোটির কথা মতে তা স্পষ্ট শিরক । 

কিন্ত্ গতকাল ( ইউসুফি ) আমার পোষ্ট এ কমেন্ট করে বলেছিল যে ;- যখন স্বীয় পীর কে ডেকেছিল তখন আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে ডাকে নাই। তাই শিরক নয় । 
আর সে এমন ও বলেছিল যে সে তাকবিয়াতুল ইমাম কিতাবের শরাহ ( ব্যাখ্যা ) লিখবে । 
কারন আমরা সেই কিতাব বুঝতে অক্ষম । 

আমি তাকে বলেছিলাম যে ;- আসো তাকবিয়াতুল ইমানের যদি শরাহ লেখার শখ থাকে তবে আমারে সাথে ডিবেট এ আসো । এতে তোমার জন্য সহায়ক হবে শরাহ লিখতে । 
তখন সে বলেছিল যে :- ২ বছর এই কিতাবের দরস নিবে ১ বছর দরস দিবে মোট প্রায় তিন বছর লাগবে তার শরাহ লিখতে । 

শাহ ইসমাইলের এই কিতাবের শরাহ লিখতে ও কিতাব টা বুঝতে তার তিন বছরের দরকার । অথচ শাহ ইসমাইল তার কিতাবে (সাধারনের ভুল ধারনা ) নামের অধ্যায় তে লিখেছেন যে ;- 
সাধারনের ভুল ধারনা অনুযায়ি বলিয়া থাকে যে ;- আল্লাহ ও তার রাসুলের কথা বুঝিয়া উঠা অতি কঠিন , তার জন্য বিদ্যার দরকার । সুতরাং আমাদের তাহা বুঝিবার শক্তি নাই । ওই পথে চলা মহা পুরুষ ও বুযুর্গদের কাজ ।আমাদের সাধ্য কি সেই পথে চলি , সুতরাং আমাদের জন্য ওই সকল মানুষের কথাই যথেষ্ট ) ইহা মস্ত বড় ভুল কথা ( তাকবিয়াতুল ইমান , অধ্যায় সাধারনের ভুল ধারনা ) 


এখন কথা হল যে ;- আল্লাহ ও তার রাসুলের কথা বুঝার জন্য বিদ্যান হওয়ার দরকার নেই শাহ ইসমাইলের মতে । কিন্তু শাহ ইসমাইলের কিতাব টা বোঝার জন্য (ইউসুফির) ৩ বছরে লাগবে সব মিলে । এটা কিন্ত্ একটা হাস্যকর বিষয় হয়ে গেল । 

তাফসীরে জালালাইন এর ১ম খন্ডে সুরা বাকারার মর্যাদা মহীমা বুঝাতে গিয়ে ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ) লিখেছেন যে;- সুরা বাকারার সারমর্ম বুঝতে ফারুকে আজম (রা)  কে ৮ বছর সময় লেগেছে । অথচ শাহ ইসমাইল লিখেছে যে ;- তা বুঝতে (কোরান হাদিস )  বিদ্যান হওয়ার দরকার নেই । 

আমি বলি যে ;- আসলেই বিদ্যান হওয়ার দরকার নেই কোরান হাদিস বুঝতে । যদি বিদ্যান হওয়ার দরকার হত , তা হলে বিদ্যান হওয়ার পর ও কি করে তাকবিয়াতুল ইমান নামের একটা চটি কিতাব লিখতে পারে কোরানের অপব্যাখ্যা করে নিহত শাহ ইসমাইল ? 

নিহত শাহ ইসমাইল যে কত টুকু বিদ্যান হয়ে এই কিতাব লিখছে তার কথা থেকে এটা প্রমান হয় । 


এবার আজকের মুল আলোচনা ;------
যেহেতু ইউসুফি লিখেছে যে;- আসলে পীর কে ডেকেছে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে নয় তাই শিরক নয় । আর যেহেতু ওটা শিরক অধ্যায় তে তাই এটা বলা ভুল হয় নাই । 

এবার আমি শিরক অধ্যায় তে অসিলা ও অন্য কারো মাধ্যম বা অসিলা নিয়ে কি লিখেছে তা তুলে ধরছি ;-


তাকবিয়াতুল ইমান কিতাবের ৩ নং পেজে বলা হয়েছে যে ;- ঐ প্রকার লোকগুলোকে (যারা অসিলা তালাশ করে ) যদি কোন উপদেশদাতা বলে যে ;-  তোমরা দাবি কর ইমানের কাজ কর শিরকি । ইহাতে তোমরা পাপ পুন্যর দুই পথ কে একত্র করিয়া ফেলিতেছ । ইহার উত্তরে তাহারা বলিয়া থাকে যে ;- আমরা তো শিরক করি না । আমরা আমাদের ধারনা গুলি আওলিয়া পয়গম্বরদের নিকট জানাইয়া থাকি মাত্র । আমরা যদি তাহাদিগকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করিতাম তবে শিরক হইত বটে । কিন্ত তাহা তো আমরা করি না । বরং আমরা তাহাদিগকে খোদার সৃষ্ট বলিয়া মনে করিয়া থাকি । এবং তাহাদের যা ক্ষমতা আছে তাহা খোদা তায়ালাই দিয়েছেন ও তাঁহারই ইচ্ছায় ইহ জগতে তা প্রয়োগ করিয়া থাকেন ।তাহারা খোদা তায়ালার অত্যন্ত ভালবাসার পাত্র ও তাহারা যা ইচ্ছা করেন করিতে পারেন । খোদার নিকট তাহারা আমাদের জন্য সুপারিশ করিবেন । তাহাদিগকে ধরিয়া খোদা পাওয়া যায় । তাহাদিগকে আমরা যতই ভক্তি ভরে ডাকিব ততই খোদার নিকট পৌছতে পারিব ।সুতরাং তাহাদিগকে ডাকা তাহাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা বাস্তবিকই খোদা কেই ডাকা ও তাহার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হইয়া থাকে । তাকবিয়াতুল ইমান পৃষ্টা নং ৩) 

এবার নিচের কথা গুলে দেখুন ;- তাহাদের এইরূপ প্রলাপের কারন তাহারা খোদা তায়ালা ও রাসুল (সা) এর আদেশ ছাড়িয়া দিয়া নিজের জ্ঞান বুদ্ধি মোতাবেক চলিতে আরম্ভ করিয়াছে ।মিথ্যা গল্প গুজব দুষিত চাল চলন কে প্রমান বলিয়া মনে করিয়া লইয়াছে । যদি তারা খোদা তায়ালা ও রাসুল (সা) এর কথা গুলি ভাল করিয়া বুঝিতে চেষ্টা করিত , তাহা হইলে নিশ্চয় বুঝিতে পারিত যে ;- হযরত রাসুল (সা) এর সময়ে কাফেরগন ও এই রুপ প্রলাপ বকিত ।কিন্ত্ খোদা তায়ালা তার একটি ও গ্রায্য করেন নাই । বরং তা মিথ্যা তাহা স্পষ্ট ভাবে বলিয়া দিয়েছেন । 
( তাহারা আল্লাহ কে ছাড়িয়া এমন বস্তুর উপাসনা করে যে তাহারা তাহাদের উপকার অপকার কিছুই করিবার ক্ষমতা রাখে না । এবং উহারা বলিয়া থেকে যে ইহারা খোদার নিকট আমাদের জন্য অনুরোধকারী । হে মোহাম্মাদ , তুমি তাহাদের কে বলিয়া দাও যে , তোমরা কি খোদা তায়ালা কে জানাইয়া দিতে চাও , আকাশ ও জমিনের মধ্য এমন বস্তু , যাহা তিনি জানেন না ? বস্তুত তাহারা যাহার সাথে তাহার অংশী করিয়া থাকে , তাহা হইতে তিনি সংশ্রবশুন্য ও সমুন্নত ( সুরা ইউসুফ ) 
তাকবিয়াতুল ইমান পৃষ্টা নং ৪) 

উপরের কথা গুলো হইতে নিহত শাহ ইসমাইলের মতে কোন প্রকার আল্লাহ ব্যাতীত কোন নবী ওলী আওলিয়ার নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করা বা অসিলা দেওয়া স্পষ্টভাবে শিরক । এর পরেও যদি কেউ বলে থাকে যেমন ( ইউসুফি ) বলেছে যে এখানে তো আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে কেউ ডাকে না , এমন যে কোন কথা বা অসিলা বা মাধ্যম শাহ ইসমাইলের মতে স্পস্ট শিরক । 

এর পরেও যদি কেউ শাহ ইসমাইলের তাবেদারী করে ও তার দালালি করে আবার সুন্নি দাবি করে তবে তাহা নিজের আত্বাকে ধোকা দেওয়া ছারা আর কিছুই নয় । 


তাকবিয়াতুল ইমান কিতাবের ৫ নং পেজে লিখেছেন যে ;- উপরোক্ত আয়াত হইতে জানা গেল যে ;- সমুদ্বয় পৃথিবী ও আকাশের মধ্য এমন কোন মধ্যস্থিত বেক্তি নাই , যে কাহারো সামান্য উপকার বা অপকার করিতে পারে । বরং ওলী নবীদের যাহা মধ্যস্থ শক্তি আছে তাহা তাঁহারই ইচ্ছাধীন । নিজ ইচ্ছামত তাহাদের কিছুই করিবার শক্তি নাই । আর ইহা ও জানা গেল যে ;- কাহারো মাধ্যমে আরাধনা করিলে তাহা শিরক হইবে । ( তাকবিয়াতুল ইমান পৃষ্টা নং ৫) 

এবার ৬ নং পেজে কি লিখেছে তাহা দেখুন ;- খোদা তায়ালা  বান্দার সব চেয়ে নিকটবর্তি ও তিনি যে শুধু নিজ করুণা গুনে কোন মধ্যস্থতা ও সাহায্য ব্যাতীত বান্দার সমুদ্বয় বাসনা পুর্ন করিয়া থাকেন ।সমুদ্বয় বিপদ দুর করেন ।এই একটি অতি সত্য ও মুল্যবান সম্পদ ছিল , তাহারা তা বুঝতে না পারিয়া , এজন্য শোকরগুজার ও কৃতজ্ঞ না হইয়া অন্যর নিকট সাহায্য প্রার্থী হইয়াছে ও মিথ্যার আশ্রয় গ্রহন করিয়াছে ।বাসনা সিদ্ধির জন্য অন্যের ভিখারি হইয়াছে এবং মিথ্যা ও বিপরিত পথে খোদা কে খুজিতে আরম্ভ করিয়েছে ।খোদা তায়ালা নিশ্চয় এমন মিথ্যুক কপট কে কখনই পথ দেখাবেন না ( তাকবিয়াতুল ইমান পৃষ্টা নং ৬) 

মুল ফায়সালা পেশ করা হয়েচে তাকবিয়াতুল ইমানের ৬ নং পেজে । 

আমরা এটাই প্রধান সরাসরি কথা হিসেবে ধরে নিলাম যে ;- এ থেকে ও উপরের কথা গুলো থেকে প্রমান হয় যে ;- ওসিলা বা মাধ্যম শিরক । এতে কোন সন্দেহ নাই । 


দেওবন্দিদের কিতাবে নবী ওলীদের বিষয় ওনেক ওসিলা আছে । 
আমি  উদাহরন তুলে ধরছি । 

দেওবন্দিদের কিতাব ফাযায়েলে আমলের লেখক মাওলানা যাকারিয়া সাহেব তার নিজ কিতাব মাশায়েখ এ চিশত এ তার পীর রশিদ আহমেদ গাংগুহির সাজরা তুলে ধরেছেন । এবং সাজরা নিচে রশিদ আহমেদ গাংগুহীর নাম ও উপরে ইমাম বসরী থেকে হযরত আলী থেকে সরোয়ারো কাওনাইনের নাম । এবং এদের সকলের নামের ওসিলা দিয়ে দোয়া করেছেন ( মাশায়েখ এ চিশত পৃষ্টা নং ৮) 

যদি ওসিলা দেওয়া শিরক হয় তা হলে আশা করি এটা ও শিরক হবে ।আর যদি শিরক হয় তা হলে যাকারিয়া সাহেব মুশরিক । 

পীর পয়গম্বর নবী ওলি ওনেক বড় কথা । বরং মাওলানা যাকারিয়া তো কুত্তার অসিলা দিয়ে ও দোয়া করেছেন । তিনি লিখেছেন যে ;- হে আল্লাহ , আমার দোয়া কবুল কর এই কালো কুকুরের মাধ্যমে ( মাশায়েখ এ চিশত পৃষ্টা নং ৯৭) 

তাদের আলেম শাহ ইসমাইল বলে আল্লাহ ও বান্দার মধ্য কোন মাধ্যম মনে করা শিরক । 
অথচ এরা কত মাধ্যম তৈরি করেছে । 
একটা  কুত্তা ও তাদের ও আল্লাহর মধ্যস্থিত  মাধ্যম । 
কৃষ্ণা করলে লীলা আমরা করলে ঢং ।


এর পরে দেখ ;- 

আচ্ছা আবার ও দেখুন ফাজায়েলে আমলের একদম শুরুতেই মাওলানা জাকারিয়া সাহেব লিখেছেন যে :- আমাকে মাওলানা ইলিয়াছ সাহেব আমাকে তাবলিগ ও দিনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু আয়াত ও হাদিস দিয়ে একটা কিতাব লেখার আদেশ করেন। অতপর আমি এমন একজন বুজুর্গের সন্তষ্টি ও আমার মত গোনাহগারের নাজাতের ওসিলা মনে করত -কিতাব খানি অতি দ্রুত সম্পন্ন করে আপনাদের সামনে পেশ করিতেছি। ( ফাজায়েলে আমল এর ভুমিকা তে দেখুন ) ৭ নং পৃষ্টা , 

এখন দেখুন সবাই, যে তাবলিগী দেওবন্দিগন   কথায় কথায় শিরক নামে অসিলা দেয়া কে সড়ক সড়ক বলে , তাদের কিতাবের ভূমিকাতেই তাদের দাবি মতে শিরক দিয়ে সুরু হল। এক তো মাওলানা জাকারিয়া সাহেব -মাওলানা ইলিয়াছ সাহেবের সন্তুষ্টি কে নাজাতের ওসিলা মনে করেছেন । তবু তাওহীদবাদী তারা মুশরিক আমরা । 


আবার দেখুন ;- 
দেওবন্দ মাদ্রাসার (নাদওয়ারা) নামক বিশাল রুমের মধ্য ইয়াকুব সাহেবের হাদিস পড়ানোর একটা নির্দিষ্ট যায়গা ছিল ।নাদওরার দরজার সম্মুখস্থ যায়গা সম্পর্কে তিনি বলতেন যে ;-যার জানাযা এই যায়গায় হয় সে ক্ষমাপ্রীপ্ত হয় ( দৈনিক আল জমিয়ত থেকে প্রকাশিত (খাজা গরিবে নেওয়াজ ) সংখ্যার পৃষ্টা নং ৫ ।



এবার দেখুন ;- লেখক দেওবন্দের সাবেক প্রধান শিক্ষক ক্বারী তৈয়ব সাহেব কি বলেন ;- তখন প্রায় সময় দারুল উলুমের সাথে সম্পর্কিত ও শহরের গন্যমান্য বেক্তিদের  জানাযা দেওবন্দ মাদ্রাসায় আসত ও উক্ত যায়গায় নিয়ে রাখার রেওয়াজ ছিল । অধম (তৈয়ব সাহেব ) ওই যায়গাটা সিমেন্ট দ্বারা চিন্হিত করে দিয়েছি ( খাজা গরিবে নেওয়াজ ) পৃষ্টা নং ৫ ।

এখানে তারা তাদের মাদ্রাসার একটা রুমের দরজার সামনের অংশের যায়গা কে মৃত মানুষের নাজাতের অসিলা করে নিলেন । নাজাতের জন্য মাধ্যম করে নিলেন আল্লাহর মধ্যস্থিত । এটা কিন্ত্ শিরক নয় । 
শিরক হবে যখন এমন টা আমরা করব । 


উপরের কথা গুলো থেকে এটৈ সুষ্পষ্টা ভাবে প্রান্ত যে ;- নিহত শাহ ইসমাইল বালাকোটির মতে এই সকল দেওবন্দি আলেম মুশরিক । কারন তারা মাধ্যম গ্রহন করেছেন ।  আর  নিহত শাহ ইসমাইলের মতে যদি সেই আলেমগন মুশরিক হয়ে থাকেন তবে বর্তমান দেওবন্দিগন ও মুশরিক ও তারা সকলে ইসলাম থেকে খারিজ ।

আর যদি মাধ্যম গ্রহনের পরে ও মাওলানা যাকারিয়া ও বা অন্যন্যার আলেমগন মুশরিক হয়ে না থাকেন , তবে তাকবিয়াতুল ইমান কিতাবে এমন ফাল্তু কথা বা ফতোয়া লিখে শুরকের অপবাদ দেয়ার কারনে নিহত শাহ ইসমাইল নিজেই মুশরিক সাব্যস্ত হয়েছেন । 


এখন দেওবন্দিগন । 
কেউ কি আমারে বলবেন কে সঠিক ? 

শাহ ইসমাইল নিহত বালাকোটি ? 
নাকি মাধ্যম গ্রহণকারীর দেওবন্দি আলেমগন ? 

জানি । তোমরা এক একটা হারামজাদা । ংুখে এক কাজে আর এক । জবাব কেউ দিবে না । 

তবে নিজেরা নিজেদের থেকে নিজের মন কে আর কত ধোকা দিবে ? 

যে কোন একটা পথ ধর । 


সোহেল রানা । 

তাকবিয়াতুল ইমান খন্ডন-১

তাকবিয়াতুল ইমান ------১
শাহ ইসমাইল দেহলভীর কিতাব (তাকবিয়াতুল ইমান) কিতাবটা বেশ কয়েকদিন হল হাতের নাগালে পেয়েছি । চিন্তা করতেছি এখন যে , কিছু কথা তুলে ধরি , যারা কথিক তাওহিদের ঠিকাদার তাদের সামনে । 

জনাব আশরাফ আলী থানবীর লিখিত কিতাব স্বীয় পীর কেবলা হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজের এ মক্কি (রহ) নামে কারামতে ইমদাদিয়া এর ১৮ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- হাজী সাহেবের কোন এক মুরিদ জাহাজে ছিল , আর ঝড়ে জাহাজের তলা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল , উনারা দেখলেন যে এখন মিত্তু ছারা কোন উপায় নেই ,সেই সংকটময় মুহুর্তে স্বীয় পীরের কথা মনে করলেন । কারন এই সময় থেকে অধিক প্রয়োজন আর কোন সময় হতে পারে । আল্লাহ তায়ালা সর্বদ্রোতা , সর্বদ্রষ্টা সব কিছুর আমজান দানকারী । সেই সময় জাহাজ ডোবা থেকে রক্ষা পেল ও সমস্ত লোক বেঁচে গেল । 



এদিকে তো এ ঘটনা সংঘটিত হল , অন্যদিকে ওলীয়ে জাহান (হাজী ইমদাদুল্লাহ ) সাহেব পরের দিন স্বীয় খাদেম কে বললেন আমার কমর টা টিপে দাও , খুবই ব্যাথা করতেছে ।খাদেম কমর টিপতে টিপতে  যখন কোমর থেকে লুংগী একটু হটলো তখন দেখলেন যে , কোমর ক্ষতবিক্ষত ও কয়েক যায়গায় চামড়া উঠে গেছে ।

খাদেম জিগ্গেস করল , হুজুর , ব্যাপার কি , কোমড় কি ভাবে ক্ষত বিক্ষত হল ? 
হাজী সাহেব বললেন ও কিছু না ।

খাদেম পুনরায় জিগ্গেস করলে হাজী সাহেব নিশ্চুপ হয়ে থাকলেন। 
এরপর খাদেম আবার বলেন যে , হুজুর এটা তো আঘাতের চিন্হ , কিন্তু আপনি তো কোন খানেই তাশরিফ নিয়ে যান নি । 


হাজী সাহেব উত্তর দিলেন যে , এক জাহাজ ডুবা যাচ্ছিল , তাতে তোমাদের দ্বীনি সিলসিলার এর ভাই ছিল । তার কান্নাকাটি আমাকে অস্থির করে তুলেছিল । তাই কোমড়ের সাহায্য জাহাজটা উপরে তুলেছি । যখন জাহাজটা আগে বাড়ে তখন আল্লাহর বান্দাগন মুক্তি পেল । তাই হয়ত ঘষাঘষিতে কোমড়ের চামড়ার ব্যাথা অনুভব হচ্ছে । কিন্ত্ এটা কাউকে বলিওনা  ( কারামতে ইমদাদিয়া ) পৃষ্টা নং ১৮ ।


আমার ভাই , উপরের কথা গুলে যদি ইতিমধ্যেই পাঠ করে থাকেন তবে মন দিয়ে আর একবার পাঠ করে নিন , এর পরে নিচে আসুন । 

দেওবন্দিদের হাট্টা খাট্টা মৌলভী তাদের মতে শহীদ (আমাদের মতে  মরা কুত্তা ) কথিত শাহ ইসমাইলের কিতাব তাকবিয়াতুল ইমান এর তাওহীদ ও শিরকের বিবরন অধ্যায় এ লিখেছেন যে ;- বহু লোক (১) পীর (২) পয়গম্বর (৩) ইমাম(৪)শহীদ(৫) ফেরেস্তা (৬) দেওপরী দিগ কে বিপদের সময় ডাকতে  থাকে ।তাহাদের নিকট নিজের বাসনা যান্জা (পেশ) করিয়া থাকে ও তাহাদের দয়ার ভিখারি হইয়া থাকে , (কিছু কথা বাদ দিলাম ) ইহা সত্তেও তাহারা আবার মুসলমান দাবি করিয়া থাকে ।কি মুখ আর কি দাবি , ভাবিলে আশ্চর্য় লাগে ।খোদা তায়ালা ঠিকই  বলেছেন , তাহারা অধীকাংশই খোদার প্রতি ইমান অনয়নকারী নহে , বরং তা শিরক করে ( সুরা ইউ সুফ ) তাকবিয়াতুল ইমান কিতাবের শিরক ও তাওহিদের বিবরন অধ্যায় । কিতাবের পাতা দেয়া হল । 

এখন মুল কথা হলে যে ;- দেওবন্দিদের শহিদ এ বালাকোট শাহ ইসমাইল তার কিতাবে লিখেছেন যে ;- বিপদে আপদে পীর পয়গম্বরদের কে বিপদের সময় ডাকা শিরক । 

আজকের কথা শুধু এই টুকুই । 

কথা হল যে আমি উপরে একটা কাহিনি বর্ননা করেছি দেওবন্দের মুজাদদেদ আশরাফ আলী থানভী লিখিত কিতাব কারামতে ইমদাদিয়া এর ১৮ নং পেজের । তাতে দেখা যায় একজন মুরীদ ঝড়ে জাহাজ ডুবে যাওয়ার মত অন্তিম মুহুর্তে তার পীর সাহেব হাজি ইমদাদুল্লাহ (রহ) কে স্বরন করেছেন আর হাজী সাহেব নিজে কোমড় লাগিয়ে সেই জাহাজ তুলেছেন । 

আর আপনাদের শাহ ইসমাইল লিখেছেন যে ;- বিপদের সময় পীর পয়গম্বর কে ডাকা শিরক । 

(১) তো শাহ ইসমাইলের মতে কি উক্ত বেক্তি (যে বিপদে পড়ে তার পীর কে ডেকেছে) শিরক ( মুশরিক ) নয় ? 

(২) স্বীয় পীর কে কি আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করা হল না ? 

(৩) এমন শিরিকের কিতাব (কারামতে ইমদাদিয়া ) এর লেখক এমন শিরকি আকিদা নিজে রাখার ও কিতাবে প্রচার করার কারনে কি নিজে মুশরিক হয়ে যান না ? 

(৪) নাকি শাহ ইসমাইল এসব ভুলে কথা লিখেছে ? 
(৫) যদি সে ভুয়া ফতোয়া দিয়ে থাকে তবে কি ভুল ফতোয়া তার উপরেই বর্তাবে না ? 
(৬) যদি শাহ ইসমাইলের ফতোয়া মোতাবেক হাজী সাহেবের মুরিদ মুশরিক না হয়, হাজী সাহেব আল্লাহ সাব্যস্ত না হন , আর আশরাফ আলী তা প্রচার করার  জন্য যদি মুশরিক না হন তা হলে কি শাহ ইসমাইল নিজে মুশরিক হয়ে যান না অন্যকে অপবাদ দেয়ার কারনে ? 

(৭) যদি উক্ত ফতোয়া শাহ ইসমাইলের উপরে চলে আছে আর যদি সে মুশরিক হয় , তবে সে কি জাহান্নামী নয় ? তারে কাফের বলতে তো কোন দোষ নাই । তাই নয় কি ? 


এখন কথা হল যে আপনাদের ফতোয়া আপনাদের সামনে আপনাদের বিরুদ্ধে পেশ করেছি আমি । একই সাথে ২ টা বিষয় ঠিক  হতে পারে না বা এক সাথে রাখা যেতে পারে না । 

আপনারা যে কেউ একজন কে হক বলে দাবি পেশ করুন আর অন্য জন কে বাতেল বলে রায় দিন । আমরা কোন তর্ক ছারাই কবুল করে নিব । 

আর জানি । এটা রানার পোষ্ট । আগে কুয়া পিছনে খাল । যে দিকে যাবে সেই দিকেই বিপদ । 


সোহেল রানা 



বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৫

বেদাত নিয়ে কাজী সাইফুজজামান এর জবাব

কাজী সাইফুজ্জান আসলে তার সাথে খেলা করে , যারা খেলতে জানে না , 
আমি পোষ্টের শুরুতেই তারে চ্যালেন্জ তরে বলতেছি যে , কত দম আছে আমি সোহেল রানা কে এড কর। কত জবাব লাগে আর কত জবাব দিতে পারো তুমি দেখব তখন । 

তার প্রথম কথা ;- মনোযোগ দিয়া ষ্টাডি করুন,
এখন দেখা যাবে কে পালায়?
বিদআত কাকে বলে?

আমি ;- আমি বলব আল্লাহর ওয়াস্তে মনোযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ্ থেকে বিচার করুন , এর পরে যে ভুল তার মুখে জুতা মারুন আল্লাহর ওয়াস্তে । 

তার পর লিখেছে ;-এই বিদআত শব্দটাকে সবাই হাতিয়ার বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল
করতে চায় অথচ এর হাকীকত অনেকেরই
জানা নেই।
তাই আসুন আমরা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বুঝার চেষ্টা করি।

জবাব ;- কথায় কথায় বেদাত বেদাত বলে ফতোয়া কারা মারে ? 
কথায় কথায়  মাযার পুজারীর ফতোয়া কারা মারে ? 
কথায় কথায় মুশরিক বলে ফতোয়া কারা মানে ? 
এটা এমন হয়ে গেল যে ;- চোর উল্টা কোতোয়াল কো ডাটে : অর্থ ;- চোর উল্টা থানার ওসি কে ধমকি দেয় । 

বরং আমরা নই , বরং তোমরা কর এই কাজ , কথায় কথায় ফতোয়া মারে বেদাতের।  আগে আসতেছে । ঠেলা সামলানোর জন্য তৈরি হও । 

এরপরে  লিখেছে যে ;-আর শরীয়তের পরিভাষায়-
مَا أُحْدِثَ فِى دِيْنِ اللهِ وَلَيْسَ لَهُ أَصْلٌ عَامٌ وَلاَخَاصٌّ يَدُلُّ عَلَيْهِ
অর্থাৎ আল্লাহ্র দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর পক্ষে শরীয়তের কোন ব্যাপক ও সাধারণ কিংবা খাস ও সুনির্দিষ্ট দলীল নেই।
এ সংজ্ঞাটিতে তিনটি বিষয় লক্ষণীয় :
নতুনভাবে প্রচলন অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না এবং এর কোন নমুনাও ছিল না।

মাশাআল্লাহ , সুন্দর কথা বলেছেন । 
এমন ওনেক হাদিস দিয়েছে সে , 

এর পরে লিখেছেন যে বেদাত ২ প্রকার , 
(১)বেদাত ফি-দ্বীন;- দিনের মধ্য বেদাত , 

যেমন কি ;- যেমন মিলাদ ওরশ ইত্যাদি । 
(২) বিদাত লিদ্বীন 
দ্বীন কে পালন করার জন্য কোন কোন মাধ্যম গ্রহন করা , যেমন মাদ্রাসা স্থাপন করা টিভি তে অনুষ্টান দেখা ফেসবুকে লেখা লেখি করা তাবলিগ মেহনত করা । 


প্রথমে কথা হল যে ;- বেদাত ।

আমরা জানি বেদাত ২ প্রকার । বেদাতে হাসানা , বেদাতে সাইয়া ।( আশইয়াতিল উলুমাত  ১ম খন্ড , ইতিছাম অধ্যায় দেখুন ) 

যারা বেদাত নিয়ে পুর্ন বিশ্লেষন বা পুর্ন অধ্যায়ন করে নাই তারা কথা বলে বেদাত নিয়ে । বরং আপনার বেদাতের বিষয় পুর্ন জ্ঞান নাই।  তাই বেদাত ফি-দ্বীন ও বেদাত লি-দ্বীন বলে বেদাতের সংগা পেশ করেছেন । 
আপনি যে বেদাতের সংগা দিয়েছেন বেদাত ফি-দ্বীন ও বেদাত লিদ্দিন । এর রেফারেন্স পেশ করুন । 


এর পরে লিখেছে সে ;- মিলাদ পাঠ করা দিনের  অংশ মনে করে , সওয়াবের আশায় , তা বেদাত ফি-দ্বীন । যা করা যাবে না বা হারাম।  তার কথা মতে এসব করলে জাহান্নামি হতে হবে।  কারন প্রত্যেক বেদাতি জাহান্নামি । 

আমার কথা হল যে ;- মিলাদে আমরা করি টা কি ? দশজন মিলে চাঁদা তুলি কোন তবারক ব্যাবস্থা করি , দরুদ ও সালাম পেশ করি মদীনায় এর পরে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি ক্ষমা প্রার্থনা করি । 

মুল কথা হল যে চাঁদা করা কি হারাম ? 
দরুদ পড়া কি হারাম ? 
 চাঁদার টাকায় তবারক বিতরন করা কি হারাম ? 
সালাম পেশ করা কি হারাম ? 

আর বলেছে সওয়াবের আশায় । বরং প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহর ওয়াস্তে ও সওয়াবের আশায় করতে হবে । এমন কি একটা কুত্তা কে পানি পান করানো ও ইবাদত । বরং তার জন্য ও সওয়াব আশা করতে হবে আল্লাহর জন্য । সৃষ্টির সেবা করি কি হারাম ? সৃষ্টির সেবা করলে কি আল্লাহ খুশি হয় না ? 
আল্লাহর খুশি মানেই কি রহমত নয় ? 

আমার উপরের প্রশ্ন গুলোর জবাব দেবেন । 

এর পরে মিলাদ । তাদের আলেমগন মিলাদ নিয়ে কি বলে দেখা যাক ;- দেওবন্দী দের মোজাদ্দেদ আশরাফ আলী থানবীর কিতাব (ইচ্লাহুর রূসুম ) কিতাবের তৃতীয় অধ্যায় এর প্রথম পরিচ্ছেদ ১০১ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- মিলাদ ৩ প্রকারে ভাগ করে প্রথম প্রকার মিলাদ এর বিষয় বলেছেন যে ;- এই প্রকার মিলাদ মেহফিলে কোনো প্রকার সর্তাবলী অনুসরণ করা হয় না। মুলুত কিছু লোক একত্রিত হয়ে নবী কুল শিরোমনি আহমাদ মুস্তফা মোহাম্মদ মুস্তফা সল্লেল্লাহু আলাহিস সালাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ ও ওনার জন্ম,জীবন,চাল,চলন,সান,শওকাত ,
মুজেজা সমন্ধে বিশুদ্ধ বর্ণনা করা ও কোনো কিতাব পাঠ করা। আলোচনার সাপেক্ষে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের না করার উপদেশ্দানে কুন্ঠিত বোধ না করা অথবা শরীয়াতের বিধিবিধান হুকুম আহকাম শিক্ষাদানের নিমিত্তে আয়োজিত মেহফিলে নবী পাক অলায়হিস সালাম এর জীবনী বর্ণনা করা। এই প্রকার মিলাদ মেহফিল নির্ভেজাল,জায়েজ ও মুস্তাহাব ও সুন্নাত।এই ভাবেই রাসুল সল্লেল্লাহু আলাইহিস সালাম স্বীয় জীবন ও মর্যাদার আলোচনা করে গেছেন। সাহাবীদের থেকে ও এই ভাবে মিলাদ এর বর্ণনা পাওয়া যায়। মুহাদ্দিসীন কেরামগণ আজ পর্যন্ত যথারীতি চালু রেখেছেন আর  কিয়ামত পর্যন্ত এই বিশুদ্ধ নীতি চালু থাকবে। (ইচ্লাহুর রূসুম ) তৃতীয় অধ্যায় প্রথম পরিচ্ছেদ পৃষ্টা ১০১.

উপরে জনাব আশরাফ আলী থানভী তার কিতাবে লিখেছেন যে (- মিলাদ পালন করা নির্ভেজাল যায়েয মুস্তাহাব ও সুন্নাত । এমনি ভাবে মিলাদের বর্ননা ও পাওয়া যায় সাহাবাদের থেকে ও। আমি উক্ত কিতাবের মুল পাতা দিতে তৈরি থাকলাম । 

এখন কথা হল যে কাজী সাইফুজজামান বললো মিলাদ পালন করা বেদাত ও এমন বেদাতি জাহান্নামি । তো আপনার আশরাফ আলী থানভীর মতে তো তা যায়েয মুস্তাহাব ও সাহাবাদের সুন্নাত প্রমানিত হল । এখন কি উল্টা ফতোয়া প্রদানের কারনে আপনি নিজে বেদাতি ও জাহান্নামি প্রমানিত হন না ? 

আরো একটা তাদের কিতাব থেকে মিলাদের প্রমান ;- 
তাদের বিখ্যাত আলেম মাওলানা খলিল আহমেদ সাহারানপুরী এর লিখত ফতোয়া  মুলক কিতাব (আল মুফান্নাদ আলাল মুহান্নাদ ) 

আল হাবীব প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত কিতাবের ৬৪ নং পাতায় প্রশ্ন আকারে বলা হয়েছে যে ;- 

একবিংশ জিগ্গাসা ;-  রাসুলে করীম (সা) শুভ জন্ম আলোচনা বা মীলাদ শরীফ পাঠ কে আপনারা বেদাতে সাইয়্যাহ মুহাররামা (মন্দ বেদাত যা হারাম) বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন কি না ? 

উত্তর ;- রসুলে করীম (সা) এর মুবারক বেলাদাতের আলোচনা বা বা মীলাদ শরীফ পাঠ বা এমন কি তার পাদুকা সংশ্লিষ্ট ধুলি অথবা তার বাহন গাধাটীর পেস্রাব বা পায়খানা মুবারকের আলোচনা  আমরা কেন ? সাধারন কোন মুসলমান একে বেদাতে সাইয়্যাহ মুহাররামা বা হারাম বলতে পারে না । 

ঐ সব অবস্থা যা রসুলে করীম (সা) এর সাথে বিন্দু মাত্র সম্পর্ক যুক্ত আছে তার আলোচনা আমাদের কাছে উন্নতমানের মুস্তাহাব ও অধীকতর পছন্দনিয় । হোক না তার পেসাব , পায়খানা, দাড়ানো বা বৈঠক , স্বপ্ন অথবা জাগরন যা কিছুই হোক তার সব কিছুই আমাদের কাছে অত্যন্ত উন্নতমানের মুস্তাহাব কাজ বলে পরিগনিত । 
এসবের বিস্তারিত বর্ননা আমাদের রচিত (বারাহীনে কাতেয়া ) গ্রন্থে সর্বত্রেই আলোচিত হয়েছে । যেমন আমাদের পুর্বসুরী ও তাদের ফতোয়া যেমন মাওলানা সাহারানপুরী পুরী , যিনি শাহ মোহাম্ম্দ ইশহাক দেহলভীর শিষ্য  এবং হাজী মক্কি (রহ) এর শিষ্য আহমেদ আলী সাহারানপুরী পুরীর ফতোয়া আমরা অনুবাদ করে প্রকাশ করেছি ।যা আমাদের সকল লেখনীর মডেল হিসেবে মনে করি । 

মাওলানা সাহেব কে কেউ না কি জিগ্গেস করেছিল যে , মীলাদ শরিফের মেহফিল কোন রুপ রেখায় যায়েয ? তদুত্তরে তিনি লিখেন যে ;- রসুলে করিম (সা) এর মিলাদ মেহফিল যদি ফরজ ও ওয়াজীব ইবাদতের সময় ব্যাতিরেকে বিশুদ্ধ রেবায়েত সমুহের মাধ্যমে সাহাবায়ে কিরামসহ কুরুনে সালাসা বা উত্তম তিন যুগের বিপরীতমুখি বা পরিপন্থি না হয় (যে যুগ উত্তম যুগ হিসেবে অভিহিত ) 

যে যুগগুলো কুরুনে সালাসা বলে অভিহিত ও শিরকের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন ভ্রান্ত আকিদা নাই , সাহাবায় কেরামদের আদব বা শিষ্টাচারের পরিপন্থি না হয় , তবে মুস্তাহাব হওয়া বাত্যিত অন্যতা হওয়ার কোন অবকাশ নাই । কারন তরাই তো মাপকাটী বা মেছদাক ।
কেননা রসুলে করিম (সা) বলেছেন যে তাই সঠিক যার উপর আমি ও আমার সাহাবাকেরামগন রয়েছে । 

আবারো পরিষ্কার ভাষার আমরা বলব যে  , বিশুদ্ধ নিয়্যাত , আকিদা ও শরিয়াত নিষিদ্ধ কার্যাবলী ব্যাতীত যে মাহফিলে মীলাদ পাঠ সহ রসুলে কারীম (সা) এক যে কোন অবস্থ ও কার্যাবলির যে কোন আলোচনা যদি শর্ত মুক্ত সময়ে আলোচিত হয় তা হলে এমন কাজের বিরুধিতা আমরা করি না । বরং যদি শরিয়াত বিরোধি এমন কাজ কোন মেহফিলে করা হয় তা হলে আমরা শুধু শরিয়াত বিরুধি কার্যাবলিরই বিরুধিতা করে থাকি ।যেমন আমরা দেখেছি হিন্দুস্থানের মীলাদ মাহফিল সমুহে উদ্ভট ও মওজু বর্ননা করা হয় । নারী পুরুষের সমবিহার থাকে । আলোকসজ্জা করা হয় ও ওনেক অপচয় ও করা হয় । এমন মাহফিল ওয়াজীব মনে করা হয় ।তারই সাথে এমন মাহফিলে যারা উপস্তিত হয় না তাদের কে গালাগালি ও কাফের আখ্যা  দেয়া  হয় । এ ছারা আরো ওনেক উদ্ভট বিষয়বস্তুর অবতারনা করা হয় ।

মীলাদ শরিফে যদি এমন এমন কার্য়াবলি ছারা পালিত হয় তা হলে কেন আমরা না যায়েজ বলব ? এমন মন্দ কথা তো কোন মুসলমানের পক্ষে বলা সম্ভব নয় । এটা আমাদের প্রতি বিদ্বেষিদের মিথ্যা অপবাদ । আল্লাহ তাদেরকে জ্বলে স্থলে বরবাদ করুন ( আমিন ) 
সুত্র (দেওবন্দি আহলে সুন্নাতের আকিদা ) ৬৪-৬৫-৬৬ নং পাতা । 
উপরে মাওলানা সাহারানপুরীর লিখিত কিতাবের পাতা যার দরকার বলবেন আমি কিতাবের পেঁচা পেশ করতে বাধ্য রইলাম । 

তিনি শেষের দিকে লিখেছেন যে ;-মীলাদ শরিফে যদি এমন এমন কার্য়াবলি ছারা পালিত হয় তা হলে কেন আমরা না যায়েজ বলব ? এমন মন্দ কথা তো কোন মুসলমানের পক্ষে বলা সম্ভব নয় ।

আমি কাজী সাইফুজ্জান কে জিগ্গেস করতে চাইতেছি যে ;- এমন কথা বলা তো কোন মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয় যে মিলাদ মাহফিল কে হারাম বেদাত বলতে পারে , তা আমি নই বরং আপনাদের আলেম বলেছেন । 

অবশ্যই আপনি মুসলিম কবে ছিলেন ? আপনি তো জন্মগতভাবেই ক্বাদিয়ানি । 

আমি মিলাদ নিয়ে ৪ দিন পোষ্ট করলে দলিল শেষ হবে না । মিলাদ  মাহফিল যে বেদাত নয় বরং একটা যায়েয মুস্তাহাব ও সুন্নাত কাজ তাই সঠিক। বরং আমি তো বলব আশরাফ আলী থানভীর যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তাই সঠিক। কিন্তু আবসোস যে তারা আজ আসরাফ আলী থানভী সাহেব কে ত্যাগ করতেছে। আজ ওনাকে মান্য করতে কষ্ট হচ্ছে তাদের ।


এবার বিষয় বিদাত লিদ্বীন ;- বা দ্বীন কে পালন করার জন্য কোন মাধ্যম গ্রহন করা ) 

আমাদের দ্বীন পুর্নাংগ , অপুর্নাংগ নয় যে , দ্বীন পালন করতে অন্য কোন মাধ্যম গ্রহন করব । 

সে লিখেছে যে ;- মিলাদ দ্বীনের অংশ বা সওয়াবের আশা করে করা হারাম বা বেদাতে সাইয়াহ মোহার্রামা । 


অথচ দ্বীন কে পালন করার জন্য যা কিছু যেমন মাদ্রাসা বা মসজীদ বা তাদের কথিক তাবলীগ এগুলো তার মতে দ্বীনের মধ্য নয় বরং দ্বীন পালনের জন্য তৈরি নতুন বেদাত ।

এটা কি একটা হাস্যকর বিষয় নয় ? 

মাদ্রাসা কি আমাদের দ্বীনের মধ্য নয় ? 
মসজীদ কি আমাদের দ্বীনের মধ্য নয় ?

তাবলীগ বা ধর্ম প্রচার কি আমাদের দ্বীনের মধ্য নয় ? 

আসলে আল্লাহ যাদের দিলে মোহর লাগিয়ে দেন তারা আসলে দেখে ও দেখে না । 

যদি এই  গুলি দ্বীনের মধ্য না হয়ে থাকে তবে এগুলো ছুরে ফেলে দেওয়াই উত্তম ।  

আসলে সে বিদাত কি জানে না । এবার বেদাতে একটা বিস্তারিত তুলে ধরতাছি - 
১) বিদাতে হাসানা( উত্তম
বা সুন্দর
বিদাত)
২) বিদাতে সাইয়্যাহ ( মন্দ বিদাত)
# বিদাতে হাসানা: আশইয়াতিল
উলুমাত ১ম
খন্ডে ইতিছাম অধ্যায়ে উল্লেখ
আছে "
যে বিদাত উসুল, কানুন ওসুন্নতের
সমার্থিত
এবং সুন্নত থেকে কিয়াসের
( গবেষণা)
মাধ্যমে করা হয়েছে তা বিদাতে হাসানা।
আর
যা নতুন কিন্তু সুন্নতের
পরিপন্থী ও
বিপরীত
তা হল বিদাতে সাইয়্যাহ।

বিদাতে হাসানা ৩ প্রকার।
১) বিদাতে ওয়াজেবা: এমন বিদাত
যা শরিয়তে নিষিদ্ধ
তো নয়ই
বরং এটা ছেড়ে দিলে ধর্মীয়ভাবে বিরাট
অসুবিধার সুচনা হয়। যেমন
কোরানে পাকে আয়াত
সমুহে যবর, যের, পেশ
ইত্যাদি দেওয়া।
তফছির
এর সুবিধার জন্য ইলমে ছরফ,নাহু,
উসুলে তফসির,
উসুলে হাদিস বিষয়গুলোর
প্রচলন।
মাসালা-মাসায়েল
জানার জন্য ইলমে ফিকাহর
প্রচলন।
২) বিদাতে মুস্তাহাব্বাহ: এমন
কিছু কাজ
বা বিষয়
যা নতুন কিন্ত শরিয়তে নিষেধ নয়
তবে ওয়াজিবও
নয়। মুসলমানরা ভাল কাজ
মনে করে সাওয়াবের
উদ্দেশ্যে আদায় করে থাকে।
যেমন মিলাদ
শরিফ পড়া,
মাযারে গিয়ে আল্লাহতালার
দরবারে দোয়া করা, মরহুম
আত্বীয়দের জন্য
দোয়া
ও মেজবানের আয়োজন করা,
আউলিয়া কেরামের
ইসালে সওয়াবের জন্য জিকির-
আযকার,
ওয়াজ নসিহত
ও তাবাররুক বিতরনের
মাধ্যমে উরশ শরিফ
পালন
করা।
৩) বিদাতে মুবাহ : এমন কাজ
যা শরিয়ত
বিরোধী নয়। যেমন মসজিদ দুই
তলা তিন
তলা করা,
ফজর ও আসর নামাজের পর
মুসল্লিরা মুসাফা করা।

# বিদাতে সাইয়্যাহ :
বিদাতে সাইয়্যাহ
দুই প্রকার।
১)বিদাতে হারাম : এমন সব নতুন
উদ্ভাবিত
ভ্রান্ত
আকিদাহ, ধ্যান ধারনা ও কর্ম
কান্ড
যা দেখতে সুন্দর কিন্তু ধর্মের
মুল
বিষয়গুলোর
বিরোধী তা বিদাতে হারাম।
যেমন-
* নতুন নতুন মতবাদের জন্ম
যা নবীজির
সময়ে ছিল না।যথা- ওহাবী,
রাফেজী,
মুতাজিলা,
আহলে হাদিসের মত নতুন ভ্রান্ত
দলগুলো,
যারা নবিজি (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ),
সাহাবী দের সময়
থেকে কয়েক শত বছর পর
উদ্ভাবিত হয়েছে।
* তাবলীগ এর
নামে মসজিদে নিয়মিত
রাত্রি যাপন
এবং এটাকে নিয়মে পরিনত করা।
* ইসলামিক চ্যানেল খুলে আবার
ইনকামের
জন্য
অশ্লীল, বেহায়াপনা যুক্ত
বিজ্ঞাপন
প্রচার করা,
* জিহাদের নামে জংগীবাদের
উত্থান
ঘটানো।
* নতুন নতুন দল গঠন করে ধর্মের
প্রচলিত
পদ্ধতি গুলোর বিরুদ্ধাচরণ
করা এবং মানুষকে ধর্ম
বিমুখ করা।
* এই সব ভ্রান্ত আকিদাহ প্রচার
করার
জন্য মাদ্রাসা,
মক্তব, ইস্কুল প্রতিষ্ঠা করা।
এই সব কিছু ই বিদাতে হারাম।
# বিদাতে মাকরুহ : এমন নব
প্রচলনকরা পদ্ধতি যার
কারনে কোন সুন্নতের অবসান
হয়। যেমন-
* এক শ্রেণীর ইসলামী ব্যক্তিত্ব
কোট,প্যান্ট, টাই,শার্ট
ইত্যাদি পরা কে জায়েজ
বলে সুন্নতি পাঞ্জাবি, পায়জামা,
লুংগি,পাগড়ির মত
সহি সুন্নতের প্রচলন
কে উঠিয়ে দিচ্ছে,যা বিদাতে মাকরুহ।
* জুমাহ ও দুই ইদের খুতবাহ
আরবিতে না দিয়ে অন্য ভাষায়
প্রদান
করা যা বিদাতে মাকরুহ।
সুতরাং আমাদের উচিত, হঠাৎ 
করে কারো কথায়
মজে না গিয়ে বিদাতে হাসানাহ
কে ছেড়ে না দিয়ে বরং তা পালনের
মাধ্যমে অশেষ সওয়াব ও
নেকি হাসিল করা । 


সে লিখেছে যে ফেসবুকে লেখালেখি করা ;- 
আমি বলে রাখি যে ফেসবুক এ লেখালেখি করা ৩ টা শরিয়তি আইনের উপরে নির্ভর । 

ফেসবুক ই লেখালেখি ইসলাম নিয়ে এটা স্পষ্ট বেদাত । 

(১) যদি আপন্ ইসলামিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন আর তা কোরান ও সহীহ হাদিস সুন্নাহ হয়ে থাকে তা হলে এটা হবে বেদাতে হাসানা বা উত্তম বেদাত । যার জন্য আপনি সওয়াব পাবেন 

(২) যদি আপনি ভাল কিছু লেখালেখি করেন ফেসবুকে( সমাজ রাষ্ট ব্যাবস্থা ও সচেতনতা মুলক )  তা হলে এটা হবে বেদাতে মুবাহা , বা শরিয়তের চোখে যা যায়েয , হতে পারে আপনি সওয়ার ও পেতে পারেন নাও পেতে পারেন ।

(৩) যদি আপনি ফেসবুকে বসে অশ্লিল ও বাজে কিছু লেখালেখি করেন তা হলে এটা হবে বেদাতে সাইয়াহ । যাকে জন্য আপনারে গোনাহগার হতে হবে । 

এর পরে সে সুন্দর করে তাদের কথিত তাবলীগ জামাত কে বেদাত লিদ্দিন বলে এটা কে যায়েয বলে দিয়েছে । 


অথচ সে লিখেছে এটা দ্বীন পালনের জন্য , এটা দ্বীনের অংশ নয় । 
অথচ তারা যে কাজ করে ও তাদের যা দাবি , তারা সেই দল যারা কোরানের এই আয়াত দিয়ে থাকে ;-  (আল্লাহ তাআ’লা ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি; মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের নির্বাচন করা হয়েছে , তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে, আর তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১০)

তারা কোরানের এই আয়াত কে দলিল পেশ করে থাকে যে আমরা সেই দল ,  কোরানে এই আয়াতে যে দলের কথা বলেছে । 


এখন আমি বলতে চাই যে , আল্লাহ যে দলের কথা কোরানে বলেছেন সেই দল কি করে বেদাত হতে পারে ? তা হোক না কেন তার মতে বেদাত ফিদ্বীন  ও বেদাত লিদ্দিন । 

আল্লাহ তাদের কে ধংস করুন যারা এমন কথা বলে । 

আল্লাহ তায়ালা কোরানে আরো বলেছেন যে ;- 
‘আমি চাই তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক হোক যারা মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করবে, ভালো কাজের আহ্বান করবে, আর মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। ওই দলটাই হলো সাফল্য লাভকারী।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৪)

এই তাবলিগি রা এই আয়াত কে ও দলিল দিয়ে থাকে । এখন কেউ কি বলবেন কোরানে আয়াত দলিল দেয়ার পরে ও কি করে এমন একটা দল বেদাত লিদ্দিন হতে পারে ? 

এমন কি (মাওলানা ইলিয়াছ ও দ্বীনি দাওয়াত ) কিতাবের ৫০ নং মালফুজাত এ ৩৩ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে (- এই তাবলীগের তরিকা উদঘাটন স্বপ্নে আমার কাশফ হয়েছিল 
‘হে মুমিনগণ, তোমাদিগকে কি এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দান করব যা তোমাদেরকে কঠোর আজাব থেকে রক্ষা করবে? তা হলো- তোমরা আল্লাহর ওপর ও আল্লাহর রাসূলের ওপর ঈমান আনবে, মেহনত করবে আল্লাহর রাস্তায় মাল ও জান দিয়ে।’ (সূরা আস-সাফ, আয়াত-১০)।

 এই আয়াতের  তাফসীর ও খাবে এই রুপ এল্ক হইয়াছিল যে ;- তোমরা নবীদের মত মানুষের উপকারের জন্য প্রেরিত হইয়াছ ) মালফুজাত ক্ষম ৫০ পৃষ্টা নং ৩৩ ( মাওলানা ইলিয়াছ ও দ্বীনি দাওয়াত ) 
তাদের নবী আবার তাদের বড় ভাইয়ের মত , তাই মাওলানা ইলিয়াচ তাবলিগিদের কে নবীদের মতই বলেছেন । 

যাক , এখন কথা হল যে এমন একটা কাজ যারা কোরানের আয়াত কে দলিল দিয়ে সেই দল দাবি করে যে দলের কথা কোরানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন , সেই দল কি করে বেদাত হতে পারে ? 

বরং এটা একটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত কথা । আবসোস যে তারা নিজেরাই কোরান কে দলিল দেয় আবার তাদেরই একজন বলে এটা বেদাত । দ্বীনের জন্য বেদাত । 
আল্লাহ আমাদের কে ক্ষমা করুন এমন দল কে বেদাত বলা  থেকে যার 

কোরানে যে এই দুই আয়াত বলা হয়েছে , তা কোল তাবলীগ জামাত নয় , বরং এটা হল , আলেম ওলামা  পীর ফকির দরবেশ দের দল । যারা ১৪০০ বছর থেকে কাফেরদের মধ্য গিয়ে দ্বীন এ ইসলামের প্রচার  ও প্রসার করেছেন । এবং এই দল কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে । এটা কোন নির্দিষ্ট দলের নাম নয় বরং হক আলেম সমাজের কথা বলা হয়েছে । 
তাবলিগ জামাত কে নিয়ে কিছু আপত্তির জবাব আমি আজ ও পাই না। নিচে লিংক গুলো দিলাম।  পারলে আমাকে লিংক গুলোর লিখিত জবাব দিও 


(১)http://sohelrana1234.blogspot.com/2015/01/blog-post_19.html

(২)http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/blog-post_94.html

(৩)http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/iliyach-er-family-detail.html

(৪)http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/tabligis-profet-is-not-muhammad-sa.html

(৫)http://sohelrana1234.blogspot.com/2015/01/blog-post.html

(৬)https://m.facebook.com/photo.php?fbid=419462881535683&id=100004159237389&set=a.104096569738984.9011.100004159237389&source=43

(৭)https://m.facebook.com/photo.php?fbid=418503821631589&id=100004159237389&set=a.104096569738984.9011.100004159237389&source=43


লিখিত ও  লিংক সহ পোষ্ট হল ৮ টা । আট দিন সময় থাকল পোষ্চশগুলোর জবাব দেয়ার জন্য । আর আমি বাধ্য থাকলাম তোমার পোষ্টের লিখিত পাল্টা জবাব দেয়ার জন্য । এটা আমার ওয়াদা 


তোমাদের মুখে কালি মাখিয়ে দিন আল্লাহ যারা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিলিয়ে দেয় ও কথার বদল করে । নিজে বাঁচতে কত মিথ্যাচার করবে আরো ? 
বরং তোমাদের এই তাবলিগ না শরিয়াত সমর্থন করে , না ইজমা না কিয়াস । বরং গায়ের জোরেই চালানো হচ্ছে এঅ প্রথা । মুর্খ লোকজন করতে তাবলিগের কাজ । যেমন কানার হাতে লাঠি , কোথায় পড়ে কারে মারে তোর কোন ঠিক নাই । এমন কি তোমরা মাওলানা ইলিয়াছের তৈরি তাবলিগের যে মুল নীতি ছিল তার মধ্য ও নাই । 

বরং সম্পুর্ন এক আলাদা বেদাত । 
এমন বেদাত থেকে আল্লাহ আমাদের কে রক্ষা করুন।  আমীন । 

বেদাত নিয়ে কাজী সাইফুজজামান এর জবাব

কাজী সাইফুজ্জান আসলে তার সাথে খেলা করে , যারা খেলতে জানে না , 
আমি পোষ্টের শুরুতেই তারে চ্যালেন্জ তরে বলতেছি যে , কত দম আছে আমি সোহেল রানা কে এড কর। কত জবাব লাগে আর কত জবাব দিতে পারো তুমি দেখব তখন । 

তার প্রথম কথা ;- মনোযোগ দিয়া ষ্টাডি করুন,
এখন দেখা যাবে কে পালায়?
বিদআত কাকে বলে?

আমি ;- আমি বলব আল্লাহর ওয়াস্তে মনোযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ্ থেকে বিচার করুন , এর পরে যে ভুল তার মুখে জুতা মারুন আল্লাহর ওয়াস্তে । 

তার পর লিখেছে ;-এই বিদআত শব্দটাকে সবাই হাতিয়ার বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল
করতে চায় অথচ এর হাকীকত অনেকেরই
জানা নেই।
তাই আসুন আমরা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বুঝার চেষ্টা করি।

জবাব ;- কথায় কথায় বেদাত বেদাত বলে ফতোয়া কারা মারে ? 
কথায় কথায়  মাযার পুজারীর ফতোয়া কারা মারে ? 
কথায় কথায় মুশরিক বলে ফতোয়া কারা মানে ? 
এটা এমন হয়ে গেল যে ;- চোর উল্টা কোতোয়াল কো ডাটে : অর্থ ;- চোর উল্টা থানার ওসি কে ধমকি দেয় । 

বরং আমরা নই , বরং তোমরা কর এই কাজ , কথায় কথায় ফতোয়া মারে বেদাতের।  আগে আসতেছে । ঠেলা সামলানোর জন্য তৈরি হও । 

এরপরে  লিখেছে যে ;-আর শরীয়তের পরিভাষায়-
مَا أُحْدِثَ فِى دِيْنِ اللهِ وَلَيْسَ لَهُ أَصْلٌ عَامٌ وَلاَخَاصٌّ يَدُلُّ عَلَيْهِ
অর্থাৎ আল্লাহ্র দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর পক্ষে শরীয়তের কোন ব্যাপক ও সাধারণ কিংবা খাস ও সুনির্দিষ্ট দলীল নেই।
এ সংজ্ঞাটিতে তিনটি বিষয় লক্ষণীয় :
নতুনভাবে প্রচলন অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না এবং এর কোন নমুনাও ছিল না।

মাশাআল্লাহ , সুন্দর কথা বলেছেন । 
এমন ওনেক হাদিস দিয়েছে সে , 

এর পরে লিখেছেন যে বেদাত ২ প্রকার , 
(১)বেদাত ফি-দ্বীন;- দিনের মধ্য বেদাত , 

যেমন কি ;- যেমন মিলাদ ওরশ ইত্যাদি । 
(২) বিদাত লিদ্বীন 
দ্বীন কে পালন করার জন্য কোন কোন মাধ্যম গ্রহন করা , যেমন মাদ্রাসা স্থাপন করা টিভি তে অনুষ্টান দেখা ফেসবুকে লেখা লেখি করা তাবলিগ মেহনত করা । 


প্রথমে কথা হল যে ;- বেদাত ।

আমরা জানি বেদাত ২ প্রকার । বেদাতে হাসানা , বেদাতে সাইয়া ।( আশইয়াতিল উলুমাত  ১ম খন্ড , ইতিছাম অধ্যায় দেখুন ) 

যারা বেদাত নিয়ে পুর্ন বিশ্লেষন বা পুর্ন অধ্যায়ন করে নাই তারা কথা বলে বেদাত নিয়ে । বরং আপনার বেদাতের বিষয় পুর্ন জ্ঞান নাই।  তাই বেদাত ফি-দ্বীন ও বেদাত লি-দ্বীন বলে বেদাতের সংগা পেশ করেছেন । 
আপনি যে বেদাতের সংগা দিয়েছেন বেদাত ফি-দ্বীন ও বেদাত লিদ্দিন । এর রেফারেন্স পেশ করুন । 


এর পরে লিখেছে সে ;- মিলাদ পাঠ করা দিনের  অংশ মনে করে , সওয়াবের আশায় , তা বেদাত ফি-দ্বীন । যা করা যাবে না বা হারাম।  তার কথা মতে এসব করলে জাহান্নামি হতে হবে।  কারন প্রত্যেক বেদাতি জাহান্নামি । 

আমার কথা হল যে ;- মিলাদে আমরা করি টা কি ? দশজন মিলে চাঁদা তুলি কোন তবারক ব্যাবস্থা করি , দরুদ ও সালাম পেশ করি মদীনায় এর পরে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি ক্ষমা প্রার্থনা করি । 

মুল কথা হল যে চাঁদা করা কি হারাম ? 
দরুদ পড়া কি হারাম ? 
 চাঁদার টাকায় তবারক বিতরন করা কি হারাম ? 
সালাম পেশ করা কি হারাম ? 

আর বলেছে সওয়াবের আশায় । বরং প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহর ওয়াস্তে ও সওয়াবের আশায় করতে হবে । এমন কি একটা কুত্তা কে পানি পান করানো ও ইবাদত । বরং তার জন্য ও সওয়াব আশা করতে হবে আল্লাহর জন্য । সৃষ্টির সেবা করি কি হারাম ? সৃষ্টির সেবা করলে কি আল্লাহ খুশি হয় না ? 
আল্লাহর খুশি মানেই কি রহমত নয় ? 

আমার উপরের প্রশ্ন গুলোর জবাব দেবেন । 

এর পরে মিলাদ । তাদের আলেমগন মিলাদ নিয়ে কি বলে দেখা যাক ;- দেওবন্দী দের মোজাদ্দেদ আশরাফ আলী থানবীর কিতাব (ইচ্লাহুর রূসুম ) কিতাবের তৃতীয় অধ্যায় এর প্রথম পরিচ্ছেদ ১০১ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে ;- মিলাদ ৩ প্রকারে ভাগ করে প্রথম প্রকার মিলাদ এর বিষয় বলেছেন যে ;- এই প্রকার মিলাদ মেহফিলে কোনো প্রকার সর্তাবলী অনুসরণ করা হয় না। মুলুত কিছু লোক একত্রিত হয়ে নবী কুল শিরোমনি আহমাদ মুস্তফা মোহাম্মদ মুস্তফা সল্লেল্লাহু আলাহিস সালাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ ও ওনার জন্ম,জীবন,চাল,চলন,সান,শওকাত ,
মুজেজা সমন্ধে বিশুদ্ধ বর্ণনা করা ও কোনো কিতাব পাঠ করা। আলোচনার সাপেক্ষে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের না করার উপদেশ্দানে কুন্ঠিত বোধ না করা অথবা শরীয়াতের বিধিবিধান হুকুম আহকাম শিক্ষাদানের নিমিত্তে আয়োজিত মেহফিলে নবী পাক অলায়হিস সালাম এর জীবনী বর্ণনা করা। এই প্রকার মিলাদ মেহফিল নির্ভেজাল,জায়েজ ও মুস্তাহাব ও সুন্নাত।এই ভাবেই রাসুল সল্লেল্লাহু আলাইহিস সালাম স্বীয় জীবন ও মর্যাদার আলোচনা করে গেছেন। সাহাবীদের থেকে ও এই ভাবে মিলাদ এর বর্ণনা পাওয়া যায়। মুহাদ্দিসীন কেরামগণ আজ পর্যন্ত যথারীতি চালু রেখেছেন আর  কিয়ামত পর্যন্ত এই বিশুদ্ধ নীতি চালু থাকবে। (ইচ্লাহুর রূসুম ) তৃতীয় অধ্যায় প্রথম পরিচ্ছেদ পৃষ্টা ১০১.

উপরে জনাব আশরাফ আলী থানভী তার কিতাবে লিখেছেন যে (- মিলাদ পালন করা নির্ভেজাল যায়েয মুস্তাহাব ও সুন্নাত । এমনি ভাবে মিলাদের বর্ননা ও পাওয়া যায় সাহাবাদের থেকে ও। আমি উক্ত কিতাবের মুল পাতা দিতে তৈরি থাকলাম । 

এখন কথা হল যে কাজী সাইফুজজামান বললো মিলাদ পালন করা বেদাত ও এমন বেদাতি জাহান্নামি । তো আপনার আশরাফ আলী থানভীর মতে তো তা যায়েয মুস্তাহাব ও সাহাবাদের সুন্নাত প্রমানিত হল । এখন কি উল্টা ফতোয়া প্রদানের কারনে আপনি নিজে বেদাতি ও জাহান্নামি প্রমানিত হন না ? 

আরো একটা তাদের কিতাব থেকে মিলাদের প্রমান ;- 
তাদের বিখ্যাত আলেম মাওলানা খলিল আহমেদ সাহারানপুরী এর লিখত ফতোয়া  মুলক কিতাব (আল মুফান্নাদ আলাল মুহান্নাদ ) 

আল হাবীব প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত কিতাবের ৬৪ নং পাতায় প্রশ্ন আকারে বলা হয়েছে যে ;- 

একবিংশ জিগ্গাসা ;-  রাসুলে করীম (সা) শুভ জন্ম আলোচনা বা মীলাদ শরীফ পাঠ কে আপনারা বেদাতে সাইয়্যাহ মুহাররামা (মন্দ বেদাত যা হারাম) বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন কি না ? 

উত্তর ;- রসুলে করীম (সা) এর মুবারক বেলাদাতের আলোচনা বা বা মীলাদ শরীফ পাঠ বা এমন কি তার পাদুকা সংশ্লিষ্ট ধুলি অথবা তার বাহন গাধাটীর পেস্রাব বা পায়খানা মুবারকের আলোচনা  আমরা কেন ? সাধারন কোন মুসলমান একে বেদাতে সাইয়্যাহ মুহাররামা বা হারাম বলতে পারে না । 

ঐ সব অবস্থা যা রসুলে করীম (সা) এর সাথে বিন্দু মাত্র সম্পর্ক যুক্ত আছে তার আলোচনা আমাদের কাছে উন্নতমানের মুস্তাহাব ও অধীকতর পছন্দনিয় । হোক না তার পেসাব , পায়খানা, দাড়ানো বা বৈঠক , স্বপ্ন অথবা জাগরন যা কিছুই হোক তার সব কিছুই আমাদের কাছে অত্যন্ত উন্নতমানের মুস্তাহাব কাজ বলে পরিগনিত । 
এসবের বিস্তারিত বর্ননা আমাদের রচিত (বারাহীনে কাতেয়া ) গ্রন্থে সর্বত্রেই আলোচিত হয়েছে । যেমন আমাদের পুর্বসুরী ও তাদের ফতোয়া যেমন মাওলানা সাহারানপুরী পুরী , যিনি শাহ মোহাম্ম্দ ইশহাক দেহলভীর শিষ্য  এবং হাজী মক্কি (রহ) এর শিষ্য আহমেদ আলী সাহারানপুরী পুরীর ফতোয়া আমরা অনুবাদ করে প্রকাশ করেছি ।যা আমাদের সকল লেখনীর মডেল হিসেবে মনে করি । 

মাওলানা সাহেব কে কেউ না কি জিগ্গেস করেছিল যে , মীলাদ শরিফের মেহফিল কোন রুপ রেখায় যায়েয ? তদুত্তরে তিনি লিখেন যে ;- রসুলে করিম (সা) এর মিলাদ মেহফিল যদি ফরজ ও ওয়াজীব ইবাদতের সময় ব্যাতিরেকে বিশুদ্ধ রেবায়েত সমুহের মাধ্যমে সাহাবায়ে কিরামসহ কুরুনে সালাসা বা উত্তম তিন যুগের বিপরীতমুখি বা পরিপন্থি না হয় (যে যুগ উত্তম যুগ হিসেবে অভিহিত ) 

যে যুগগুলো কুরুনে সালাসা বলে অভিহিত ও শিরকের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন ভ্রান্ত আকিদা নাই , সাহাবায় কেরামদের আদব বা শিষ্টাচারের পরিপন্থি না হয় , তবে মুস্তাহাব হওয়া বাত্যিত অন্যতা হওয়ার কোন অবকাশ নাই । কারন তরাই তো মাপকাটী বা মেছদাক ।
কেননা রসুলে করিম (সা) বলেছেন যে তাই সঠিক যার উপর আমি ও আমার সাহাবাকেরামগন রয়েছে । 

আবারো পরিষ্কার ভাষার আমরা বলব যে  , বিশুদ্ধ নিয়্যাত , আকিদা ও শরিয়াত নিষিদ্ধ কার্যাবলী ব্যাতীত যে মাহফিলে মীলাদ পাঠ সহ রসুলে কারীম (সা) এক যে কোন অবস্থ ও কার্যাবলির যে কোন আলোচনা যদি শর্ত মুক্ত সময়ে আলোচিত হয় তা হলে এমন কাজের বিরুধিতা আমরা করি না । বরং যদি শরিয়াত বিরোধি এমন কাজ কোন মেহফিলে করা হয় তা হলে আমরা শুধু শরিয়াত বিরুধি কার্যাবলিরই বিরুধিতা করে থাকি ।যেমন আমরা দেখেছি হিন্দুস্থানের মীলাদ মাহফিল সমুহে উদ্ভট ও মওজু বর্ননা করা হয় । নারী পুরুষের সমবিহার থাকে । আলোকসজ্জা করা হয় ও ওনেক অপচয় ও করা হয় । এমন মাহফিল ওয়াজীব মনে করা হয় ।তারই সাথে এমন মাহফিলে যারা উপস্তিত হয় না তাদের কে গালাগালি ও কাফের আখ্যা  দেয়া  হয় । এ ছারা আরো ওনেক উদ্ভট বিষয়বস্তুর অবতারনা করা হয় ।

মীলাদ শরিফে যদি এমন এমন কার্য়াবলি ছারা পালিত হয় তা হলে কেন আমরা না যায়েজ বলব ? এমন মন্দ কথা তো কোন মুসলমানের পক্ষে বলা সম্ভব নয় । এটা আমাদের প্রতি বিদ্বেষিদের মিথ্যা অপবাদ । আল্লাহ তাদেরকে জ্বলে স্থলে বরবাদ করুন ( আমিন ) 
সুত্র (দেওবন্দি আহলে সুন্নাতের আকিদা ) ৬৪-৬৫-৬৬ নং পাতা । 
উপরে মাওলানা সাহারানপুরীর লিখিত কিতাবের পাতা যার দরকার বলবেন আমি কিতাবের পেঁচা পেশ করতে বাধ্য রইলাম । 

তিনি শেষের দিকে লিখেছেন যে ;-মীলাদ শরিফে যদি এমন এমন কার্য়াবলি ছারা পালিত হয় তা হলে কেন আমরা না যায়েজ বলব ? এমন মন্দ কথা তো কোন মুসলমানের পক্ষে বলা সম্ভব নয় ।

আমি কাজী সাইফুজ্জান কে জিগ্গেস করতে চাইতেছি যে ;- এমন কথা বলা তো কোন মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয় যে মিলাদ মাহফিল কে হারাম বেদাত বলতে পারে , তা আমি নই বরং আপনাদের আলেম বলেছেন । 

অবশ্যই আপনি মুসলিম কবে ছিলেন ? আপনি তো জন্মগতভাবেই ক্বাদিয়ানি । 

আমি মিলাদ নিয়ে ৪ দিন পোষ্ট করলে দলিল শেষ হবে না । মিলাদ  মাহফিল যে বেদাত নয় বরং একটা যায়েয মুস্তাহাব ও সুন্নাত কাজ তাই সঠিক। বরং আমি তো বলব আশরাফ আলী থানভীর যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তাই সঠিক। কিন্তু আবসোস যে তারা আজ আসরাফ আলী থানভী সাহেব কে ত্যাগ করতেছে। আজ ওনাকে মান্য করতে কষ্ট হচ্ছে তাদের ।


এবার বিষয় বিদাত লিদ্বীন ;- বা দ্বীন কে পালন করার জন্য কোন মাধ্যম গ্রহন করা ) 

আমাদের দ্বীন পুর্নাংগ , অপুর্নাংগ নয় যে , দ্বীন পালন করতে অন্য কোন মাধ্যম গ্রহন করব । 

সে লিখেছে যে ;- মিলাদ দ্বীনের অংশ বা সওয়াবের আশা করে করা হারাম বা বেদাতে সাইয়াহ মোহার্রামা । 


অথচ দ্বীন কে পালন করার জন্য যা কিছু যেমন মাদ্রাসা বা মসজীদ বা তাদের কথিক তাবলীগ এগুলো তার মতে দ্বীনের মধ্য নয় বরং দ্বীন পালনের জন্য তৈরি নতুন বেদাত ।

এটা কি একটা হাস্যকর বিষয় নয় ? 

মাদ্রাসা কি আমাদের দ্বীনের মধ্য নয় ? 
মসজীদ কি আমাদের দ্বীনের মধ্য নয় ?

তাবলীগ বা ধর্ম প্রচার কি আমাদের দ্বীনের মধ্য নয় ? 

আসলে আল্লাহ যাদের দিলে মোহর লাগিয়ে দেন তারা আসলে দেখে ও দেখে না । 

যদি এই  গুলি দ্বীনের মধ্য না হয়ে থাকে তবে এগুলো ছুরে ফেলে দেওয়াই উত্তম ।  

আসলে সে বিদাত কি জানে না । এবার বেদাতে একটা বিস্তারিত তুলে ধরতাছি - 
১) বিদাতে হাসানা( উত্তম
বা সুন্দর
বিদাত)
২) বিদাতে সাইয়্যাহ ( মন্দ বিদাত)
# বিদাতে হাসানা: আশইয়াতিল
উলুমাত ১ম
খন্ডে ইতিছাম অধ্যায়ে উল্লেখ
আছে "
যে বিদাত উসুল, কানুন ওসুন্নতের
সমার্থিত
এবং সুন্নত থেকে কিয়াসের
( গবেষণা)
মাধ্যমে করা হয়েছে তা বিদাতে হাসানা।
আর
যা নতুন কিন্তু সুন্নতের
পরিপন্থী ও
বিপরীত
তা হল বিদাতে সাইয়্যাহ।

বিদাতে হাসানা ৩ প্রকার।
১) বিদাতে ওয়াজেবা: এমন বিদাত
যা শরিয়তে নিষিদ্ধ
তো নয়ই
বরং এটা ছেড়ে দিলে ধর্মীয়ভাবে বিরাট
অসুবিধার সুচনা হয়। যেমন
কোরানে পাকে আয়াত
সমুহে যবর, যের, পেশ
ইত্যাদি দেওয়া।
তফছির
এর সুবিধার জন্য ইলমে ছরফ,নাহু,
উসুলে তফসির,
উসুলে হাদিস বিষয়গুলোর
প্রচলন।
মাসালা-মাসায়েল
জানার জন্য ইলমে ফিকাহর
প্রচলন।
২) বিদাতে মুস্তাহাব্বাহ: এমন
কিছু কাজ
বা বিষয়
যা নতুন কিন্ত শরিয়তে নিষেধ নয়
তবে ওয়াজিবও
নয়। মুসলমানরা ভাল কাজ
মনে করে সাওয়াবের
উদ্দেশ্যে আদায় করে থাকে।
যেমন মিলাদ
শরিফ পড়া,
মাযারে গিয়ে আল্লাহতালার
দরবারে দোয়া করা, মরহুম
আত্বীয়দের জন্য
দোয়া
ও মেজবানের আয়োজন করা,
আউলিয়া কেরামের
ইসালে সওয়াবের জন্য জিকির-
আযকার,
ওয়াজ নসিহত
ও তাবাররুক বিতরনের
মাধ্যমে উরশ শরিফ
পালন
করা।
৩) বিদাতে মুবাহ : এমন কাজ
যা শরিয়ত
বিরোধী নয়। যেমন মসজিদ দুই
তলা তিন
তলা করা,
ফজর ও আসর নামাজের পর
মুসল্লিরা মুসাফা করা।

# বিদাতে সাইয়্যাহ :
বিদাতে সাইয়্যাহ
দুই প্রকার।
১)বিদাতে হারাম : এমন সব নতুন
উদ্ভাবিত
ভ্রান্ত
আকিদাহ, ধ্যান ধারনা ও কর্ম
কান্ড
যা দেখতে সুন্দর কিন্তু ধর্মের
মুল
বিষয়গুলোর
বিরোধী তা বিদাতে হারাম।
যেমন-
* নতুন নতুন মতবাদের জন্ম
যা নবীজির
সময়ে ছিল না।যথা- ওহাবী,
রাফেজী,
মুতাজিলা,
আহলে হাদিসের মত নতুন ভ্রান্ত
দলগুলো,
যারা নবিজি (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ),
সাহাবী দের সময়
থেকে কয়েক শত বছর পর
উদ্ভাবিত হয়েছে।
* তাবলীগ এর
নামে মসজিদে নিয়মিত
রাত্রি যাপন
এবং এটাকে নিয়মে পরিনত করা।
* ইসলামিক চ্যানেল খুলে আবার
ইনকামের
জন্য
অশ্লীল, বেহায়াপনা যুক্ত
বিজ্ঞাপন
প্রচার করা,
* জিহাদের নামে জংগীবাদের
উত্থান
ঘটানো।
* নতুন নতুন দল গঠন করে ধর্মের
প্রচলিত
পদ্ধতি গুলোর বিরুদ্ধাচরণ
করা এবং মানুষকে ধর্ম
বিমুখ করা।
* এই সব ভ্রান্ত আকিদাহ প্রচার
করার
জন্য মাদ্রাসা,
মক্তব, ইস্কুল প্রতিষ্ঠা করা।
এই সব কিছু ই বিদাতে হারাম।
# বিদাতে মাকরুহ : এমন নব
প্রচলনকরা পদ্ধতি যার
কারনে কোন সুন্নতের অবসান
হয়। যেমন-
* এক শ্রেণীর ইসলামী ব্যক্তিত্ব
কোট,প্যান্ট, টাই,শার্ট
ইত্যাদি পরা কে জায়েজ
বলে সুন্নতি পাঞ্জাবি, পায়জামা,
লুংগি,পাগড়ির মত
সহি সুন্নতের প্রচলন
কে উঠিয়ে দিচ্ছে,যা বিদাতে মাকরুহ।
* জুমাহ ও দুই ইদের খুতবাহ
আরবিতে না দিয়ে অন্য ভাষায়
প্রদান
করা যা বিদাতে মাকরুহ।
সুতরাং আমাদের উচিত, হঠাৎ 
করে কারো কথায়
মজে না গিয়ে বিদাতে হাসানাহ
কে ছেড়ে না দিয়ে বরং তা পালনের
মাধ্যমে অশেষ সওয়াব ও
নেকি হাসিল করা । 


সে লিখেছে যে ফেসবুকে লেখালেখি করা ;- 
আমি বলে রাখি যে ফেসবুক এ লেখালেখি করা ৩ টা শরিয়তি আইনের উপরে নির্ভর । 

ফেসবুক ই লেখালেখি ইসলাম নিয়ে এটা স্পষ্ট বেদাত । 

(১) যদি আপন্ ইসলামিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন আর তা কোরান ও সহীহ হাদিস সুন্নাহ হয়ে থাকে তা হলে এটা হবে বেদাতে হাসানা বা উত্তম বেদাত । যার জন্য আপনি সওয়াব পাবেন 

(২) যদি আপনি ভাল কিছু লেখালেখি করেন ফেসবুকে( সমাজ রাষ্ট ব্যাবস্থা ও সচেতনতা মুলক )  তা হলে এটা হবে বেদাতে মুবাহা , বা শরিয়তের চোখে যা যায়েয , হতে পারে আপনি সওয়ার ও পেতে পারেন নাও পেতে পারেন ।

(৩) যদি আপনি ফেসবুকে বসে অশ্লিল ও বাজে কিছু লেখালেখি করেন তা হলে এটা হবে বেদাতে সাইয়াহ । যাকে জন্য আপনারে গোনাহগার হতে হবে । 

এর পরে সে সুন্দর করে তাদের কথিত তাবলীগ জামাত কে বেদাত লিদ্দিন বলে এটা কে যায়েয বলে দিয়েছে । 


অথচ সে লিখেছে এটা দ্বীন পালনের জন্য , এটা দ্বীনের অংশ নয় । 
অথচ তারা যে কাজ করে ও তাদের যা দাবি , তারা সেই দল যারা কোরানের এই আয়াত দিয়ে থাকে ;-  (আল্লাহ তাআ’লা ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি; মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের নির্বাচন করা হয়েছে , তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে, আর তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১০)

তারা কোরানের এই আয়াত কে দলিল পেশ করে থাকে যে আমরা সেই দল ,  কোরানে এই আয়াতে যে দলের কথা বলেছে । 


এখন আমি বলতে চাই যে , আল্লাহ যে দলের কথা কোরানে বলেছেন সেই দল কি করে বেদাত হতে পারে ? তা হোক না কেন তার মতে বেদাত ফিদ্বীন  ও বেদাত লিদ্দিন । 

আল্লাহ তাদের কে ধংস করুন যারা এমন কথা বলে । 

আল্লাহ তায়ালা কোরানে আরো বলেছেন যে ;- 
‘আমি চাই তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক হোক যারা মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করবে, ভালো কাজের আহ্বান করবে, আর মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। ওই দলটাই হলো সাফল্য লাভকারী।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৪)

এই তাবলিগি রা এই আয়াত কে ও দলিল দিয়ে থাকে । এখন কেউ কি বলবেন কোরানে আয়াত দলিল দেয়ার পরে ও কি করে এমন একটা দল বেদাত লিদ্দিন হতে পারে ? 

এমন কি (মাওলানা ইলিয়াছ ও দ্বীনি দাওয়াত ) কিতাবের ৫০ নং মালফুজাত এ ৩৩ নং পৃষ্টায় লিখেছেন যে (- এই তাবলীগের তরিকা উদঘাটন স্বপ্নে আমার কাশফ হয়েছিল 
‘হে মুমিনগণ, তোমাদিগকে কি এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দান করব যা তোমাদেরকে কঠোর আজাব থেকে রক্ষা করবে? তা হলো- তোমরা আল্লাহর ওপর ও আল্লাহর রাসূলের ওপর ঈমান আনবে, মেহনত করবে আল্লাহর রাস্তায় মাল ও জান দিয়ে।’ (সূরা আস-সাফ, আয়াত-১০)।

 এই আয়াতের  তাফসীর ও খাবে এই রুপ এল্ক হইয়াছিল যে ;- তোমরা নবীদের মত মানুষের উপকারের জন্য প্রেরিত হইয়াছ ) মালফুজাত ক্ষম ৫০ পৃষ্টা নং ৩৩ ( মাওলানা ইলিয়াছ ও দ্বীনি দাওয়াত ) 
তাদের নবী আবার তাদের বড় ভাইয়ের মত , তাই মাওলানা ইলিয়াচ তাবলিগিদের কে নবীদের মতই বলেছেন । 

যাক , এখন কথা হল যে এমন একটা কাজ যারা কোরানের আয়াত কে দলিল দিয়ে সেই দল দাবি করে যে দলের কথা কোরানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন , সেই দল কি করে বেদাত হতে পারে ? 

বরং এটা একটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত কথা । আবসোস যে তারা নিজেরাই কোরান কে দলিল দেয় আবার তাদেরই একজন বলে এটা বেদাত । দ্বীনের জন্য বেদাত । 
আল্লাহ আমাদের কে ক্ষমা করুন এমন দল কে বেদাত বলা  থেকে যার 

কোরানে যে এই দুই আয়াত বলা হয়েছে , তা কোল তাবলীগ জামাত নয় , বরং এটা হল , আলেম ওলামা  পীর ফকির দরবেশ দের দল । যারা ১৪০০ বছর থেকে কাফেরদের মধ্য গিয়ে দ্বীন এ ইসলামের প্রচার  ও প্রসার করেছেন । এবং এই দল কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে । এটা কোন নির্দিষ্ট দলের নাম নয় বরং হক আলেম সমাজের কথা বলা হয়েছে । 
তাবলিগ জামাত কে নিয়ে কিছু আপত্তির জবাব আমি আজ ও পাই না। নিচে লিংক গুলো দিলাম।  পারলে আমাকে লিংক গুলোর লিখিত জবাব দিও 


(১)http://sohelrana1234.blogspot.com/2015/01/blog-post_19.html

(২)http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/blog-post_94.html

(৩)http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/iliyach-er-family-detail.html

(৪)http://sohelrana1234.blogspot.com/2014/08/tabligis-profet-is-not-muhammad-sa.html

(৫)http://sohelrana1234.blogspot.com/2015/01/blog-post.html

(৬)https://m.facebook.com/photo.php?fbid=419462881535683&id=100004159237389&set=a.104096569738984.9011.100004159237389&source=43

(৭)https://m.facebook.com/photo.php?fbid=418503821631589&id=100004159237389&set=a.104096569738984.9011.100004159237389&source=43


লিখিত ও  লিংক সহ পোষ্ট হল ৮ টা । আট দিন সময় থাকল পোষ্চশগুলোর জবাব দেয়ার জন্য । আর আমি বাধ্য থাকলাম তোমার পোষ্টের লিখিত পাল্টা জবাব দেয়ার জন্য । এটা আমার ওয়াদা 


তোমাদের মুখে কালি মাখিয়ে দিন আল্লাহ যারা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিলিয়ে দেয় ও কথার বদল করে । নিজে বাঁচতে কত মিথ্যাচার করবে আরো ? 
বরং তোমাদের এই তাবলিগ না শরিয়াত সমর্থন করে , না ইজমা না কিয়াস । বরং গায়ের জোরেই চালানো হচ্ছে এঅ প্রথা । মুর্খ লোকজন করতে তাবলিগের কাজ । যেমন কানার হাতে লাঠি , কোথায় পড়ে কারে মারে তোর কোন ঠিক নাই । এমন কি তোমরা মাওলানা ইলিয়াছের তৈরি তাবলিগের যে মুল নীতি ছিল তার মধ্য ও নাই । 

বরং সম্পুর্ন এক আলাদা বেদাত । 
এমন বেদাত থেকে আল্লাহ আমাদের কে রক্ষা করুন।  আমীন ।